ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৩ জুলাই দুবাই ও ১৪ জুলাই আবুধাবিতে ফ্লাইট চালু করবে বিমান

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২০, ১৫:৪৪

প্রিন্ট

করোনায় বিশ্বে যেসব পরিবর্তন এসেছে

করোনায় বিশ্বে যেসব পরিবর্তন এসেছে
প্রতীকী ছবি
হৃদয় আলম

করোনায় দেশে দেশে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের ৭৭০ কোটি মানুষের মধ্যে এমন মানুষ খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে, যার ওপর কোভিড–১৯ রোগের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব পড়েনি। অনেকে এরই মধ্যে কাজ হারিয়েছেন, অনেকে আবার হারানোর আশঙ্কায় আছেন। অনেকে হঠাৎ করেই দরিদ্র হয়ে গেছেন। শিশুরা স্কুলে যেতে না পেরে দিনকে দিন ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছে। যারা অনলাইনে কাজ সারতে পারছেন তারা অফিসে যাচ্ছেন না। যতোটা সম্ভব বাসা থেকেই কাজ করার চেষ্টা করছেন সবাই। এই যখন পরিস্থিতি তখন অনেক দেশেই করোনার সংক্রামণ রুখতে লকডাউন জারির পাশাপাশি সাধারণ ছুটি ঘোঘণা করা হয়েছে। এ মহামারি থেকে কবে মুক্তি মিলবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এখনও পর্যন্ত অদৃশ্য এ মহামারি রুখতে কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। গত কয়েকমাস ধরে প্রতিষেধক তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্বের নামী সব বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখনো কেউ আশার আলো দেখাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আজকের প্রতিবেদনে এসব তথ্যের ওপরই আলোকপাত করা হলো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

শিক্ষা ছাড়া দেশের যেমন উন্নতি সম্ভব না তেমনি গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে যেতে পারে শিক্ষার অভাবে। আর করোনার বিস্তারের পর আমেরিকার, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নামী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনার সংক্রামণ ধরা পড়ার পর এখনও পর্যন্ত স্কুল, কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

লকডাউন বা সাধারণ ছুটি

করোনার বিস্তার রোধে বিশ্বের বিভিন্নদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কোনো কোনো দেশে এক বা দেড় মাস লকডাউনের পর স্বাভাবিক অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু দেশে আবার সীমিত পরিসরে লকডাউন সীথিল করা হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েক দফায় বৃদ্ধির পর গত ৩০ মে সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে।

খাদ্যের দাম

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার জেরে সারাবিশ্বে খাদ্যের দাম কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও। এফএও’র বরাত দিয়ে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে সারাবিশ্বে খাদ্যের দাম কমে গেছে। ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মার্চ মাসে দাম কমেছে, এরপর সে তুলনায় এপ্রিলে আরো দাম কমেছে।

জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় অন্তত চার দশমিক তিন শতাংশ দাম কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবদোল রেজা আব্বাসিয়ান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চাহিদা কম থাকার কারণে দাম কমে গেছে। তবে সারাবিশ্বে খাদ্যের যোগান রয়েছে।

যেসব খাদ্যপণ্যের দাম কমে গেছে, তার মধ্যে চিনি সবার উপরে রয়েছে। আগের মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক এক শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া পাম তেলে দামও ব্যাপক কমে গেছে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারাবিশ্বে লকডাউন চলার কারণে হোটেলগুলোও বন্ধ রয়েছে। যে কারণে এই তেলের চাহিদা আগের তুলনায় কমে গেছে।

তেলের দাম কমছেই

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারির জেরে তেলের চাহিদা কমছে। একইসাথে তেলের দামও কমছে। এর ফলে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সৌদি আরবও অতিরিক্ত সরবরাহ ও সীমিত দামের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২১ ভোটের অনেক বাকি, তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেল প্রতি দাম ২৯.৬০ ডলার দাঁড়িয়েছে। ৪.৪ শতাংশ হারে ১.৩৭ ডলার হ্রাস পেয়েছে মূল্য। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডাব্লুটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে ৬০ সেন্ট। অর্থাৎ ২.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৪.১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে ওই দাম। তেলের চাহিদাও কমেছে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে পরিবহণ ব্যবস্থা থমকে গেছে। ভাইরাসজনিত কারণে এ বছর অপরিশোধিত ফিউচার ৫৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লকডাউন হ্রাস পাওয়ায় চাহিদা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমানে।

করোনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ৯.৭ শতাংশ ধস নামতে পারে এবং এটি হচ্ছে পূর্ববর্তী হিসাবের দ্বিগুণ। এই ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ছে এবং কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে করোনার কারণে বিশ্বের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে, ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ এই ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাস আরেকটি স্থানীয় ভাইরাস হিসেবে কমিউনিটির মধ্যে থেকে যেতে পারে, জনসাধারণকে এই স্থানীয় ভাইরাসগুলোর সঙ্গে বেঁচে থাকা শিখতে হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ও ভূখণ্ডে ৪৪ লাখ লোক করোনা আক্রান্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ৮৫ হাজার ৯০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এডিবি জানায়, এই ভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার অথবা দেশটির জিডিপি’র ১০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া চীনের ক্ষতির পরিমাণ ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার অথবা দেশটির অর্থনীতির ১১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

করোনায় চাকরি হারাবে ২৪ কোটি মানুষ

এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আশঙ্কা করছে, করোনাভাইরাসের কারণে ২৪ কোটি ২০ লাখ লোক চাকরি হারাতে পারে। এই সংখ্যা এক দশক আগের বিশ্বমন্দার সময়ের চেয়ে ৭ গুণেরও বেশি। এডিবির আশঙ্কা, করোনার কারণে শ্রমিকের আয় কমে যেতে পারে প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এডিবি জানিয়েছে, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ৯.৭ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে গেছে এবং কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনার কারণে বিশ্বের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।

এই ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে উল্লেখ করে ম্যানিলাভিত্তিক এই ঋণদানকারী সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, খেলাপি ও দেউলিয়া পরিস্থিতি রোধে দ্রুত এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে এই আর্থিক সংকট ঠেকানো যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাস আরেকটি স্থানীয় ভাইরাস হিসেবে কমিউনিটির মধ্যে থেকে যেতে পারে। জনসাধারণকে এই স্থানীয় ভাইরাসগুলোর সঙ্গে বেঁচে থাকা শিখতে হবে। করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের। এডিবি বলছে, এই ভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার অথবা দেশটির জিডিপির ১০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। প্রথম এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া চীনের ক্ষতির পরিমাণ ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। যা দেশটির অর্থনীতির ১১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

সংকটে পর্যটন খাত

করোনায় বৈশ্বিক মহামারিতে ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। ফলে এ খাতের সাথে সম্পৃক্তরা চাকরি হারানোসহ বেতন ভাতা পাবেন না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবছর ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত সুইডেনেও প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে। তবে করোনার কারণে এবার ভিন্নচিত্র পর্যটন এলাকাগুলোতে। এদিকে প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ডে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে দেশটি।

করোনার কারণে সুইডেনে কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও এর প্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেই কোনো পর্যটক। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হয়েছে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চীন, নেপালসহ অন্যানে পর্যটন নির্ভর দেশেও একই ধরনের অবস্থা দেখা গিয়েছে।

পত্রিকার ছাপা বন্ধ

পৃথিবীর দেশে দেশে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ আজ সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য বড়ই ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে, দুর্যোগ মুহূর্তে, রাষ্ট্রবিপ্লবে সংবাদপত্র, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জীবনবাজি ভূমিকা দীর্ঘদিনের। সংবাদ প্রকাশের প্রতি দায়িত্বশীল সাংবাদিক সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিক্রিয়াশীল সরকার ও রাষ্ট্রের ক্রীড়নক হতে হয়। নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের জীবন দিতে হচ্ছে। সংবাদপত্র, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিগৃহীত করতে, তাদের টুঁটি চেপে ধরতে প্রতিটি দেশে রয়েছে নানা অমানবিক ডিজিটাল আইন ও কালাকানুন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না। সাংবাদিকের গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ চলবে না। সাংবাদিকদের ওপর দমননীতি বা দমনপীড়ন আজ স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে সমগ্র বিশ্ব আজ টালমাটাল অবস্থা। বিশ্বের দেশে দেশে মানবজাতি এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত। এ পরিস্থিতিতে অনেক নামী পত্রিকার বেচা-বিক্রি কমে গেছে। যার ফলে অনেক পত্রিকায় চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন সংবাদকর্মীরা।

খাদ্যভাসে পরিবর্তন

করোনায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্যভাসেও পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ সময়টাতে সুষম খাদ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এছাড়া মদ-সিগারেট কিংবা অন্য কোনো বাজে নেশা থাকলে এখনই নেশার বৃত্ত ভেঙে বেড়িয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এসব নেশা সাময়িকভাবে আনন্দ জোগালেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে দেহকে ধ্বংস করে দেয়।

করোনায় যাদের ‘পৌষমাস’

করোনাভাইরাসের যখন বিশ্বের সব মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ তখন কারো কারো লাভও হয়েছে। মানুষ ঘরে থাকায় নেটফ্লিক্সের মতো বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বলা চলে মানুষ ঘরে থাকায় এদের রীতিমতো পৌষমাস।

নেটফ্লিক্স

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লোকজনকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে৷ এই সময় নেটফ্লিক্সের মতো অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা মানুষের সঙ্গী হয়ে উঠছে৷ ফলে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে নেটফ্লিক্সের শক্তিশালী অবস্থান দেখা গেছে৷

ঘরে বসে শরীরচর্চা

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে থাকার সময়টা শরীরচর্চা করেও কাটাচ্ছেন অনেকে৷ ফলে শরীরচর্চা যন্ত্রপাতির বিক্রি যেমন বেড়েছে, তেমনি অনলাইনে বেড়েছে দর্শক৷ ফলে এ ব্যবসায় জড়িতদের এখন বেশ রমরমা অবস্থা৷

করোনাভাইরাসে কোটিপতি

যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজিক্যাল কোম্পানি ‘মর্ডানা’ করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছে৷ তাদের টিকা পরীক্ষাগারে মানবদেহে পরীক্ষা করা হবে৷ এ খবর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷

ঘরে থাকুন, সঙ্গে থাকুন

অনলাইনে টেলিকনফারেন্সের অ্যাপ ‘জুম ভিডিও’র শেয়ারের দাম ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বেড়েছে৷ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভ্রমণ কমিয়ে মানুষ এভাবেই এখন যোগাযোগ রক্ষা করছে৷

দোকানে খালি তাক

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর শুধু মাস্ক বা জীবাণুনাশক পণ্য কিনতেই হুড়াহুড়ি নয় বরং ইউরোপ, বিশেষ করে জার্মানিতে লোকজন খাবার মজুদ করতে শুরু করেছেন৷ ফলে সুপার মার্কেটগুলোর বিক্রি হু হু করে বেড়ে গেছে৷

নিরাপত্তা পণ্য

মাস্ক, জীবাণুনাশক, স্যানেটারি ওয়াইপসের মতো পণ্যের চাহিদা এতটা বেড়ে গেছে যে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ার পরও সব দেশে এসব পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে৷ এসব পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানির ব্যবসা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে৷

মাস্কের বাজার রমরমা

করোনায় আর কিছু থাক বা নাই থাক, সবার মুখে অন্তত একটা মাস্ক ঝুলানো দেখাই যায়। আর মহামারির বিস্তারের শুরু থেকে তাই মাস্কের চাহিদা আকাশচুম্বী। আর এতে করে বেড়েছে বেচা-বিক্রির। অনেকে তাদের জীবন চালানোর জন্য বিক্রি করছেন মাস্ক। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা আক্রান্ত এবং আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিতদের মাস্ক পরলেই হবে। তাছাড়া যেসব এলাকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং যেখানে শারীরিক দূরত্ব মানা কঠিন সেসব জায়গায় অবশ্যই মাস্ক পরে চলাচল করা উচিত।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত যৌনকর্মীরা

করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যৌন ব্যবসা সম্ভব না। আর তাই ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে অনেক যৌনকর্মী। অনেকে ভিন্ন উপায় হিসেবে অনলাইনে সেবা দিচ্ছেন। বাকিরা আর্থিক সহায়তা পেতে ছুটছেন দাতব্য সংস্থাগুলোর কাছে।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রভাবে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা পৃথিবীর চেহারা। বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর পুরনো নিয়ম-কানুন। দেশে-দেশে মানুষের জীবন-যাপনের প্রণালীও বদলে যাচ্ছে। বাড়ছে বহুমুখী বিপদ এবং তৈরি হচ্ছে বিপদ মোকাবিলার পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি। করোনার আকস্মিক আক্রমণে একবিংশ শতকের অতি-উন্নত, অতি-অগ্রসর, অতি-প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে। অচেনা এই মারণ ভাইরাসকে চেনা ও বোঝার আগেই অকাতরে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এক জায়গায় রোগের প্রতিরোধের আগেই ছড়িয়ে যাচ্ছে আরো অনেক জায়গায়। এমন আঘাতকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত ছিল না পৃথিবীর মানুষ।

পৃথিবী স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে গেছে। অনেক দেশে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। শেয়ার বাজার ও বাণিজ্যে ধস নেমেছে। সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ। এভিয়েশন ও বিমান চলাচল ব্যবস্থা সংকুচিত। বেকার হচ্ছে বহু মানুষ। যুদ্ধ, মহামারি, দুর্যোগের কারণে অতীতের পৃথিবী বার বার এমন মন্দা, অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। সংকট পেরিয়েই পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষ বেঁচে আছে। বিপদ ও সংকটে নানা প্রতিষেধক, টিকা, ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। সভ্যতার ইতিহাসে এভাবেই মানুষ এগিয়ে এসেছে নানা বিপদ ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে।

চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭১ লাখ ছুঁই ছুঁই। মারা গেছেন চার লাখ ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ৩৪ লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজার ৫০৪ জন। আর মারা গেছে ৯৩০ জন। বৈশ্বিক হিসেবে করোনায় আক্রান্তের দিকে বাংলাদেশের অবস্থায় ২০ তম।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best