ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৮

প্রিন্ট

নিজের ঘর আর আপনজনই শক্র তাদের!

নিজের ঘর আর আপনজনই শক্র তাদের!
অনলাইন ডেস্ক

‘বহুদিন মনে ছিল আশা-

ধরণীর এক কোণে

রচিব আপন মনে ;

ধন নয়, মান নয় , এতটুকু বাসা

করেছিনু আশা ।’

ঘর অর্থ হচ্ছে শান্তি আর মমতার প্রতীক। তাই বুঝি একখানা শান্তিময় ঘরের জন্য কবির এত আকুলতা। যাদের মমতাময় হাতের ছোঁয়ায় এই পরম আশ্রয়টি নিরাপদ আর শান্তিময় হয়ে উঠেন, তারা হলেন নারী বা গৃহিনী। কিন্তু নিজের রচিত ছবির মত ছাজানো গোছানো আশ্রয়টিতে মোটেও নিরাপদ নয় নারী।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, নিজের সঙ্গীর হাতে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৩৭ জন করে নারী নিহত হন। সংস্থাটির অঙ্গ সংগঠন ‘অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ বলছে, ‘এটা থেকে স্পষ্ট, ঘরেই নারীদের খুন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে গোটা বিশ্বে অন্তত ৮৭ হাজার নারী খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৫০ হাজার) নারী নিজের স্বামী/প্রেমিক অথবা নিকটাত্মীয়ের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

এই ৫০ হাজারের মধ্যে আবার ৩০ হাজার জন প্রাণ হারিয়েছেন নিজেরই সঙ্গীর হাতে। আর স্বজনদের হাতে প্রাণ গিয়েছে ২০ হাজার জনের। যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় পরিচিত কারও হাতে খুন হতে হচ্ছে অন্তত ছয়জন নারী। সরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

নারী ও মেয়েদের লিঙ্গ সংক্রান্ত খুন অর্থাৎ ‘ফেমিসাইড’ সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করার সময়ে ব্রিটেনের একটি খবরের সাইটও এ বছরের ১ অক্টোবর দিনটিকে ধরে সারা বিশ্বে সমীক্ষা করে। খবরের কাগজ, রেডিয়ো, টিভি, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তথ্য জোগাড় করে তারা। তাতে দেখা যায়, ৪৭ জন নারী খুন হয়েছেন শুধু ওই একটি দিনে। বিশ্বের ২১ দেশে লিঙ্গ সংক্রান্ত কারণে এই হত্যার ঘটনাগুলি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, স্বজনের হাতে নারীদের খুন হওয়ার ঝুঁকি বেশি আমেরিকা ও আফ্রিকায়।

তবে গত বছর পরিবার বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে নারীদের খুন হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে এশিয়ায়, মোট ২০ হাজার। ব্রিটেনের সাইট জানিয়েছে, পরিবারের সম্মান রক্ষা বা অনার কিলিংয়ের নামে এই মহাদেশে বহু নারী খুন হলেও এই ধরনের হত্যার ঘটনা সব সময় নজরে আসে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলোর ওপর মামলা দায়ের করা হয় না।

নারীদের উপরে হিংসা প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস ছিল সোমবার। এ উপলক্ষে ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

‘অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’-এর প্রধান ইউরি ফেদোতোভ বলেছেন, এখনও লিঙ্গ-বৈষম্যের নিদারুণ মূল্য দিতে হচ্ছে নারীদের।’

এ সমস্যার সমাধানে পুরুষদেরও শামিল করতে হবে, শৈশব থেকে এ বিষয়ে সচেতন করা দরকার বলেও পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের এই অঙ্গ সংগঠনটি।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close