ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২০

প্রিন্ট

৭০ বছর বয়েসে বাসন্তীর হাতেখড়ি

৭০ বছর বয়েসে বাসন্তীর হাতেখড়ি
কলকাতা প্রতিনিধি

সত্তর বছর বয়েসে এসে সরস্বতী পুজোর দিনে হাতেখড়ি নিলেন বাসন্তী মণ্ডল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা অঞ্চলের ঝরণাডাঙ্গা গ্রামের বাসিদা তিনি। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে দিন গুজরান করে। ঘরে অভাবের কারনে ছোটবেলায় অক্ষরজ্ঞান্ হয়নি বাসন্তী মণ্ডলেন।

বৃহস্পতিবার সরস্বতী পুজোর দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি সংস্থার উদ্যোগে হাতেখড়ি হয় তার। মিডনাপুর ডট কম নামে ওই সংস্থার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিধাননগর সরস্বতী পুজোর মণ্ডপে হাতেখড়ি হয় বাসন্তী মণ্ডলের।

ক্রিম রঙের লালপাড়া শাড়ি পরে শ্লেট পেনসিল হাতে নিয়ে দেবী সরস্বতীর মূর্তি এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবির সামনে বসে হাতেখড়ি দিলেন তিনি। এই বয়সে এসে লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সত্তর বছর বয়েসী বাসন্তী মণ্ডলের হাতেখড়ি দেওয়ার দৃশ্য দেখতে মানুষের ভিড় জমে যায়।

যে সংস্থার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বাসন্তী মণ্ডলের হাতেখড়ি হলো সেই সংস্থার তরফে অরিন্দম ভৌমিক বলেন, এই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অথচ তার জন্মের দু’শ বছর পরেও এই জেলার অনেকেরই এখনও অক্ষরজ্ঞান নেই। যা আমাদের সকলের লজ্জার কারণ। তাই আমরা এই জেলার ঝরণাডাঙ্গা এলাকা দিয়ে মানুষকে নূন্যতম লেখাপড়া শেখানোর কাজ শুরু করলাম।

জানা গিয়েছে, সত্তর বছর বয়েসী বাসন্তী মণ্ডল পাঁচ বোন ও এক ভাই। ছোট থেকেই বাসন্তী মণ্ডল কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর সহ বিভিন্ন জায়গায় লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার জন্য ছোট বেলায় পড়াশুনা করতে পারেননি। বর্তমানে মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন তিনি। কাজ করেন অরিন্দম ভৌমিকের বাড়িতেও। সেই সুবাদে অরিন্দম ভৌমিক জানতে পারেন বাসন্তীর কোনও রকম অক্ষরজ্ঞান নেই।

বাসন্তী মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেও সেই টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে টিপ সই সম্বল বাসন্তীর। তারপরেই বাসন্তীকে হাতেখড়ি দেওয়ার ব্যাবস্থা করেন অরিন্দম ভৌমিক। এদিন সরস্বতী ঠাকুরের সামনে বসে এই বয়েসে হাতে খড়ি হওয়ায় বেজায় খুশী বাসন্তী।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এতোদিন টিপ ছাপ দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলেছি। এখন আমি লেখাপড়া শিখে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলবো। কাজের ফাঁকে যখনই সময় পাবো তখনই লিখবো, পড়বো, শিখবো।’

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত