ঢাকা, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২০, ১১:৩৩

প্রিন্ট

সিনহার মৃত্যু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিফলন: টিআইবি

সিনহার মৃত্যু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিফলন: টিআইবি
জার্নাল ডেস্ক

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনাকে ধারাবাহিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

বুধবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এ কথা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বরং তা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতিকে স্বাভাবিকতায় রূপান্তরের একটি উদাহরণ মাত্র।

এই ঘটনায় পুলিশের করা একাধিক মামলার সঙ্গে সেনাবাহিনীর ‘প্রাথমিক তদন্তের বক্তব্য একেবারেই বিপরীত’ বলে মনে করে টিআইবি।

এই বৈপরীত্যগুলো যথাযথভাবে আমলে নিয়ে গ্রহণযোগ্য তদন্ত করে জনগণকে জানাতে হবে আদতেই পুলিশ ‘আত্মরক্ষার্থে’ গুলি চালিয়েছিলো কি না। নিহতের সঙ্গী শিক্ষার্থী ও অন্য সকল সম্ভাব্য সাক্ষীর নিরাপত্তাসহ সকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

টিআইবি বলছে, ২০১৮ সালের ৪ মে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে শতাধিক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

সংবিধানে কোনো নাগরিক মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলেই তাকে বিনা বিচারে হত্যার অধিকার দেওয়া হয়নি। নিহতদের বেশ কয়েকজন কোনোভাবেই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, এমন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি চাঁদা দেওয়া না হলে ‘ক্রসফায়ারে দেওয়ার’ মতো অভিযোগও রয়েছে।

দেশে ইয়াবা কারবারের লাগাম টানা যায়নি, বড় বড় ক্রীড়ানকরা এক রকম প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিয়ে বহাল তবিয়তে আছে। আর পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এলিট ফোর্স র‌্যাব, বিজিবি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও বেশ কিছু নিরপরাধ মানুষকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছে।

এসব ঘটনায় কোনো গ্রহণযোগ্য তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, কার্যত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বিনা বিচারে হত্যার লাইসেন্স বা দায়মুক্তি পেয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত