ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২০, ২১:২৩

প্রিন্ট

বিসিবির ওপর রফিকের যত অভিযোগ

বিসিবির ওপর রফিকের যত অভিযোগ
স্পোর্টস ডেস্ক

খেলা ছেড়েছেন বহু আগে। ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে আয়-রোজগার এখন নেই বললেই চলে। ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত কিংবদন্তি ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক। তবুও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অদম্য স্পৃহা এখনো রয়ে গেছে আগের মতই।

এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বাঁহাতি স্পিনার ধরা হয় মোহাম্মদ রফিককে। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে জয়ের নায়ক তিনি। সেই ম্যাচে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সেই রফিক তখন ছিল বাংলাদেশের দলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেটে উপেক্ষিত সেই রফিক। ১২ বছর ধরে বিসিবির কোন কাজে নেই তিনি। বলা ভালো, বিসিবিই কাছে লাগাচ্ছে না দেশের সেরা এই বাঁহাতি স্পিনারকে।

রফিককে নিয়ে বিসিবির কেন এত অনাগ্রহ? এতদিন পর সেটি জানালেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে জয়ের নায়ক। রফিক জানালেন, অনেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেকের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। এভাবে ১২ বছর চলে গেলেও শেষপর্যন্ত তার বিসিবিতে তার কোনো কোচের চাকরি হয়নি।

গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে এসে এভাবেই বিসিবির ওপর অভিযোগ আনলেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি জানালেন, কেউ আমাকে কোন কাজ দেয়নি। বারবার আশ্বাস দিয়ে বলেছে, ঠিক আছে আমরা ব্যস্ত আছি। এ নিয়ে পরে আলোচনা হবে। এভাবেই ১২ বছর চলে গেল। আমার আর ক্রিকেট বোর্ডে কোনো কোচের চাকরি হলো না।

তিনি বলেন, অনেকের কাছেই গিয়েছি। এখন আর তাদের নাম বলে কি করব? এমনও দেখা গেছে, আসতে বলে সময় দেয়ার পর বোর্ডের অফিসে গিয়ে দেখি কেউ নেই। কত বছর ধরে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোনো জব পাচ্ছি না, কোনো অবদান রাখতে পারছি না ক্রিকেটে।

রফিক জানান, অসুস্থ শরীর আর পায়ে ব্যথা নিয়ে আইসিসি খেলতে গিয়েছিলেন। গাদা গাদা পেইন কিলার খেয়ে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। পরে খেলা শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি তার শরীরে বিরূপ প্রভাবে ফেলে। যেজন্য তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হয়। পায়ের জন্য দুই বছর ধরে ঢাকায় বাংলামোটরে এক ফিজিও থেরাপিস্ট দেখাতে হয়েছিল। এসব চিকিৎসায় আইসিসি জয়ে পাওয়া টাকাগুলো ব্যয় হয়ে যায় তার।

এমনকি বিসিবি থেকেও কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি রফিক। তিনি জানান, ভারতে যাওয়ার সময় বিসিবি থেকে আমাকে ২০০ ডলার দেয়া হয়েছিল। তখন এক ডলারের মূল্য ৩১ থেকে ৩২ টাকা হবে। আসলে বিসিবির তখন এখনকার মতো এতো টাকা ছিল না যে সাহায্য করবে।

বিসিবিকে উদ্দেশ্য করেই রফিক বলেন, আমি তো আর কারও দয়া চাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে আমি এখনও ফিট আছি। শরীরে শক্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই উপার্জন করতে পারব। আর আমার কোনো আকাশ ছোঁয়া ডিমান্ডও নেই। আমার কাজ অনুপাতেই যেন অর্থ দেয়া হয় আমাকে।

এই সময়ে বাংলাদেশের দলে কাজ করতে অনেক বিদেশী স্পিন কোচই এসেছেন। রফিকের ধারেকাছে নেই, এমন স্পিনার লঙ্কান রোয়ান কালপাগেও স্পিন কোচের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এরপর ভারতের দুই বাঁহাতি স্পিনার ভেঙ্কটপতি রাজু আর সুনিল জোশিও কাজ করেছেন জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে। এছাড়া পাকিস্তানের মুশতাক আহমেদ ও সাকলাইন মুশতাক বিভিন্ন সময় স্পিন উপদেষ্টা হিসেবে এসেছিলেন।

তবে রফিককে রেখে যাদের আনা হয়েছিল, তারাই ছিলেন রফিকের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। সুনিল জোশি আর ভেঙ্কটপতি রাজু বাংলাদেশে এসেছেন স্পিন কোচ ও উপদেষ্টা হয়ে। তারা যখন শুনলো এই দেশে উপেক্ষিত রফিক। তখন অবাকই হয়েছিলেন তারা। ভেঙ্কটপতি রাজু তো বলেই বসলেন, রফিকের মত স্পিন লিজেন্ড থাকতে আমি কেন? সেটিরও কারণ আছে, ভারতের হায়দরাবাদে নিজের কোচিং একাডেমিতে রফিককে নিয়ে গিয়েছিলেন রাজু। সেখানে রফিক নিয়েছেন স্পিনের ক্লাস। গতকাল লাইভে সেটিই জানালেন রফিক। তিনি বলেন, ‘রাজু বলছিলেন-এই রফিক ভাইকে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার একাডেমিতে। তিনি সেখানে ৭ দিনের কোচিং প্রোগ্রাম করে আসেন। তার কাছ থেকে তো আমিই শিক্ষা নেই। তিনি থাকতে আমাকে স্পিন উপদেষ্টা করে আনার কি দরকার ছিল?’

রফিকের দাবি, তারপর ভেঙ্কটপতি রাজুকে আর আনা হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best