ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৫৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩০

প্রিন্ট

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ
ফিরোজ মাহমুদ, পিরোজপুর থেকে

একটানা ১৭ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে চাকরি করার কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের প্রতিষ্ঠিত নিয়মে পরিচালনা করছেন। এমন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৩৩ নং উত্তর পশ্চিম কলারদোয়ানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

প্রধান শিক্ষকের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকারসহ তাকে অন্যত্র বদলীর দাবী জানিয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিবাবক ও ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান ও সাবেক একাধিক সদস্যসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউএনও, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে গণস্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বিগত প্রায় ১৭ বছর পূর্বে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত রয়েছেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। নানা অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং পরে এসে হাজিরা খাতায় একত্রে স্বাক্ষর করেন। তাছাড়া বেশির ভাগ সময়ই তিনি বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ে আসেন এবং দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে চলে যান। তার এমন উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকগণও নিয়মিত পাঠদানে অলসতা করেন। এসব কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংকটসহ ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে।

এছাড়া উক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে উৎপাদিত ফল-ফলাদি, গাছপালা বিক্রি থেকে আয়সহ সরকারী বরাদ্দের অর্থ নামমাত্র কাজ করে বা কোন কোন বছর কাজ না করেই আত্মসাত করে আসছেন। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব এবং তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে যাতে কেউ বাঁধা হয়ে দাড়াতে না পারে সে জন্য তিনি কৌশল অবলম্বন করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে আসছেন।

তিনি যোগদান করার পর কোন কমিটিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় করা হয়নি। কতিপয় স্বল্পশিক্ষিত ও সাধারণ অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে গোপনে কমিটি গঠন করে আসছেন। এমনকি চলমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি পূর্বের আলোকে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিষয়টি কতিপয় অভিভাবক জানতে পেরে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার শিকদার আতিকুল ইসলাম জুয়েল মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানানোসহ প্রতিবাদ করায় তিনি সফল হননি।

সম্প্রতি তিনি একই পন্থায় পুনরায় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওই প্রক্রিয়ায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী অভিভাবক সদস্যদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন কতিপয় শিক্ষার্থী অভিভাবক বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. নুরুল হুদা ও মো. ইয়াছিন আরাফাতসহ কয়েকজন অভিভাবক সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে গেলে তাদের মনোনয়ন ফরম না দিয়ে ফিরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে মোবাইলে কিছু বলা যাবে না। স্কুল খোলার পরে আসেন সামনাসামনি কথা হবে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় সবেমাত্র যোগদান করেছি। তবে আমি শুনে অবাক হয়েছি একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে একই বিদ্যালয়ে ১৭ বছর চাকরি করে আসছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত