ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৫২

প্রিন্ট

ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

Evaly

স্পোর্টস ডেস্ক

পাকিস্তানের মাটিতে ইনিংস হারের লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১২৬ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ৪১তম ওভারে নাসিম শাহ হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের পরাজয় ত্বরান্বিত করেন। তার শিকার হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৮), তাইজুল ইসলাম (০) এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (০)। আজ চতুর্থ দিনের শুরুতেই অধিনায়ক মুমিলুন হককে (৪১) লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন শাহিন আফ্রিদি। ইনিংস হার এড়াতে এখনও ৫৬ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

২১২ রানে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশের শুরুটা যেভাবে ছিল দিনশেষে সেটির প্রতিফলন দেখা যায়নি। দলীয় ৩৯ রানে নাসিম শাহর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। প্রথম ইনিংসে ৩ রানে ফিরেছিলেন তামিম। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো কিছুর আশায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিজে থেকে সেট হয়েও উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন তামিম। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে ইয়াসির শাহর ঘূর্ণিতে এলবির শিকার হয়ে ফেরেন টাইগার এই ওপেনার। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মুমিনুল হক এবং নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৫৩ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের তৃতীয় উইকেট জুটিতে অর্ধশতকের জুটি গড়ে দলীয় শতক পূর্ণ করেন। তবে মুমিনুলের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। আউট হওয়ার পর্বে ৩৮ রান করেন শান্ত। এরপর উইকেটে আসেন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে তাইজুল ইসলাম। কিন্তু নাসিম শাহ'র আগুন ঝরা বোলিংয়ে একে একে ফিরে যান তাইজুল আর মাহমুদউল্লাহও। আর তাতেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ১৬ বছর বয়সী নাসিম শাহর।

পরে ইয়াসির শাহর বলে শূন্যতে ফেরেন গত ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিঠুন। ফলে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ১২৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছে বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে আরও ৮৬ রান দরকার টাইগার যুবাদের। দিনশেষে ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন মুমিনুল।

এর আগে নিজের অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়ার কঠিন বাস্তবতার শিকার হলেন সাইফ হাসান। ঘরোয়া ক্রিকেট, ‘এ’ দল বা এইচপি আর টেস্ট ক্রিকেটের তফাৎটা এক মুহূর্তেই বোঝা হয়ে গেল এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের। দ্বিতীয় ইনিংসে সাইফের থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ টাইগারদের এই নবীন ওপেনার।

তৃতীয় দিনে খেলার শুরুতেই পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজমকে বিদায় করেছেন আবু জায়েদ রাহি। আগের দিন এবাদত হোসেনের করা ওভারের এক বল বাকি ছিল। ওই এক বল শেষ হওয়ার পর বোলিংয়ে আসেন রাহি। তার ওভারের প্রথম বলেই মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাবর (১৪৩)।

বাবর আজমের বিদায়ের পর পাকিস্তানের ইনিংসে আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। তার করা ইনিংসের ৯৬তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তানের আসাদ শফিক (৬৫)। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (১০) বিদায় করে চলতি টেস্টে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান রুবেল।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে নিজের দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেলেন রুবেল হোসেন। পাকিস্তান ইনিংসের ১১১তম ওভারে বোলিং করতে এসে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির শাহ’কে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন টাইগার পেসার। যদিও শুরুতে মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি। ফলে রিভিও নেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক আর তাতে সফলও হন তিনি। এরপর শাহীন আফ্রিদিকেও(৩) এলবির ফাঁদে ফেলেন রুবেল।

দলীয় ৪৪২ রানে বিপদজনক হ্যারিস সোহেলকে (৭৫) ফেরান তাইজুল ইসলাম। ব্যক্তিগত ৭৫ রানে তামিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যানকে রান আউটে ফেরান সাইফ হাসান। এতে সবকটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৪৪৫ রান। পাকিস্তানের লিড ২১২ রান।

এর আগে দ্বিতীয় দিনে ৮৭.৫ ওভার বোলিং করে স্বাগতিকদের মাত্র ৩ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছে টাইগার বোলাররা। যদিও আরো বেশি উইকেট শিকারের সুযোগ ছিল, কিন্তু ক্যাচ মিস ও বাজে ফিল্ডিংয়ে সেই সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। উল্টো দুই ব্যাটসম্যনকে সেঞ্চুরি উপহার দিল বাংলাদেশের বোলাররা।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২৩৩ রানে। আলোক স্বল্পতার কারণে ৭ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচের ইতি টেনে দেন কর্তব্যররত আম্পায়াররা।

দুই ম্যাচ সিরিজের সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় টিম বাংলাদেশ। সেই বিপর্যয়ে পরে প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অল আউট হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপরই প্রথমদিনের খেলারও সমাপ্তি টানা হয়।

এর আগে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিনে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে ৩ রান নিয়ে সাইফকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন তামিম। শাহীন আফ্রিদির করা দ্বিতীয় বল ঠিকঠাক মতোই সামলেছেন সাইফ। কিন্তু তৃতীয় বলটি খেলতে গিয়ে গড়বড় করেন সাইফ। অফস্ট্যাম্পের বাইরের ফুলারলেন্থ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন। আলগা শটে নিজের উইকেট হারান তরুণ ওপেনার। সাইফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলা শুরু হল শূন্য রান দিয়ে। এরপর তামিমও বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। পরের বলেই আব্বাসের বলে এলবির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম।

শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলছিলেন নাজমুল-মুমিনুল। কিন্তু দুজনের জুটিতে ৫৮ রান তুলেই শাহীন আফ্রিদির শিকার হন দলপতি মুমিনুল। ৫৯ বলে ৫ চারে মুমিনুলের রান ৩০। আফ্রিদির বলে উইকেটকিপার রিজওয়ানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি।

৯৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চ থেকে ফিরে স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই আব্বাসের বলে রিজওয়ানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফেরার আগে ১১০ বলে ৪৪ রান তুলেছেন তিনি।

শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। দলীয় ১০৭ রানে আফ্রিদির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে ৪৮ বল খেলে মাহমুদউল্লাহ রান তুলেছেন ২৫।

৫ উইকেটের পর বাংলাদেশের হয়ে হাল ধরেছিলেন লিটন-মিথুন। কিন্তু তাতে বাধ সেধে লিটনকে(৩৩) সাজঘরে পাঠান হারিস সোহেল। লিটনের বিদায়ে ভাঙলো ৫৪ রানের জুটি। এরপর বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন তাইজুল-লিটন জুটি। ৭২ বলে ২৪ রানের ধৈর্যশীল খেলে তাইজুল বিদায় নিলে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রতিরোধের লড়াই। এরপর দ্রুত বিদায় নেন রুবেল হোসেন।

কিছুক্ষণ পর হাল ছেড়ে দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন দিনের সেরা ব্যাটসম্যান মিঠুনও। নাসিম শাহ’র শিকার হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৪০ বলে ৬৩ রান। ইনিংসটি ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো। এরপর কোনো রান করার আগেই রান আউটের শিকার হয়ে দলের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান আবু জায়েদ।

বল হাতে পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদি একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট গেছে মোহাম্মদ আব্বাস ও হারিস সোহেলের দখলে। ১টি উইকেট গেছে নাসিম শাহ’র ঝুলিতে।

এবার দ্বিতীয় দফায় পাকিস্তান সফরে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে টাইগাররা. লাল বলের ক্রিকেটে দু’দলের ১০ বারের সাক্ষাতে ৯ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। বাকি ম্যাচটি ড্র হয়েছে। অবশ্য নিজেদের শেষ টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হারানো পাকিস্তানও স্বস্তিতে নেই। কারণ গত ২৩ বছর রাওয়ালপিন্ডিতে টেস্ট জিতেনি স্বাগতিকরা। গত চার ম্যাচের মধ্যে তারা তিন ম্যাচে হেরেছে এখানে।

বাংলাদেশ একাদশ:

তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমুনিল হক (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেন।

পাকিস্তান একাদশ:

শান মাসুদ, আবিদ আলী, আজহার আলী (অধিনায়ক) বাবর আজম, আসাদ শফিক, হারিস সোহেল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস, শাহীন আফ্রিদি নাসিম শাহ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত