ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ২১:৪৪

প্রিন্ট

অমানবিক বাড়িওয়ালা

অমানবিক বাড়িওয়ালা
ফাইল ছবি
কিরণ শেখ

করোনার সংক্রমণের মধ্যেও রাজধানীর বাড়িওয়ালা এবং হোস্টেল মালিকরা অমানবিক আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য স্কুল, কলেজসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আর এর মধ্যেই কোনো ধরণের নোটিশ না দিয়েই শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, মূল্যবান জিনিসপত্রগুলো ফেলে দিয়েছে বাড়িওয়ালা এবং হোস্টেল মালিক।

গত ৪ বছর ধরে রাজধানীর কলাবাগান এলাকার ৪/এ, ওয়েস্টার্ন স্ট্রিটের রুবী ভবনের নিচতলায় থাকতেন ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সজীব। তার অভিযোগ, বাড়িওয়ালার মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চন তারসহ ৮ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট ও মূল্যবান জিনিসপত্র সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হারিয়ে গেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড। এখন পরীক্ষায় অংশ নেয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

এবিষয়ে সজীব বলেন, আমাদের সারাজীবনের অর্জন সার্টিফিকেট ও মূল্যবান জিনিসপত্রসহ সবকিছু সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছে বাড়িওয়ালা। যখন বিষয়টি জানতে পারি সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় চলে আসি। এসে দেখি জিনিসপত্র কিছুই নেই।

অন্যদিকে আলিফ হোস্টেলে থাকা ১৩০ জন শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট এবং মূল্যবান সব জিনিসপত্রও ফেলে দিয়েছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদেরকে কোনো ধরণের নোটিশ না দিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং জিনিসপত্রসহ বাসা থেকে বের করে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে দেয়া হয়েছে। এই কাজটি করেছেন বাড়িওয়ালা মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চন। খবর পেয়ে তারা নিজ নিজ জেলা থেকে ফ্ল্যাটে চলে এলেও ঢুকতে পারেননি। আর ফেরত পাননি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও।

জানতে চাইলে সজীব সাংবাদিকদের বলেন, গত মার্চের ৫ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করে আমরা বাড়ি চলে যাই। পরে বাড়িওয়ালার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিল বাবদ আরো ১৫ হাজার টাকা মোবাইলে পাঠাই। বাকি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ঢাকায় এসে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরেই বাড়িওয়ালা আর ফোন রিসিভ করেননি। পরে জানতে পারি আমাদের মালামাল সব ফেলে দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় রাজধানীতে কলাবাগান থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ কুমার জানান, ইতিমধ্যে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করার পর এক ছাত্রের করা মামলায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের বেশি কিছু মালামাল খোরশেদের বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, খোরশেদসহ আরো কেউ শিক্ষার্থীদের মালামালগুলো চুরি করে নিয়ে যায় এবং কিছু মালামাল ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

এদিকে করোনার কারণে রাজধানীতে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। কারো ব্যবসা চলছে না। অনেকেই ভয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। কিন্তু করোনার সময়ে বাড়ি ভাড়া মওকুফ কিংবা কমানোর দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ঢাকা অনেকেই ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছেন। আর এসব কারণে একের পর বাড়িতে ‘টু-লেট’ ঝুললেও কেউ বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য খোঁজই নিচ্ছে না। কিন্তু এরপরও ভাড়া কামাচ্ছে না বাড়ির মালিকরা।

রাজধানীর ফার্মগেটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন নাহিদ হাসান। তিনি একটি কোম্পানির ডেলিভারি ম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। কিন্তু মার্চ থেকে তার কাজ বন্ধ রয়েছে। একারণে গত তিন মাসের বেতন পাননি তিনি। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারকে গ্রামে রেখে এসে তিনি একটি মেসে উঠেছেন।

কেএস/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত