ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২০, ১৬:১৮

প্রিন্ট

সম্পর্ক বজায় রাখতে যোগাযোগ

সম্পর্ক বজায় রাখতে যোগাযোগ
যোগাযোগ একটা ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে
হৃদয় আলম

যোগাযোগ একটা ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। এটা অগ্রগতির একটি বড় বাহনও বটে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে চাকরির ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ এমন লোক পছন্দ করেন যাদের মধ্যে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা রয়েছে। যোগাযোগের অভাবে একজন গুণী লোকও সফলতা না পেতে পারে।

সুতরাং সম্পর্কের উন্নয়ন, কাজের দক্ষতাসহ নিজের যোগ্যতা বাড়ানোর পূর্ব শর্ত হলো যোগাযোগ রক্ষা করা।

যোগাযোগ কেন করতে হবে?

যে কোনো কাজই আপনি করতে যান না কেনো অপর পক্ষের সাথে আপনার তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন কিছু শেখা বা আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে যোগাযোগ করতেই হবে। কাজটি কিভাবে হবে, কেনো হবে, কতো ভালো হবে সব বিষয়ে আপনার অপর পক্ষকে বুঝাতে হবে। আপনি যতো ভালোভাবে বিষয়টি তাদের বোঝাতে পারবেন আপনার সফলতার সম্ভাবনা ততো বেশি থাকবে।

আপনি যোগযোগের জন্য মেইল করতে পারেন, সরাসরি কথা বলতে বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কথা বলতে পারেন বা লিখতেও পারেন। যাই করুন না কেনো আপনার বিষয়টি বুঝাতে হবে।

যোগাযোগের লক্ষ্য

১) আপনার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করুন

আপনি আসলে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে কতোটা দক্ষ সে বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন। নিজের কাজ নিয়ে ভাবুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন-

* কর্মক্ষেত্রে লোকজনের সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপের পিছনে কি দায়ী?

* আপনার বন্ধু এবং কলিগদের কাছ থেকে আপনি কি ধরনের প্রতিক্রিয়া পান?

* যোগাযোগ রক্ষার অভাবে কী এ ধরনের খারাপ জিনিসগুলো ঘটছে?

২) আপনি কী অর্জন করতে চান নির্ধারণ করুন

আপনি আসলে ঠিক কি করতে চান এবং কেনো তা হচ্ছে না তা আগে জানার চেষ্টা করুন। এরপর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন। নিজের ভেতর পরিবর্তন আনুন।

৩) লক্ষ্যসমূহের রূপরেখা

আপনার লক্ষ্য কী তা একটা খাতায় নোট আকারে লিখে ফেলুন। আপনার ফলফল কীভাবে আরো ভালো হতে পারে ভাবুন।

৪) স্মার্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

আপনি যাই ভাবেন না কেনো, স্মার্টভাবে ভাবুন। অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে ভাবুন। কথায় আছে ‘সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা মানে অর্ধেক কাজ হয়ে যাওয়া।’

অনেকের লক্ষ্য আজীবন স্বপ্নই থেকে যায় কারণ তারা যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করে না।

যোগাযোগ যেভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে

১) ভাষা নির্বাচনে সহায়তা

অনেকের সাথে যোগাযোগের ফলে আপনার ভাষার উন্নতি সাধন হয়। যার ফলে আপনি চাইলে অন্যদের সাথে আরো সুন্দরভাবে কথা বলতে পারেন। যা অন্যদের কাছে ভালো লাগবে। এবং আপনিও কাকে কি বলা দরকার তা সহযেই খুঁজে পাবেন।

আপনি যদি অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন কা কারোই ভালো লাগবে না। তাই অবশ্যই শব্দ ব্যবহারের পূর্বে আপনাকে ভাবতে হবে। আর অনেকের সাথে যোগাযোগের ফলে আপনি বিষয়টি সহজে করতে পারবেন।

২) আরো বেশি আকর্ষণীয়

যোগাযোগ বাড়িয়ে আপনি নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন। তবে, এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার শ্রোতাদের সাথে আরো বেশি যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং আপনি যখন কারো থেকে শুনবেন তখন, মনযোগ দিয়ে শুনবেন।

৩) মনযোগী শ্রোতা

আপনি যখন শ্রোতা, তখন অবশ্যই মনযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করবেন। কারো মন পেতে হলে অবশ্যই তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আপনি সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন, যেখানে আপনি আপনার দরকারী লোকদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে পারেন।

৪) আবেগ

তথ্য দেয়ার সময় একজন লোক আবেগ তাড়িত হয়ে পড়তে পারেন। তার ভয় হতে পারে বা তিনি অভাক হতে পারেন। তাই কখপোকথনের সময় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

৫) বিশ্বস্ত হন

আপনি যার সাথে যোগাযোগ করছেন অবশ্যই তার বিশ্বস্ত হন। সে যদি আপনাকে এমন কিছু বলে যা আপনার এবং তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত তাহলে আপনারও এ বিষয়টি তৃতীয় পক্ষকে জানানো উচিত নয়।

৬) ইমেইলে যোগাযোগ

ব্যবসায়িক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ‘ইমেইল’। আপনি এমন কারো কাছ থেকে মেইল পেতে পারেন যার সাথে আপনি কখনো যোগাযোগ করেননি। এছাড়া আপনিও এমন কারো কাছে ইমেইল পাঠাতে পারেন যিনি আপনাকে চেনেননা। তাই কীভাবে প্রোফেশনাল ইমেইল করতে হয় তা শিখে নেয়া উচিত। এর ফলে আপনার ব্যবসায়িক যোগাযোগে আরো ভালো ফল পাবেন।

৭) প্ররোচিত করুন

আপনি আপনার আইডিয়া শেয়ার করুন। যাতে আপনার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে লোকেরা উপকৃত হতে পারে। মানুষ উৎসাহ এবং যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে আরো ভালো কাজ করতে সাহস পায়।

৮) আলোচনার দক্ষতা বাড়ান

আপনি আলোচনার দক্ষতা বাড়ান, কথায় আছে ‘যখন দুইজন বা তার বেশি লোক কোনো বিষয়ে আলোচনা করে তখন তার সমাধান দ্রুত বেরিয়ে আসে’। আলোচনার ভালো দক্ষতা আপনার মৃত্যু পর্যন্ত কাজে লাগবে।

৯) সংক্ষিপ্ততা

সংক্ষিপ্ততা মানে হচ্ছে, মূল কথাটাকে যতটা সম্ভব কম শব্দে বলা এবং তাতে যেন সুষ্ঠু যোগাযোগের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে তা মেনে চলা। যোগাযোগের সময় একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, শ্রোতা বা পাঠক ব্যস্ত। তাই প্রশস্তভাবে কথা বললে কিংবা লিখলে, কথার মূলভাব বোঝার জন্য তার অনেক সময় ব্যয় হবে এবং সে বিরক্ত হবে। লেখা বা কথা সংক্ষিপ্ত হলে এমনটা হয় না। এর দ্বারা সময় অপচয় রোধ হয়।

১০) কথার বিষয়বস্তুতে মনযোগী হন

কী বিষয় কথা বলছেন, তা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এক বিষয়ে মধ্যে অন্য বিষয় চলে আসলে মানুষ তা পছন্দ করবে না।

১১) গঠনমূলক সমালোচনা করুন

কারো কোনো বিষয় খারাপ লাগলে তার গঠনমূলক সমালোচনা করুন। কিন্তু পিছনে বা তার অগচরে আলোচনায় খারাপ কিছু হতে পারে।

১২) অনুপ্রেরণা দিন

আপনার যার সাথে যোগাযোগ করছেন, তার সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি আপনাকে তার খারাপ কোনো পরিস্থিতির কথা বলতে পারে বা কোনো নতুন কাজের বিষয়ে আপনাকে বলতে পারে, যাই হোকনা কেনো অনুপ্রেরণা দিন।

১৩) গ্রুপে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ান

দলবদ্ধ কাজের সময় লক্ষ্য অর্জনে অনেকের সাথে যোগাযোগের দরকার হয়। তাই আপনি যখন দলবন্ধভাবে কাজ করবেন তখন অবশ্যই আপনার গ্রুপে কাজ করার যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে।

১৪) বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝার চেষ্টা করুন

আপনি যদি কারো সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, তাহলে তার সামনে কীভাবে দাঁড়াতে হবে বা সে আপনার সামনে কীভাবে রয়েছে তা লক্ষ্য করুন। কথা বলার সময় তিনি কী ধরনের অঙ্গভঙ্গি করছেন বা তিনি আপনার বিষয়ে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করুন।

১৫) যোগাযোগের ফলাফলের দিকে লক্ষ্য করুন

কারো সাথে যোগাযোগের পর তিনি আপনার বিষয়টি কিভাবে নিয়েছেন বা তার সাথে যোগাযোগের ফলে আপনার কী ধরনের লাভ বা ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য করুন। যদি খারাপ ফল আসে তাহলে ভালো করার চেষ্টা করুন। আর ভালো ফল আসলে আরো ভালো করার চেষ্টার করুন।

১৬) শুদ্ধতা

শুদ্ধতা মানে হচ্ছে, আপনার বার্তায় কোনোরকমের ব্যাকরণগত ভুল থাকবে না। আপনার লিখিত প্রতিটা বাক্য আপনাকে উপস্থাপন করে। আপনার বাক্যে গ্রামাটিকাল ভুল থাকলে, আপনি যতই দক্ষ হোন না কেন, সেই বাক্যটি আপনাকে প্রাপকের সামনে দূর্বলভাবে উপস্থাপন করবে। যদি নিজের গ্রামাটিক জ্ঞানের উপর ভরসা না থাকে, তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে চেক করিয়ে নিন। একটা গ্রামাটিকাল ভুল শুধু আপনারই নয় বরং আপনি যে সংগঠনের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠাচ্ছেন, তার মর্যাদাও কমিয়ে দেয়।

মূল বিষয়

পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করার বিভিন্ন মাধ্যম থাকে। এটা জানা খুব জরুরী যে, যোগাযোগের জন্য কোন ধরনের মাধ্যম বেছে নিতে হবে। এমন কিছু ব্যপার আছে যা ফোনে বা ইমেইলে বুঝিয়ে বলা যায় না। এক্ষেত্রে সামনাসামনি বলুন। আবার এমন অনেক ব্যপার আছে যা হয়তো সামান্য একটা টেক্সট ম্যাজেস বা ইমেল দিয়ে করে ফেলাই ভালো। সেক্ষেত্রে সামনাসামনি বসতে গিয়ে নিজের ও অপরের সময় নষ্ট হতে পারে। তাই যোগাযোগের জন্য কেমন মাধ্যম বেছে নিতে হবে, এটা বোঝা জরুরি। এটা কমিউনিকেশন স্কিলের আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আপনার জীবনের সফলতা বা ব্যর্থতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার যোগাযোগের দক্ষতার ওপর। কমিউনিকেশন স্কিল একদিনেই ইমপ্রুভ করা বা পাল্টে ফেলা যায় না। এটি একটি দীর্ঘতর প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিনের অভ্যাসই পারে আপনার কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়াতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত