ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫০

প্রিন্ট

সেফটি পিনের চেইন বানিয়ে গিনেস বুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্থ

সেফটি পিনের চেইন বানিয়ে গিনেস বুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্থ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ফান্দাউক ইউনিয়নের ফান্দাউক গ্রামের প্রয়াত জগদীশ দেবের ছোট ছেলে পার্থ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বিএসএস (ডিগ্রি) শেষ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি হবিগঞ্জের সাঙ্গবেদ সংস্কৃতি কলেজর ব্যাকরণতীর্থ ও স্মৃতিতীর্থ (আদ্য) বিভাগে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্থ ফান্দাউক বাজারে বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বড় ভাইকে সহযোগিতা করেন।

পার্থ চন্দ্র দেব সাত হাজার ৮৭৭ ফুট দৈর্ঘ্যের দীর্ঘতম সেফটিপিনের চেইন তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর হাতে পেয়েছেন বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বীকৃতিপত্র।

ভারতের শ্রী হার্শা নান এবং শ্রী নাভা নান ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল ১৭৩৩.১ মিটার দৈর্ঘ্যরে চেইন তৈরি করে গিনেস বুকে নাম তুলেন। তাদের রেকর্ড ভাঙার জন্য গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চন্দ্র দেব।

গত বছরের ২০ এপ্রিল আবেদন করলে ২৩ জুলাই অনুমোদন দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ। সম্মতি পাওয়ার পরই লেগে পড়েন তার থেকেও ব্যতিক্রম কিছু করার। এই চেইনটি তৈরি করতে তার সময় লেগেছে ৪৫ দিন (২৪১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট)। সেফটিপিনের সংখ্যা এক লাখ ৮৭ হাজার ৮২৩টি। রং সোনালী। যা দৈর্ঘ্যে সাত হাজার ২৭৭ ফুট বা ২৪০১.৮২৯ মিটার।

২০১৯ সালে ৬ সেপ্টেম্বর শ্রী শ্রী পাগল সংকর জিও মন্দিরে এই চেইনের জরিপ কাজ করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত লেগেছিল পরিমাপ করতে। প্রমাণ হিসেবে করতে হয়েছে ভিডিও, তুলতে হয়েছে ছবি।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের প্রভাষক রাজীব কুমার আচার্য এবং ফান্দাউক পণ্ডিত রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পল্লব হালদার। চেইনটি পরিমাপ করার জন্য সার্ভেয়ার হিসেবে ছিলেন মো. তোফাজ্জল হোসেন। চেইন জরিপ কাজে শেষে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে যাবতীয় তথ্য গিনেস ওয়ার্ল্ডে পাঠানো হয়। আট মাস পর পার্থের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের পাঠানো সার্টিফিকেটে লেখা আছে ‘দ্য লংগেস্ট চেইন অফ সেফটিপিন’।

একটি রেকর্ড গড়েই থেমে যেতে চান না পার্থ। নতুন পরিকল্পনা হিসেবে আবারো চেইন তৈরির নতুন কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। সেটা স্টেপলার পিন দিয়ে আরেকটি চেইন তৈরি করে রেকর্ড করতে চান।

বিশ্বরেকর্ড করে কেমন লাগছে জানতে চাইলে পার্থ দেব বলেন, আমি দেশের পতাকাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছি। আজ আমি সার্থক।

তিনি আরো বলেন, আমি চাই আমার এই দীর্ঘ চেইনের মতোই গোটা জাতির মেলবন্ধন দীর্ঘ হোক। সৃষ্টি হোক পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন।

এই ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা আশরাফী জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি খুব অভিভূত। পার্থের এই কাজ শুধু নাসিরনগর নয় বরং বাংলাদেশের জন্য গর্বের।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত