ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪২

প্রিন্ট

ঈশ্বরের চেয়েও প্রজ্জ্বল এক কুখ্যাত শয়তান!

ঈশ্বরের চেয়েও প্রজ্জ্বল এক কুখ্যাত শয়তান!
দিয়াগো ম্যারাডোনা। ছবি: ফাইল।

খান রুহুল রুবেল

উনিশশ চুরানব্বইয়ের কথা বলা যাক। অথবা এসব গল্প মূলত বুয়েনস আয়ার্সের। তখন আমরা যারা হাঁটতাম নির্জন খড়ের মাঠজুড়ে পৌষের সন্ধ্যায়, আমাদের হাতে বিকেলের সূর্য একটা লাল বল হয়ে ডিগবাজি খেত। ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে মায়ের ভয়ে সরিসৃপের মতো বুক হেঁটে দৌঁড়ে বাড়ি ফিরতাম আর একটা শিশুনদী তখন তীরবর্তী এক পাঁচ প্রজন্মের পাকুড় গাছকে রাত্রির ম্যাজিক দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উনিশশ চুরানব্বই। দুটি স্মরণযোগ্য ঘটনা ঘটে গেল। অক্ষরের আণবিক বিস্ফোরণ শেখা শেষে আমি আক্ষরিকভাবে অক্ষরের দাস হবার জন্য ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছিলাম বোধ হয়। আর দুনিয়াজুড়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ। খেলা উপলক্ষে আমাদের বাসায় টিভি এলো, দর্শক দুজন- আমি ও আমার জনক। যেহেতু খেলা প্রতিপক্ষবিহীনভাবে দেখে খুব লাভ হয় না, অতএব, আমি আর আমার জনক পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভুত হই। প্রতিপক্ষ হিসেবে আমাদের খুব সহজ চুক্তি সাধিত হয়- আমি কালো রঙ ও আমার পিতা সাদা রঙের পক্ষে।

এমন নয় যে, আমি নিপীড়িত, আর আমার বাবা বর্ণবাদী ছিলেন। বরঙ কারণটি বৈজ্ঞানিক। যে সময়ের কথা বলছি, তখন মৌসুমের দক্ষিণ বাতাসে পৃথিবীর বৃহত্তম ঘাসের উপরে দস্তার তৈরি টেলিভিশন অ্যন্টেনা (আমরা বলতাম-এরিয়েল) দিকচিহ্ন নাবিকের মতো ঘুরে যেত। আমরা দেখতাম টিভিপর্দা অন্ধকার হয়ে গেছে! ঝিঁঝিঁ পোকারা সেখানে তিরিতির ঝিরিঝির করে নাচতো। আমি মহাউৎসাহে লাঠি দিয়ে এরিয়েল ঘোরাবার চেষ্টা করতাম। আর ঘরের ভেতর থেকে- "এইতো হইছে! আসছে! ধুর, আবার গেল" এসকল মন্ত্রবাক্য ভেসে আসতো।

অতএব, টিভিটা সাদাকালো। জার্সির রঙের ওপর ভেদ করে কোনটা একটু সাদা, কোনটা কালো বলে মনে হয়। আমি যেহেতু দল চিনি না, অতএব প্রতিদিন আমি কালো দল, আর বাপ সাদা দলের সমর্থক। কিন্তু একদিন ঘটলো বিপত্তি- পিতা কিছুতেই ওইদিন সাদা দল নেবে না, বরঙ কালো জার্সি (আসলে নীল) তার, আমাকে জোর করে দেয়া হলো সাদা। আমি একটু গাইগুই করে মেনে নিলাম। কী ছিল সেই দল?

ম্যারাডোনা। ছবি: ফাইল।

কদিন পরে ঘটে গেল অন্য দুটো ঘটনা। একটি ঘটনায় কলম্বিয়ার এক খেলোয়াড় আত্মঘাতি গোল করে দেশের টিকিট কাটেন। ১০ দিন পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয়টি তে, এক খেলোয়াড় নিষিদ্ধ হলেন বিশ্বকাপ থেকে। তুলকালাম ঘটে গেলো তাতে। নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটি ইচ্ছাকৃত নয়, ভুল বোঝাবুঝির ফলাফল। এই নিয়ে এক চির-অসমাধিত এক বিতর্কের জন্ম। সেই সঙ্গে আমার পিতার ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে টিভির সামনে থেকে উঠে গিয়ে ওই বিশ্বকাপ, এবং সেই সঙ্গে আর কখনোই বিশ্বকাপ দেখলেন না (২০১০ এর দু’একটা বাদে)।

পুরো তল্লাট নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, আমাদের বেকার ও অকর্মণ্য ছোট চাচা ও মামাদের প্রজন্ম বাংলা পাঁচ ও পচাত্তর হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দেখে মনে হয়, এইমাত্র ভারতবর্ষের সিংহাসন হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের। একজন সকালে স্থির সিদ্ধান্ত দেন- ফিফা সভাপতিকে খুন করবেন।

তখন পত্রিকা আসতো চারপাশে- ইত্তেফাক, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ- এসব নামের। আরও কত সাময়িকী তার ইয়ত্তা নেই। সেখানে ছাপা হচ্ছে- ঈশ্বরের বিদায়, ফিফা কি ভুল করলো? এসকল সংবাদ। বাজারে এক টাকা করে ভিউকার্ডের মহড়া, সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান। আরও সব নাম আমরা সেখানে পাই- মেক্সিকো, উনিশশ ছিয়াশি, বাঁ পায়ের নিচে পৃথিবী, চিরিশিশু এক ফুটবলার, এসব কথা......

পড়তে পড়তে ভাবি একটি বাঁ পায়ের নিচে পৃথিবী কীভাবে হয়? ভারতীয় পুরাণে এরকম কথা আছে, তবে কি পুরাণের কেউ নেমে এসেছে মাটিতে? তখনো জানি না, পুরাণের কেউ নয়, বরং মাটির কেউ কেউ জন্ম দেয় পুরাণ। আর, মেক্সিকো, যেটা শুনলেই ঝাল-মাংস, আউট-ল মাস্তান আর প্রজাপতি খামারের কথা মনে পড়ে। সেই মেক্সিকোতে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মাস্তানিটা করলেন সে বছর একজন, ১৯৮৬ তে। ফুটবল মাঠে এমন অমোঘ প্রজাপতির খামার বানালেন, যে শীত কাটিয়ে বেঁচে ফেরা প্রজাপতিদের ও বছর মনে রাখেনি কেউ।

ম্যারাডোনা। ছবি: ফাইল

যখন বুয়েনস আয়ার্সের ঘন নীল আকাশের নিচে লাতিন আমেরিকার বিখ্যাত রোদ ভেসে যায়। সে শহরের ভিয়া ফিওরিতোতে জন্ম নেয়া এক দরিদ্র কিশোর, পেটে খিদে নিয়ে ফুটবল পায়ে ছুটে বেড়ায় শহরের অলিগলি। ১০ বছর বয়সে এক স্কাউট তাকে খুঁজে পেয়ে একটা কাজ দেয়। দি লিটল অনিয়ন দলের হয়ে খেলা থাকলে দর্শকেরা অপেক্ষায় থাকতো প্রথমার্ধ কখন শেষ হবে। খেলার মধ্যবিরতিতে ঝাকরা কোঁকড়া চুলের গাট্টাগোট্টা এক কিশোর তখন মাঠে ম্যাজিক দেখায়, বল নিয়ে কারিকুরি, এ জন্য কিছু পয়সা পায় সে, আর দর্শকেরা মূল খেলার চাইতে এটিই পছন্দ করে বেশি, বিস্ময় নিয়ে অপেক্ষা করে বিস্মিত হবার জন্য।

এরপর ওই কিশোর এই অখ্যাত কনিষ্ঠদলের নিয়মিত খেলোয়াড়, এরপর দলবদল। এরপর জাতীয় দল হয়ে ১৯৮২-এর বিশ্বকাপে মেজাজ দেখিয়ে ফাউল করে বিদায়। প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সে, আর পাল্টা মেজাজ দেখাতেও আপত্তি নেই তার। তখনো সে জানে না, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিপক্ষের সর্বাধিক লক্ষ্যবস্তুর খেসারত দিতে হবে তাকে। আঘাতে আঘাতে বারবার কাতরাতে হবে মাঠে। তার আঘাতপ্রাপ্ত বিকৃত চেহারা পোস্টার হয়ে ছেয়ে যাবে দেয়াল থেকে দেয়াল। কারও হাসিমুখ সাফল্যের ছবিও এতটা বিখ্যাত নয়, শুধু প্রতিপক্ষ নয়, গোলার্ধজুড়ে মাছের মতো অগনিত মানুষ, আর সন্দেশের লোভে খুঁজে ফেরা সংবাদ মাধ্যমের অন্তহীন লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে। হয়ে উঠবে ইতিহাসের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। কিন্তু নিজে চিরকালীন লক্ষ্যভ্রষ্ট এক প্রদীপ্ত পতঙ্গ।

১৯৮৬ তে তৃতীয় শ্রেণির এক দলের অধিনায়ক হয়ে বিশ্বকাপে যায় সে, বিশ্ব অভাবিত অভিভূত হয়ে এই প্রথম দেখলো একটি দল নয়, মূলত একটি ব্যক্তির বিমুগ্ধ সন্ত্রাসে দখল হয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। লাতিন আমেরিকার ছন্দের সঙ্গে ইউরোপের গতির মিশেলে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ড্রিবলার লজেন্সের খোসার মতো উড়িয়ে দিচ্ছে ডিফেন্ডারদের, দুরপাল্লার শট, পাস আর অব্যর্থ সব ফ্রি কিকে অখ্যাত এক দলকে নিয়ে নিমেষেই কোটি দর্শককে বানিয়ে নিচ্ছে অনুগত দাস। বাঁ পায়ের পরাক্রমে পদানত হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। মাঠে তাকে লাগে আহত সিংহের মতো, অসহায় ডিফেন্ডারের ভয়ংকর ট্যাকেলে মুখ বিকৃত করে ছিটকে পড়েই আবার সাঁইসাঁই শব্দে দৌড়ে পার হয়ে যায় মাঠ। পজিশন টজিশনের তোয়াক্কা না করে একাই হয়ে ওঠে এগারো।

বিশ্ব দেখলো এক প্রধান আউট-ল চার বছর আগের যুদ্ধের স্মৃতি ঘা নিয়ে সোভিয়েত পতনের আগের দশকের সর্বাধিক বিতর্কিত ও নন্দিত দুই মুহূর্তের ঈশ্বর হয়ে ওঠে, নির্বিবাদে হাত দিয়ে গোল দেয়, কোনো রকম সঙ্কোচ না করেই বলে -“ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ নিলাম, চোরের সঙ্গে চুরিই করা উচিৎ”। আর এর পাঁচ মিনিট পরেই মাঠের মধ্যে করে ফেলেন গোল অফ দ্যা সেঞ্চুরি, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নন্দিততম সেই গোল। বিশ্ব দেখলো এভাবেও মাস্তানি করা যায়, মাস্তানি হয়।

ম্যারাডোনা। ছবি: ফাইল।

আদতে মাস্তানই ছিলেন তিনি, সেই মাস্তানি অব্যাহত থাকে ইউরোপে গিয়েও। সেই সময়ের রেকর্ড ট্রান্সফার মানি নিয়ে ইউরোপে দুবার দলবদল, নাপোলির মতো নামহীন গোত্রহীন এক দলে যোগদান, তাদের দিয়ে জেতালেন এক মৌসুমের ট্রেবল! দেশসেরা ও ইউরোপসেরা ও বিশ্বসেরা ক্লাব বানালেন একাই। নাপোলি দশ নম্বর জার্সিটাই দেয়া বন্ধ করে দিল। এই জার্সি শুধু তারই থাকুক। জীবন নিয়েও কি এরপর মাস্তানি করেন নি তিনি? ক্যারিয়ার নিয়ে?

অন্যসব কিংবদন্তী ফুটবলার যারা, তারা ফুটবলকে ফুটবল হিসেবেই খেলেছেন, তিনি ফুটবলকে বানিয়েছিলেন মারণাস্ত্র, তার স্বপ্ন-বিদ্রোহ-বিপ্লব, বেদনা-কল্পনা-বিজয়, ক্ষয়-পতন-পরাজয় সমস্ত কিছু প্রতিস্থাপিত হয়েছিল ফুটবল দিয়ে। ক্ষুধা, জাতীয়তা, দেশপ্রেম, প্রতিশোধ- এসবের প্রত্যুত্তর ছিল তার কাছে ফুটবল। নব্বই আর চুরানব্বইতে তার ভেঙে পড়া ক্রন্দন। মাংসে ফুটবল বিঁধে না থাকলে ওইরকম কান্না সম্ভব নয়। তেপান্তর পার হয়ে যার কান্না এই অভাগা দেশেও পৌঁছায়, রাস্তায় মিছিল নামে- “কোডেসালের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”। ঢাকায় জাতীয় সংসদে আলোচিত হয়, এ সংক্রান্ত কোনো কুটনৈতিক প্রস্তাব আনা যায় কিনা।

একমাত্র ফুটবলার কি তিনিই নন, যিনি হাসি আর কান্না দুটো দিয়েই ভাসিয়ে ছিলেন পৃথিবী? কোকেন নিয়ে নিষিদ্ধ হলেন বছরখানেক, ৯৪-এর বিশ্বকাপে আবার নিষিদ্ধ, ওজন হ্রাস করার ওষুধের মাপে ভুল হয়ে গেল, জীবনকে তাড়িয়ে ফিরলেন আরবি ঘোড়ার মতো। একের পর এক প্রেম, সাংবাদিকদের দিকে গুলিবর্ষণ, মৃত্যুর একেবারে দরজায় গিয়ে হাসপাতাল নিবাসী, আবারও উন্মাতাল বুয়েনস আয়ার্স, রাস্তা বন্ধ, ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা হাতে দীর্ঘ জট, অশ্রু, বিশ্বব্যাপী বেদনা- “ঈশ্বর ফিরে আসুক”।

চে গুয়েভারার ছবিতে উল্কি আঁকান, সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে খাতির করেন, আর কথায় কথায় সাম্রাজ্যবাদিতা, আমেরিকা আর ইউরোপের মুণ্ডুপাত করেন। হয়তো এসব বিপ্লবী র‍্যোমান্টিসিজম! দু’হাতে দুই ঘড়ি পরে থাকার বিলাস কি তার ছিল না? আমরা তো এটাও জানি, মৌলিক বিপ্লবী হয় না কখনোই, প্রতিটি বিপ্লবে প্রয়োজন কিছুটা মুখোশও। মুণ্ডুপাত করেন ফিফারও। ফলাফল সুবিধের হয়নি, ফিফাও আদতে এক প্রতারণাও করে তার সঙ্গে।

শতাব্দীর সেরা ফুটবলার নির্ণয়ে যখন ফিফার নির্বাচিত প্যানেলে উঠে এলো তার নাম, সেটা মানতে পারেনি ফিফা। শেষমুহূর্তে গোজামিল দিয়ে আকস্মিকভাবে একটি অতিরিক্ত “নিজস্ব প্যানেল” যোগ করে তার সঙ্গে জুড়ে দেয়া হলো পেলের নামও। থোড়াই কেয়ার তার, বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিফার থেকেই বেরিয়ে গেলেন।

নতুন সহস্রাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বকাপে আবার তাকে দেখা যায়। সেই চিরশিশু, গ্যালারিতে দর্শককদের সঙ্গে বসে মাথার ওপর বনবন করে ঘোরাচ্ছেন দেশের জার্সি! এরপর দাড়ি রেখে হলেন দেশের কোচ, আবারও ডাগ আউট! আবারও সেই নাচ, চিৎকার, নিষ্ঠুর সুন্দর হাসি! আবারও কান্না। আবারও লক্ষ্যবস্তু। নিজে তিনি কি চিরকালই লক্ষ্যহীন ছিলেন না? এই দল, যেটির পরিসংখ্যানগত বিশেষ কোনো সাফল্য নেই, ফুটবলে যেটি গ্রিক ট্র্যাজেডির মতো বিবেচ্য, ভালো-উন্নত-সুন্দর-শ্রেষ্ঠ- এসব বিশেষণ নিয়েও যারা অনিবার্য ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যায়? হ্যাঁ, তিনিই, তারই কারণে, জয়ের বদলেও মানুষ পরাজিত দার্শনিক হয়ে উঠতে ভালোবেসেছে।

ম্যারাডোনা। ছবি: ফাইল

অমোঘ পরিণতির সামনে বারবার ভেঙে পড়েও, হেরে গিয়েও এই যে নিয়তিকে অস্বীকার করে বার বার সমর্থন করেছে এই দল, তার কারণ কি সে নয়? সেই নিঃসঙ্গ সিসিফাস, অভিশপ্ত সিসিফাস! হিরণ্ময় অর্থহীনতা জেনেও যে বহন করে চলে ভার! সেই ক্ষুধার্ত চিরকিশোর, গরীব কিশোর, আজও হিসেব শিখলে না তুমি? তুমি এই অভদ্রই থেকে গেলে, অপগণ্ড-অপদার্থ, ব্যর্থ। সেই হোক তাহলে। তোমার রূপালী চুল দাড়ি অনিবার্য আয়নায় সময় আটকে রাখুক। তুমি নিজেকে সেই কিশোরই ভাবছ? অল্প কয়টা পয়সার জন্য বুয়েনস আয়ার্সের মাঠে যে ম্যাজিক দেখাতো, ফুটবলের ম্যাজিক? তুমি বরং তাই থাকো, বুয়েনস আয়ার্সে খেলার মধ্যবিরতিতে গর্জে উঠুক জনতা!

চিৎকারে চিৎকারে আণবিক হয়ে উঠুক বাতাস!- “ভামোস দিয়েগো ভামোস”! আর, এই অবসরে নীলকণ্ঠ নদীর দেশে আরেক কিশোর একটি চিরশিশু নদীর কাছ থেকে দৌড়ে ফিরছে! নদীটিও তোমার মতো ম্যাজিক দেখায় বয়েসী এক পাকুড় গাছকে। রাত্রির ম্যাজিক! কিশোরটির হাতে একটি লাল বল, যেটি মূলত বিকেলের সূর্য। সেই লালপেড়ে বলটা তোমার ছোট্ট পকেটে জমা থাকুক, দিয়েগো, প্রজাপতির মাস্তান, দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাদোনা, ঈশ্বরের চেয়েও প্রজ্জ্বল এক কুখ্যাত শয়তান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত