ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২০, ০৯:৫২

প্রিন্ট

খারাপ সময় মোকাবিলা করুন

খারাপ সময় মোকাবিলা করুন
খারাপ সময় মোকাবিলা করুন। প্রতীকী ছবি
হৃদয় আলম

পৃথিবীতে এখন প্রায় সবাই ঘরবন্দি। যারা বের হচ্ছেন তারাও চিন্তিত থাকেন। একটা খারাপ সময় যেন সর্বদা আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

শুধু এখনই না। অনেকভাবে আমাদের সাথে খারাপ অনেক কিছু ঘটতে পারে। যেমন ধরুন আপনার লাইভ প্রোগ্রাম রয়েছে। আর সকালে পাঁচটা থেকে আপনি চর্চা শুরু করে দিয়েছেন ঠিক কি বলতে হবে। এরপর আপনি যখন নয়টায় আপনার প্রোগ্রাম শুরু করলেন তখন ‘শুভ সকাল’ বলার পরেই আপনি আর কিছু খুঁজে পেলেন না। আপনি সব ভুলে গিয়েছেন। তাহলে?

এমন পরিস্থিতিতে আপনার কাছে হয়তো সব দুঃস্বপ্নের মতো মনে হবে। মনে হবে, সময় যেন কিছুতেই যাচ্ছে না। সময় ধীরে ধীরে অতিবাহিত হচ্ছে।

এখানে লক্ষ্যনীয় সময় কিন্তু ধীর হচ্ছে না। আমরা ভাবছি সময় যাচ্ছে না। এটা আপনার মস্তিস্ক আপনাকে বলছে যে সময় অতিবাহিত হচ্ছে না বা ধীরগতিতে যাচ্ছে। বিপদের বিষয়টি বোঝার পর আপনার মস্তিস্ক এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

করোনার কালে ঘরে থেকেও আমরা ‘বোরিং’ হচ্ছি। অনেক সময়ে মনে হয় সময় যেন ধীরে ধীরে যাচ্ছে। সাধারণ সময় এমনটা মনে হয় না আমাদের। এ ছাড়া আরো অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন আমরা হতে পারি যখন আমাদের নিজেদের অসহায় মনে হতে পারে বা আমরা সময়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠতে পারি।

চলুন জেনে নেই এমন পরিস্থিতিগুলোতে আমরা যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি।

ব্যাকআপ প্লান রাখুন

ধরুণ আপনি লাইভ অনুষ্ঠানে এসে সব ভুলে গেলেন। আপনার মস্তিস্ক আর কাজ করছে না। তাহলে আপনি কী করবেন? আপনি হয়তো আতঙ্কিত হতে পারেন বা কী করা উচিত তা ভেবে নাও পেতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে এড়াতে আপনি ব্যাকআপ বা ভিন্ন পদ্ধতি হিসেবে আপনার সাথে থাকা স্কিপ্ট বা নোটের সহায়তা নিতে পারেন। যেখানে আপনার বক্তব্যগুলো ছোট ছোট নোট আকারে লিখে নিতে পারেন। যা দেখলেই আপনার মনে পড়ে যাবে আপনার কী বলা উচিত ছিলো বা আপনি কী বলতে চাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক, অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস একজন দক্ষ উপস্থাপক ছিলেন। তার অন্যতম একটি সেরা উপস্থাপনার সময় তিনিও সমস্যায় পড়েছিলেন। তিনি এবং তার দল দীর্ঘ ছয় মাস ধরে দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ২০১০ সালে ওই অনুষ্ঠানে তিনি যখন মঞ্চে উঠেন তখন, ওয়াইফাই সমস্যা করতে শুরু করে এবং তার স্কীনে তথ্য পৌঁছাতে সময় নিতে থাকে। তখন মাত্র দুই মিনিট হয়েছে জবস স্টেজে। এরপর তিনি তার উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে কিছুক্ষণ নিজের জীবনী তুলে ধরেন। এরপর তিনি পরবর্তী ধাপে সব স্বাভাবিকভাবে করতে সক্ষম হন।

এখানে লক্ষণীয়, স্টিভ যদি ঘাবড়ে যেতেন বা স্টেজ ত্যাগ করতেন তাহলে কী হতো ভাবুন তো! যাই হতো, অবশ্যই ফল ভালো হতো না। তাই পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো, আপনি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। এবং অবশ্যই ব্যাকআপ রাখতে হবে যাতে কোনো ভুলে তাৎক্ষণাত ব্যকআপ প্লানে যাওয়া যায়।

আপনি যা করতে পারবেন তাতেই মনযোগী হন

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার আবেগ, অনুভূতি বা কাজ আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে এও মনে রাখতে হবে, মানুষ আপনাকে কীভাবে বিবেচনা করবে বা তারা আপনার সাথে কী ব্যবহার করবে তা চাইলেই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

বেশিরভাগ সময় তখন খারাপ কিছু হয় যখন আমরা লোকেদের কথায় খারাপ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাই। একজন আপনার ব্যবসা কেন্দ্রীয় প্রস্তাব দিতে পারে যা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। আপনার ক্রেতা আপনাকে এমন কিছু বলতে পারে যা আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে কিন্তু আপনি তাই বলে তাদের ওপর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবেন না। তাহলে আপনার ওপর তারা ক্ষিপ্ত হতে পারে এবং আপনার সাথে আর ব্যবসা পরিচালনা নাও করতে পারে বা আপনার ক্রেতা আপনার থেকে আর পণ্য ক্রয় নাও করতে পারে।

কোন কারণে যদি খারাপ পরিস্থিতি আসে তাহলে আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে আপনি কী এই পরিস্থিতি চাইলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বা পারতেন? উত্তর যদি ‘না’ হয় তাহলে তাৎক্ষণাত আপনার চিন্তা বদলে ফেলুন। কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শুধু বলুন- ‘পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণে না’।

আপনাকে ভাবতে হবে, আপনার অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ার ফলে আপনি একজন ক্রেতা হারাতে পারেন। বা ব্যবসায়ে একজন বন্ধু হারাতে পারেন। তাই খারাপ কোনো পরিস্থিতি চলে আসলে যতোটা সম্ভব সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন এবং আপনি যা করতে পারবেন তাতেই মনযোগ দেন।

পরিস্থিতি যাই হোক দায়ভার নেন

আপনি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য নিজে দায়ভার নিতে শিখুন। হয়তো আপনি ভাবতে পারেন, কোনো ভাইরাস বা মহামারিতে আমি কেনো দায়ভার নিবো। তাহলে আপনাকে এও মেনে নিতে হবে, আপনি যদি যথাযথ নিয়মাবলি মেনে চলতেন তাহলে আজ এ পরিস্থিতির সম্মুখীন আপনাকে হতে হতো না। চলমান লকডাউনে আপনি শরীরচর্চা করবেন নাকি শুধু ঘুমিয়ে সময় কাটাবেন তা একদমই আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আপনি যদি ভালো কিছু করেন তাহলে ভালো ফল পাবেন। আর খারাপ কিছু হলেও তার দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে।

সরকার যখন আপনাকে বলছে ঘরে থাকুন তখন বের হলে তার দায়ভার আপনার ওপরই পরে।

ঠিক তেমনি এই সময়টাতে আপনি চাইলেই অনলাইন থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন বা শুধু গেমস খেলে বা ভিডিও দেখে পার করে দিতে পারেন। কি করবেন তা একদমই আপনার ওপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে আপনি যদি চান তাহলে করোনাভাইরাসের দোষ দিতে পারেন। যে, কেনো করোনাভাইরাস আসলো আর আমি সমস্যায় পড়লাম। কিন্তু তার আগে আপনাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, এটা একটা বৈশ্বিক মহামারি। পৃথিবীর সবাই এ কারণে সমস্যায় আছে। শুধু আপনি একা নন।

খারাপ সময়ে ব্যস্ত থাকাটা অনেক কাজে দেয়। তাই নতুন নতুন জিনিস শিখতে থাকুন এবং ব্যস্ত থাকুন।

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

অনেক খারাপ সময় আমাদের জীবনে আসতে পারে। তাই বলে আমাদের থেমে গেলে চলবে না। অবশ্যই জীবনের একটা লক্ষ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আর কিছু না হলেও আমরা খারাপ সময় আমাদের লক্ষ্যের কথা ভেবে হলেও ভালো অনুভূতি পেতে পারি।

আমাদের লক্ষ্যের জন্য কাজ করে যাওয়া উচিত এবং ভাবা উচিত ‘মেঘ কেটে যাবে’। আসলেই তাই, লক্ষ্য নির্ধারণ করে লেগে থাকাটা ভালো থাকার এক অন্যতম শর্ত।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত