ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ২৩:০৫

প্রিন্ট

চমক দেখাতে পারলো না পাকিস্তান

চমক দেখাতে পারলো না পাকিস্তান
স্পোর্টস ডেস্ক

টনটনে কুপার অ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ডে শক্তিশালি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় মাঠে নামে পাকিস্তান। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচটিই উপহার দিল টনটন। যে নাটকের পুরো চিত্রনাট্যই ঘুরপাক খেলো পাকিস্তানের হাত ধরে। ম্যাচে উত্থান-পতন আর টানটান উত্তেজনা, সব কিছুই ঘটলো পাকিস্তানের আনপ্রেডিক্টেবল চরিত্রের কারণে।

আর সেই নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচটি শেষও হলো নাটকীয়ভাবে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ননস্ট্রাইক এন্ডে সরফরাজ আহমেদ যেভাবে রানআউট হলেন, সেটাও আসলে মনে রাখার মতো। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেছে ৪১ রানে।

পাকিস্তানের বোলিং করার সময় মনে হচ্ছিল, অস্ট্রেলিয়ার রান খুব সহজেই পৌনে চারশ হয়ে যাবে। কিন্তু সেখান থেকে এক ওভার বাকি থাকতেই অজিদের অলআউট করে দেয় সরফরাজের দল। পরে রান তাড়ায়ও একটা সময় মনে হলো, সহজেই জেতার পথে হাঁটতে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু মনে হলে তো হবে না, দলটা যে পাকিস্তান! কখন কি করবে বলা মুশকিল।

পাকিস্তানের সামনে ৩০৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে নেমে শুরুতে কিছুটা বিপদে পড়েছিল আনপ্রেডিক্টেবলরা। তবে সেই বিপদ কাটিয়ে দলকে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নেন ইমাম উল হক আর মোহাম্মদ হাফিজ।

শুরুটা দেখেশুনেই করে পাকিস্তান। প্রথম ২ ওভারে উঠে মাত্র ২ রান। এমন অবস্থায় তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান ফাখর জামান (০)। প্যাট কামিন্সের বলে পাকিস্তানি ওপেনারের কাট শটটি থার্ড ম্যানে উড়ে এসে দারুণভাবে তালুবন্দী করেন রিচার্ডসন।

দ্বিতীয় উইকেটে ইমাম আর বাবর আজমের জুটি থেকে আসে ৫৪ রান। এই জুটিতে বাবরের অবদানই ছিল বেশি। দারুণ খেলতে থাকা বাবর ৩০ রান করার পর ধরা পড়েন নাথান কল্টার নাইলের শর্ট বলে। ৫৬ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়েছেন ইমাম আর হাফিজ। ২ উইকেটে ১৩৫ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান। এতে ভালোভাবেই খেলায় ছিল দলটি। তবে ক্ষণিকের ঝড়ে সব এলোমেলো। ২৪ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে পথ হারায় তারা। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। কোল্টার নাইলের শিকার হয়ে ফেরেন বাবর।

দ্রুত সাজঘরে ফেরেন ফখর। ক্রিজে সেট হয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি বাবর। একই দশা ইমামের। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ ফিফটি তুলেই ফেরেন তিনি। ব্যক্তিগত ৫৩ রানে কামিন্সের বলে অ্যালেক্স ক্যারিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার। এর আগে মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন ইমাম।

ততক্ষণ পর্যন্ত খেলায় ছিল পাকিস্তান। তবে সঙ্গী হারিয়ে ক্রিজে মন টেকেনি হাফিজের। অ্যারন ফিঞ্চের ফুলটস বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন তিনি। মাত্র ৪ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হন মিস্টার প্রফেসর।

এতে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেই পরিস্থিতিতে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। কামিন্সের তৃতীয় শিকার হয়ে ক্যারির গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি। এতে খেলা থেকে ছিটকে যায় নীল জার্সিধারীরা। লড়াইটা করতে পারেননি আসিফ আলিও। রিচার্ডসনের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফলে ধ্বংস্তূপে পরিণত হয় পাকিস্তান।

জিততে হলে তখনও দরকার আরও ১০৮ রান। সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে ৬৩ বলে ৬৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে ম্যাচ অনেকটাই হাতের কাছে নিয়ে আসেন সরফরাজ আর ওয়াহাব রিয়াজ। মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানই জিতে যাবে শেষ পর্যন্ত।

কিন্তু নাটকীয়তার তখনও অনেক বাকি। ৪৫তম ওভারে এসে ওয়াহাব-সরফরাজের জুটিটি ভেঙে দেন মিচেল স্টার্ক। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারি উইকেটরক্ষকের হাতে গেলে আবেদন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়রা, কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। দেখা যায় বল লেগেছে ওয়াহাবের ব্যাটে।

৩৯ বলে ২ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৪৫ রান করা ওয়াহাব ফেরার পর আবারও ম্যাচ ঝুঁকে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ওই ওভারেই মোহাম্মদ আমিরকে শূন্য রানে বোল্ড করে জয়টা নিজেদের আরও কাছে নিয়ে আসেন স্টার্ক। পাকিস্তানের তখন ৩২ বলে দরকার ৪৩ রান। হাতে মাত্র ১ উইকেট।

সেই শেষ উইকেটটিও পড়লো নাটকীয়ভাবে। রিচার্ডসনের বলটি শর্ট এক্সট্রা কাভারে খেলেছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। ননস্ট্রাইক এন্ড থেকে সরফরাজ রানের জন্য দৌড়ও দেননি। একটু বেরিয়েছিলেন। চোখের পলকে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন ম্যাক্সওয়েল। পাকিস্তান অধিনায়ক আউট হন ৪০ রানে।

এর আগে শুরুটা দুর্দান্ত করে অস্ট্রেলিয়া। মাঝপথেও ছড়ি ঘোরান অজি ব্যাটসম্যানরা। রীতিমতো রানের ফোয়ারা ছোটান। তবে শেষদিকে সেটা অব্যাহত রাখতে পারেননি তারা। ফলে দলীয় স্কোর বোর্ডে যতটা রান ওঠার কথা, ততটা উঠলো না। আমির, হাসান, রিয়াজ, আফ্রিদিদের দুরন্ত বোলিংয়ে ৩০৭ রানে গুটিয়ে যান অজিরা।

প্রথমদিকে অস্ট্রেলিয়াকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। অবিচ্ছিন্ন ওপেনিং জুটিতে ১৪৬ রান তোলেন তারা। ফিফটি তুলে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন ফিঞ্চ। তবে তাতে বাদ সাধেন মোহাম্মদ আমির। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই অজি অধিনায়ককে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ৮৪ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ।

তিনি ফেরার পর ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি স্টিভ স্মিথ। মোহাম্মদ হাফিজের বলে আসিফ আলিকে ক্যাচ তুলে দেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা এ ব্যাটসম্যান। তবে স্বরূপে ছিলেন ওয়ার্নার। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে ফর্মের মগডালে আছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে মাতিয়ে এসেছেন আইপিএল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন বিধ্বংসী ওপেনার। পথিমধ্যে আসরে তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। দোর্দণ্ড প্রতাপে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। এরই মাঝে শাহীন আফ্রিদির বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

তবে পথচ্যুত হননি ওয়ার্নার। শাহীন আফ্রিদিকে বাউন্ডারি মেরে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। তুলে নেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বিস্ফোরক ওপেনারের ১৫তম তিন অংক ছোঁয়া ইনিংস।

অবশ্য কাঙ্ক্ষিত ঘর স্পর্শ করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওয়ার্নার। ব্যক্তিগত স্কোরে আর ৭ রান করেই আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ওয়ার্নার। ফেরার আগে ১১১ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংসটি সাজান তিনি। ততক্ষণে বিশাল সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত