ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫০

প্রিন্ট

রাজশাহীতে বিখ্যাত যারা

রাজশাহীতে বিখ্যাত যারা
বাঘা মসজিদ, রাজশাহী। ছবি: সংগৃহীত
ফিচার ডেস্ক

রাজশাহী বিভাগ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। রাজশাহী আটটি জেলা, ৬৬টি উপজেলা, ৫৯টি পৌরসভার এবং ৫৬৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের চারটি প্রধান ব্যবসায়ীক এলাকা এবং বড় শহর।

রাজশাহী বহু বিখ্যাত লোকের জন্মস্থান। আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জিয়াউর রহমান, কুমার শরৎকুমার রায়ের মতো বহু বিখ্যাত লোকের জন্মস্থান এ শহর। আজ পরিচিত হবো এমনই কিছু বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে।

আবদুল হামিদ খান ভাসানী

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসাবে সমধিক পরিচিত।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজশাহীর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ মনসুর আলী

মো. মনসুর আলী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের ‘কুড়িপাড়া’য় ১৯১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি।

আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান

আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। বর্তমান নাটোর জেলার অন্তর্গত বাগাতিপাড়ার মালঞ্চী রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে মামার বাড়িতে ১৯২৬ সালের ২৬ জুন তারিখে এ এইচ এম কামারুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন।

জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান

বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয় নেতা এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান প্রচন্ড শক্তি নিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান রাজশাহীর এক বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান।

কুমার শরৎকুমার রায়

কুমার শরৎকুমার রায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে দিঘাপাতিয়ার (নাটোর) রাজবংশে।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সম্পাদক ছিলেন খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ও ব্যবহারজীবী অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়। তার জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ১লা মার্চ তারিখে কুষ্টিয়া (তৎকালীন নদীয়া) জেলার শিমুলিয়া গ্রামে।

যদুনাথ সরকার

কৃতবিদ্য ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের জন্ম ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার আত্রাই থানার কড়চমারিয়া গ্রামে।

রমাপ্রসাদ চন্দ

রমাপ্রসাদের জন্ম ১৮৭৩ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার ইতিহাস প্রশিদ্ধ বিক্রমপুর পরগণার শ্রীধরখোলা গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে।

রাধাগোবিন্দ বসাক

১৮৮৫ সালের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন রাধাগোবিন্দ বসাক। এই শতাব্দীর গোড়ার দিকে যে ক’জন বাঙালি মনীষী বাংলার ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব, ধ্রুপদীভাষা ও ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে প্রবাদ পুরুষ হবার বিরল সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন- রাধাগোবিন্দ বসাক ছিলেন তাদেরই একজন।

মৌলবী শামসুদ্দীন আহমদ

উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি মুসলমান খ্যাতিমান প্রত্নকলাবিদ ও ঐতিহাসিক শামসুদ্দীন আহমেদের জন্ম ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার দেওয়ানপাড়া গ্রামে।

মুখলেসুর রহমান

নিরলস জ্ঞান-সাধক অধ্যাপক মুখলেসুর রহমানের জন্ম ১৯২৪ সালের ১লা ফ্রেব্রুয়ারি তারিখে বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দের মুগবেলাই গ্রামে।

নরোত্তম দাস ঠাকুর

নরোত্তম দাস ঠাকুর (দত্ত) খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে রাজশাহীর অদূরবর্তী প্রেমতলীর পদ্মাতীরস্থ গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কবি শুকুর মাহমুদ

কবি শুকুর মাহমুদ ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার নাথ সাহিত্য ধারার সম্ভবত শেষ কবি। কবি শুকুর মাহমুদের জন্ম সাল ১৬৬০ কিংবা তারও কিছু পূর্বে। রাজশাহী শহরের অনতিদূরে সিন্দুর কুসুমী গ্রামে কবির বাস্তুভিটার নির্দশন আজও বিদ্যমান।

কৃষ্ণেন্দ্র রায়

বঙ্কিম চন্দ্রের সমকালীন রাজা কৃষ্ণেন্দ্র রায় উত্তরবঙ্গের সাহিত্য সাধকদের মধ্যে ছিলেন প্রতিভাধর সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব। রাজা কৃষ্ণেন্দ্র রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৮ সালে বর্তমান নাটোর জেলার খাজুরা গ্রামে এক বিখ্যাত বরেন্দ্রী ব্রাহ্মণ পরিবারে।

জগদিন্দ্রনাথ রায়

মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায় ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর বাংলা ১২৭৫ সনের ৪ কার্তিক নাটোরের সন্নিকটে হরিশপুর গ্রামে এক দরিদ্র অথচ সম্বান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

রজনীকান্ত সেন

রজনীকান্ত সেন বাংলা ১২৭২ সালের ১২ই শ্রাবণ (২৬ জুলাই, ১৮৬৫ খ্রিঃ) বুধবার পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামে বৈদ্যবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে ও সঙ্গীত জগতের অন্যতম সাধক কবি ও গীতিকার ছিলেন।

মির্জা মোহাম্মদ ইউসফ আলী

মির্জা মোহাম্মদ ইউসফ আলী ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার আলিয়াবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

রাণী ভবানী

রাজা রামকান্তের স্ত্রী ছিলেন রাণী ভবানী। তার জন্ম আনুমানিক ১১২২ বাংলা সনে। পিতা আত্মারাম চৌধুরী এবং মাতা জয়দূর্গা। রাণী ভবানী ১৭৪৮ খ্রি. থেকে ১৮০২ খ্রি. পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৪ বৎসর জমিদারী পরিচালনা করেন।

প্রমথনাথ রায়

রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রায় বাহাদুর প্রমথনাথ রায় ছিলেন অন্যতম। তিনি ১৮৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

শরৎসুন্দরী দেবী

মহারাণী শরৎসুন্দরী দেবী ১২৫৬ বঙ্গাব্দের ২০ আশ্বিন পুঠিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সমকালীন সমাজরীতি অনুযায়ী অতি অল্প বয়সে শরৎসুন্দরীর বিয়ে হয় পুঠিয়া রাজবংশের ‘পাঁচআনি’ শাখার বড় তরফের রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ এর সাথে। শরৎসুন্দরী ছিলেন ভিন্নধর্মী জমিদার। বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহ্যি ও জনশ্রুতিতে বাংলার জমিদারবর্গ অত্যাচারী, প্রজাপীড়ক, শোষক হিসেবেই চিত্রিত। কিন্তু এদের মধ্যে দু’চারজন ব্যতিক্রমধর্মী প্রজাদরদী জমিদারদের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়। শরৎসুন্দরী তাদেরই একজন।

এ-ছাড়াও এ জেলায় জন্মগ্রহণকারী অন্যান্য প্রখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন :

চন্দ্রশেখরেশ্বর রায়

শশিশেখরেশ্বর রায়

হরনাথ রায়

রাজকুমার সরকার

হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার

এমাদউদ্দীন আহমদ

আহসান উল্লাহ মোল্লা

আশরাফ আলী খান চৌধুরী

ইদরিস আহমদ

আব্দুল হামিদ মিয়া

মাদার বখ্‌শ

কাজী আবদুল মজিদ

হেমন্তকুমারী দেবী

এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন

মোহাম্মদ নাসিম

খালেদা জিয়া

জাহিদুন্নবী দেওয়ান শামীম

বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসংখ্য প্রতিভাবান ও নিবেদিতপ্রাণ লোকান্তরিত মানুষ তাদের স্ব স্ব অবদানের জন্য আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত