ঢাকা, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে English
ব্রেকিং নিউজ
  •   রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২০, ১২:৪০

প্রিন্ট

করোনাভাইরাস: কোয়ারেন্টাইন উপভোগ করবেন যেভাবে

করোনাভাইরাস: কোয়ারেন্টাইন উপভোগ করবেন যেভাবে
প্রতীকী

Evaly

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অনেককেই কোয়ারেন্টাইন বা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। অনেক এ পরিস্থিতিতে একা একা অনুভব করেন। কেউ কেউ আবার পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। কিন্তু আপনি কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা সময়গুলো উপভোগ করতে পারেন।

চলুন একনজরে দেখে নেই কিছু পদ্ধতি-

বই পড়া

চরম ব্যস্ত এ পৃথিবীতে সারাবিশ্বেই বই পড়ুয়াদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনের সময়ে বই হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রিয় সঙ্গী। এত দিন ‘পড়ব, পড়ব’ করেও সময়ের কারণে যে বইগুলো পড়ে উঠতে পারছিলেন না, সেগুলো নিয়ে বসে যেতে পারেন।

আরো পড়ুন: হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের ফল পাঠানো হচ্ছে

আরো পড়ুন: লকডাউন না মানলে কড়া ব্যবস্থা

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: বিভ্রান্তিকর তথ্য যেভাবে ছড়ায়

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: মহাসংকটে পোশাক খাত

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে কোন দেশ কী করছে

নতুন নতুন রান্না

কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আপনি নতুন নতুন রেসিপিতে রান্নার চেষ্টা করতে পারেন। এমন সব খাবার রান্না করতে পারেন যা খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।

শরীরচর্চা

দৈনন্দিন কাজের চাপে অনেকেই শরীরচর্চার সময় পান না। কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আপনি অনায়াসেই শরীরচর্চা করতে পারেন। তবে বাইরের কোনো জিমে যেতে পারবেন না। ঘরে ব্যায়ামের যন্ত্র না থাকলেও চিন্তা নেই। করতে পারেন ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা যোগব্যায়াম। এটা একইসঙ্গে আপনার শরীরকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সক্ষম করে তুলবে।

ঘরদোর পরিষ্কার করা

কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আপনি বাড়িঘর ঝকঝকে তকতকে করে মনের মতো সাজিয়ে নিতে পারেন।

অনলাইনে ‘লাইভ’ অনুষ্ঠানের দর্শক

করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই মেলা, কনসার্ট, সম্মেলনসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে। খেলা হচ্ছে দর্শকহীন মাঠে। এ নিয়ে মন খারাপ না করে আপনি সহজেই অনলাইনে নানা সরাসরি অনুষ্ঠানের দর্শক হতে পারেন।

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস ঠেকাতে লকডাউনই যথেষ্ট নয়: ডব্লিউএইচও

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: ফোন নিরাপদ করার উপায়

আরো পড়ুন: নিউমার্কেটসহ ডিএসসিসির সব মার্কেট বন্ধ

টেলিভিশন

এখন কত নাটক, সিনেমা, টিভি সিরিজ বা ওয়েব সিরিজ হচ্ছে। টেলিভিশনে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

বোর্ড গেম

১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকলে আপনার হাতে তখন অফুরন্ত সময়। এই সময়ে নানা ধরনের বোর্ড গেম খেলে মস্তিষ্ক ঝালিয়ে নিতে পারেন।

আয়করের হিসাব-নিকাশ

হাস্যকর শোনালেও এই সময়ে ঠান্ডা মাথায় বসে আপনি নিজের আয়করের হিসাব-নিকাশ করে ফেলতে পারেন। তবে খুব বেশি চাপের হয়ে গেলে হাল ছেড়ে দেয়াই ভালো।

দক্ষতা বাড়াতে নতুন কিছু শেখা

কোয়ারেন্টাইনে থাকার দিনগুলোতে অনলাইন থেকে আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। শিখতে পারেন নতুন কোনো ভাষা। অনলাইনে সহজেই এটা করা যায়, কোথাও কোথাও বিনামূল্যেই পাবেন। তাই কোয়ারেন্টাইনে সময় কিভাবে কাটাবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: কেন দু’মিটার দূরে থাকতে হবে

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: ইতালির পাশে রাশিয়া

আরো পড়ুন: করোনায় গৃহবন্দি ৮ কোটি মানুষ ৬ মাস ফ্রি চাল পাবেন​

আরো পড়ুন: হংকংয়ে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

স্মৃতি রোমন্থন

কোথাও বেড়াতে গিয়েছিলেন, দারুণ সময় কাটিয়েছেন। তুলেছেন অসংখ্য ছবি। কোয়ারেন্টাইনের সময় খুলে বসতে পারেন সেসব ছবির অ্যালবাম। মনে মনে চলে যেতে পারেন সেই সময়ে। কিংবা বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দের স্মৃতি রোমন্থন করেও কাটিয়ে দিতে পারেন বন্দি থাকার সময়টা।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পরই তার উপসর্গ দেখা দেয় না। অন্তত সপ্তাহখানেক সেটি ঘাপটি মেরে বসে থাকে। তাই কোনও ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে কোভিড-১৯। তিনি আক্রান্ত কিনা এটা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় রোগীকে।

অন্য রোগীদের কথা ভেবেই কোয়ারেন্টাইন কখনও হাসপাতালে আয়োজন করা হয় না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন ব্যক্তিকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টে রাখা হয়।

কমপক্ষে ১৪ দিনের সময়সীমা এখানেও। এই সময় রোগের আশঙ্কা থাকে শুধু, তাই কোনও রকম ওষুধপত্র দেওয়া হয় না। শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়। বাইরে বেরনো বন্ধ করতে পরামর্শ দেয়া হয়। যেহেতু রোগের জীবাণু ভিতরে থাকতেও পারে, তাই মাস্ক ব্যবহার করতেও বলা হয়। বাড়ির লোকেদেরও এই সময় রোগীর সঙ্গে কম যোগাযোগ রাখতে বলা হয়।

আরো পড়ুন: করোনাভাইরাস: নিজ সিদ্ধান্তে ওষুধ খেয়ে মৃত্যু

আরো পড়ুন: আইসোলেশন কোয়ারেন্টাইন কী, কখন দরকার?

আরো পড়ুন: সংক্রামক রোগের তালিকায় কোভিড ১৯

আরো পড়ুন: হাতে ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ সিল দেখলেই গ্রেপ্তার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে রেখে আইসোলেশন সম্ভব নয়। বরং একে হোম কোয়ারেন্টাইন বলাটা অনেক যুক্তিযুক্ত। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের সঙ্গে ওঠা-বসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন বলে। সাধারণত, সম্প্রতি আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে না এলে রোগীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

এক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১৪ দিন ধরে আলাদা থাকার কথা। কোনও ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে, বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে কোভিড-১৯। বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না বা সে আক্রান্ত কিনা এটা বুঝে নিতেই এই ব্যবস্থা নিতে হয়।

এক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধির বাইরে কোনও আলাদা ওষুধ দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বেশি করে পানি, ভাল করে খাওয়া-দাওয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর নানা পথ্য— এসব দিয়েই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত