ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:১৬

প্রিন্ট

করোনাভাইরাস: সুরক্ষিত থাকতে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ

করোনাভাইরাস: সুরক্ষিত থাকতে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ
ফাইল ছবি
জার্নাল ডেস্ক

আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৭০ জন নিহত হলেও কয়েক হাজার গুরুতর অসুস্থ। বিশ্বের দেশে দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। এরইমধ্যে অন্তত ১৭টি দেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

চীনের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারতেও আজ এ রোগ শনাক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কোনো রোগী এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে বিদেশফেরত এক যাত্রীকে বৃহস্পতিবার করোনা সন্দেহে বিমানবন্দর থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজারে। বুধবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এমতাবস্থায় সঙ্কটের এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে ও আশেপাশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুতে বলা হয়েছে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনায়। এছাড়া মাংস ও ডিম অবশ্যই যথাযথ তাপে ও ভালোমত রান্না করে খেতে বলা হয়েছে।

হাঁচি ও কাশির সময় অবশ্যই হাত বা টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। এরপর টিস্যু ফেলে দিতে হবে এবং অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে। যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার পর হাত ধুতে হবে। কোনো প্রাণির যত্ন নিলে বা স্পর্শ করলে ও প্রাণিবর্জ্য ধরার পরও হাতে ধুতে হবে।

শরীরে যে কোনো সংক্রমণ এড়াতে রান্না ও খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

নিজের পাশাপাশি অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে করণীয় সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। ব্যবহার করা টিস্যু খোলা ঝুড়ি বা ডাস্টবিনে না ফেলে ঢাকনা রয়েছে এমন ঝুড়িতে ফেলতে হবে।

হাতে গ্লাভস না পরে বা নিজে সুরক্ষিত না থেকে কোনো অসুস্থ ব্যক্তির মুখ ও দেহ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে গবাদিপশু ও বন্যপশুকে ধরার আগেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

রান্নাঘরের কাজেও বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলছে ডব্লিউএইচও। কাঁচা মাংস, সবজি, রান্না করা খাবার কাটার জন্য ভিন্ন চপিং বোর্ড ও ছুরি ব্যবহার করতে হবে।

কাঁচা মাংস, সবজি ও রান্না করা খাবার হাতে ধরার আগে অবশ্যই প্রত্যেকবার হাত ধুয়ে নিতে হবে। রোগে ভুগে মারা যাওয়া বা অসুস্থ প্রাণীর মাংস একেবারেই খাওয়া চলবে না।

তবে রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকাতেও উপযুক্ত তাপে ও ভালোভাবে সিদ্ধ করা মাংস খেলে ঝুঁকি নেই।

কাঁচা বাজারে গিয়ে কোনো প্রাণী ও প্রাণীর মাংস হাতে ধরলে দ্রুত হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। কাঁচা বাজারে অবস্থানের সময় অযথা মুখে-চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কাজের জায়গাটি দিনে অন্তত একবার হলেও পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিধেয়টি অবশ্যই প্রতিদিন বদল করতে হবে এবং ধুতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে হাতে গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কের মধ্যে ভ্রমণ বিষয়েও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। যদি জ্বর-সর্দি অনুভূত হয়, তাহলে যে কোনো ভ্রমণ বাতিল করাই ভালো। পাশাপাশি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও ওষুধ খেতে হবে।

জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কারো সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

যদি মাস্ক ব্যবহার করা হয়, তবে নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে। একবার মাস্ক পরলে তা বার বার স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একবার মাস্ক ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হবে। মাস্ক ধরার পর হাতে ধুয়ে নিতে হবে।

যদি ভ্রমণের সময় অসুস্থ বোধ হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এর আগে রোগের ইতিহাস থাকলে সেটাও চিকিৎসককে জানাতে হবে।

যেখানে সেখানে বা জনসমাগমের স্থানে থুথু ফেলা যাবে না। অসুস্থ প্রাণী ধরা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। গত বছরের শেষে এসে চীনের উহানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা নিয়ে সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর এক সপ্তাহ পর নতুন ওই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

সার্স ও মার্স ভাইরাস পরিবারের এই করোনাভাইরাসের নাম দেয়া হয়েছে ২০১৯-এনসিওভি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন ও বিশ্বের অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে ডব্লিউএইচও।

সমীক্ষা অনুসারে, চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম উইচ্যাটে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারির মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উল্লেখ ছিল। ওই সময়টায় উহান পৌর স্বাস্থ্য কমিশন প্রথমবারের মতো এই প্রাদুর্ভাবকে স্বীকার করে নিয়েছিল। তবে পরে তারা এ নিয়ে আস্তে আস্তে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

১১ জানুয়ারি প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে আলোচনা সামান্য বাড়ে। তবে আবার তা দ্রুত আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত