শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২২, ০৪:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

গত ফেব্রুয়ারিতে লিগ কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ১১-১০ গোলের ব্যবধানে চেলসিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলো লিভারপুল। আজ এফএ কাপের ফাইনালেও যেন মঞ্চস্থ হলো সেই আড়াই মাস আগের ফাইনালের চিত্রই। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকা ম্যাচে টাইব্রেকারে ৬-৫ ব্যবধানে চেলসিকে হারিয়ে এক দশক পর এফএ কাপের শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতলো ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনালে চেলসির সামনে ছিল প্রতিশোধের হাতছানি। লিগ কাপের হারের প্রতিশোধটা নেয়ার মক্ষম সুযোগ ছিলো তাদের সামনে। তবে তাদেরকে আবারও বেদনার নীলে আচ্ছন্ন করেই আজকেও জয়ী দলটির নাম লিভারপুল। 

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেনি কোনো দলই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলাতেও ম্যাচের স্কোরলাইন থাকে গোলশূন্য। লিগ কাপের ফাইনালের মতো এবার টাইব্রেকারে ভাগ্যদেবী মুখ তুলে দেখলো লিভারপুলের প্রতিই। স্পটকিক থেকে লিভারপুলের হয়ে সাদিও মানে গোল করতে ব্যর্থ হলেও চেলসির হয়ে সিজার আজপিলিকুয়েতা ও ম্যাসন মাউন্টের ভুলে শেষমেশ শিরোপা উচিয়ে ধরে লিভারপুলই। 

ফানালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে সালাহ-মানেরা। মাত্র ৮ মিনিটে এগিয়েও লিভারপুল গোল পেয়েই গেছিলো প্রায়। লুইস দিয়াজ চেলসির রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুঁকে দারুণ এক শট নিলেও সেটি কোনোমতে পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন চেলসির গোলরক্ষক মেন্ডি। বল তবুও জালে জড়িয়েই যেত যদি না গোলালাইন থেকে ক্লিয়ার করতো।

খেলার ১৫ মিনিটে লিভারপুলের ডি বক্সে লুকাকুর হাতে বল লাগলে দারুণ এক সুযোগ হারায় চেলসি। মাঝে মার্কোস আলোনসোর এক শট আটকে লিভারপুলকে ম্যাচে রাখেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন।

এর ভেতরেই বড় এক ধাক্কা খায় লিভারপুল। মাত্র ৩৩ মিনিটে দলের বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ ইঞ্জুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলই সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি কেউই। লিভারপুলেও সাথে অবশ্য ভাগ্যও কিছুটা বিরূপ ভাব নিয়েই ছিলো। লুইস দিয়াজ আর ডিয়েগো জোটার দুইটি শট লাগে চেলসির বারপোস্টে। 

নির্ধারিত সময় শেষে দুই দলের কেউই গোল করতে না পারলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের কেউই জালের ঠিকানা খুঁজে না পেলে খেলার ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে।

চেলসির পক্ষ থেকেই প্রথমে শট নিতে এসে গোল করেন মার্কোস আলোনসো। লিভারপুলের হয়েও প্রথম শট থেকে গোল করে খেলা সমতায় রাখেন জেমস মিলনার। 

এরপরই ভুলটা করে বসেন আজপিলিকুয়েতা। চেলসির হয়ে নেয়া তার শট  ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন অ্যালিসন। লিভারপুলের হয়ে থিয়াগো গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন।

চেলসির হয়ে তৃতীয় শট নিয়ে গোল করেন রেসে জেমস।এবার লিভারপুলের হয়ে রবার্তো ফিরমিনহো এসে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন ৩-২ এ। 

এরপর  চেলসির চতুর্থ শট থেকে গোল করেন আবারও ৩-৩ এ সমতা ফেরান বার্কলি। লিভারপুলের চতুর্থ শট থেকে গোল করে দলকে আবার ৪-৩ এ এগিয়ে নেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নোল্ডস। 

চেলসির হয়ে শেষ শটটি নিতে আসেন জর্জিনহো। তিনি গোল করে দলকে ৪-৪ এ সমতায় ফেরান। এবার লিভারপুলের হয়ে শেষ শট নিতে আসেন সাদিও মানে। গোল করতে পারলেই দল চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণের মুহুর্তেই ভুল করে বসেন মানে। তিনি গোল করতে ব্যর্থ হলে টাইব্রেকার শেষে ৪-৪ সমতা নিয়ে শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখে চেলসি।

এবার সাডেন ডেথে খেলা গড়ালে চেলসির হয়ে ষষ্ঠ শট থেকে গোল করেন হাকিম জিয়েচ। লিভারপুলের হয়ে শট নিয়ে দলকে এবার সমতায় ফেরান ডিয়েগো জোটা। 

চেলসির হয়ে সপ্তম শটটি নিতে এসে এবার ভুলটা করেন ম্যাসন মাউন্ট। তার দুর্বল শট আটকে দেন অ্যালিসন। গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন, দ্বিতীয়বার এমন অবস্থায় ক্লপের আশার প্রতীক হয়ে শট নিতে আসেন সিমিকাস। তার প্রতি দলের আস্থার একটুও নড়চড় হতে না দিয়ে স্পটকিক থেকে গোল করে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতান লিভারপুলকে। 

তিন মাসের ব্যবধানে এই মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে নিলো লিভারপুল। কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপ গড়েছেন এক অনন্য ইতিহাস। ইংলিশ ফুটবলে এক ক্লাবের হয়ে সব মেজর শিরোপা জেতার কীর্তি এতদিন এককভাবে নাম ছিলো ম্যানইউ কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ আর লিগ কাপ জেতা হয়েছিলো ক্লপ, বাকি থাকা এফএ কাপ জিতে আজ ক্লপ বসলেন ফার্গির পাশেই।

বাঙ্গালদেশ জার্নাল/এসএস