ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২০, ২০:১০

প্রিন্ট

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ: ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ: ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ছানাউল হক। তবে শেয়ার ও ইউনিট বেচা-কেনার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিনিয়োগকারীদের কত টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বা নগদ কত টাকা পাওনা রয়েছে তার কোনো তথ্য দিতে পারেনি ডিএসইর এ পরিচালক।

অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির ডিলার অ্যাকাউন্টে খুবই অল্প পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপরও বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফিরে পেতে সমস্যা হবে না বলে দাবি করেছেন ডিএসইর এমডি।

রোববার ভার্চুয়ালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে এর মালিক শহিদ উল্লাহ আত্মগোপনে চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডিএসইর এমডি বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ একটি পুরাতন প্রতিষ্ঠান। এ হাউজটির আর্থিক হিসাব খারাপ ছিল না। এমনকি মে মাসেও সমন্বিত আর্থিক হিসাবে ঘাটতি ছিল না। তারপরেও অনাকাক্সিক্ষতভাবে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। যা সমাধানে ডিএসই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএসই থেকে হাউজটির মালিকরা যেন বিদেশে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে পল্টন থানায় অভিযোগ করা হয় এবং মালিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করা হয়। এখন পর্যন্ত তাদের ১০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট ফ্রিজ করা হলেও বিনিয়োগকারীদের দেনা-পাওনার বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না। ৮২ কোটি টাকার বাইরে ওই হাউজে বিনিয়োগকারীদের কত টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বা নগদ কত টাকা পাওনা রয়েছে, তা পরিষ্কার না। তবে ফ্রিজ করা শেয়ারের বাইরে যদি পাওনা থাকে, তাহলে ট্রেক বিক্রি করে তা মেটানো হবে।

এ সময় হাউজটিতে বিনিয়োগকারীদের নিট পাওনার পরিমাণ জানতে ওই হাউজের বিনিয়োগকারীদের সবাইকে তাদের তথ্য ডিএসইকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি। এক্ষেত্রে তারা যত দ্রুত জানাবে, তত দ্রুত হাউজটিতে বিনিয়োগকারীদের দায়-দেনা জানা যাবে। তারা ডিএসইকে মেইলে বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে তাদের পাওনা সম্পর্কে জানাতে পারবেন।

পাওনা টাকা নিয়ে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের হতাশ না হওয়ার অনুরোধ করে কাজী ছানাউল হক বলেন, প্রয়োজন হলে ট্রেক বিক্রি ও সম্পদ বিক্রি করে পাওনা সমন্বয় করা হবে। এ লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই হাউজের বিনিয়োগকারীরা যখন চেক ডিজঅনার পাচ্ছিল, তখন জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তাই ভবিষ্যতে যেকোনো হাউজের বিনিয়োগকারীদেরকে এ জাতীয় সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত ডিএসইকে জানানোর অনুরোধ করছি।

ছানাউল হক বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমাদের প্রথম লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। পাশাপাশি আমাদের রেগুলেটর অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। এটা অবশ্যই শেয়ারবাজারে আস্থার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনি আমাদের পুঁজিবাজারে আস্থা কম। তবে বিনিয়োগকারীদের আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, তাদের আস্থা যাতে নষ্ট হয়ে না যায়, সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের পাওনা আদায়ে আমরা শতভাগ কাজ করে যাব। আমরা দ্রুত সমাধান করে দেব। মানি মার্কেটে যে ধরনের ক্রাইসিসগুলো হয়েছে আমি মনে করি, পুঁজিবাজারে সে ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রসঙ্গত, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিক শহিদ উল্লাহ বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে গত ২৩ জুন থেকে ব্রোকারেজ হাউজে তালা লাগিয়ে আড়ালে রয়েছেন। তাকে খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই হাউজের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীরা। যা পুরো শেয়ারবাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বন্ধ করার আগে ওই হাউজটি থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনা হয়। তবে এর বিনিময়ে ডিএসইকে দেয়া চেক বাউন্স করে। ফলে হাউজটির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ডিএসই। তাদের কাউকে না পেয়ে কেনা শেয়ারগুলো সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই শেয়ারগুলো বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করে ডিএসই।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best