ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২০:০৫

প্রিন্ট

ছেলের বিরুদ্ধে বাবার সংবাদ সম্মেলন

হয়রানী, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

হয়রানী, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
জামালপুর প্রতিনিধি

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় হয়রানী, অর্থ আত্মসাত, বাড়ি থেকে বের করে দেয়া, প্রাণনাশের হুমকির মুখে অতিষ্ঠ বাবা সাইদুর রহমান দুদু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ছেলে জাকির হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ছেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান দুদু নামের এই পল্লী চিকিৎসক।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি একজন হতভাগা বাবা অতিষ্ঠ হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করতে বাধ্য। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করি। ঢাকায় লেখাপড়ারত অবস্থায় লোকজনকে চাকরি ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুবাই চলে যায় এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ছেলের প্রতারণার শিকার ভুক্তভুগি লোকজন আমিসহ আমার পরিবারের উপর টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়িয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এ সময় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগম মৃত্যুবরণ করে।

ছেলে জাকির হোসেন জুয়েলে

তিনি আরো বলেন, ছেলের টাকা আত্মসাত এর কারণে জামালপুর ও পাবনায় দায়ের হওয়া প্রতারণার মামলায় ছেলে জুয়েলের সঙ্গে আমিও আসামি হই। ওই মামলায় জামালপুর ও পাবনায় আমাকে জেল হাজত খাটতে হয়।

পরে আমার দোকান মার্কেট ও কৃষি জমি বিক্রি করে আংশিক টাকা পরিশোধ করি। দুবাই থেকে ফিরে এসে ফের মানুষ ঠকানোর খেলায় নেমে পড়ে জুয়েল। এক পর্যায়ে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন তার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছি না। আমার শেষ সম্ভব গ্রামের বাড়ি মেলান্দহের মাহমুদপুর ও জামালপুর শহরের বাড়ি লিখে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। লিখে না দেয়ার আমার বিরুদ্ধে কাজের মেয়েকে বাদী করে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করে আসছে। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী সাথে নিয়ে আমিসহ আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করে শহরের যোগীরঘোপা বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তালা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করি। আমাকে মৃত দেখিয়ে জাল দলিল করে গ্রামের বাড়ি মেলান্দহের মাহমুদপুরের জমিতে মালিকানা দাবি করে নিজ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় জুয়েল। আমার মেঝো ছেলে সফিক হাসান জনির বসুন্ধরার ফ্লাট জুয়েলের নামে লিখে দেয়ার জন্যও হুমকি ধমকির এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় দফায় আমাকে মারধর করে। গ্রামের বাড়ি মাহমুদপুর ও জামালপুর শহরের জমি এবং ঢাকায় বসুন্ধরার ফ্লাট লিখে না দিলে আমিসহ আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ছেলের অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে হতভাগা এই পিতা।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন জুয়েল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক। বর্তমানে বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

জাকির হোসেন জুয়েলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে বাবার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বাবা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমুলক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত