ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০৫

প্রিন্ট

ধানের পোকা দমনে ‘আলোক ফাঁদ’

ধানের পোকা দমনে ‘আলোক ফাঁদ’
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে ধানের পোকা-মাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম হচ্ছে আলোক ফাঁদ। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বর্তমানে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৩৬টি ব্লকে সন্ধ্যায় আমন ফসলের ক্ষেতে পোকা-মকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আলোক ফাঁদ বর্তমানে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের ওপর আলো জ্বালিয়ে ধানের বিভিন্ন পোকা দমন করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। সময় বুঝে ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোন অসুধ প্রয়োগ করতে হবে, তা খুব সহজেই নিরূপণ করা যাচ্ছে। এতেকরে পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন কৃষকরা।

আলোক ফাঁদ ব্যবহারের ফলে এলাকার কৃষকদের বর্তমানে খুব কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।

আলোক দিঘী গ্রামের কৃষক মনছুর আলী বলেন, আমন ধানের শীষ আসতে শুরু হওয়ার পর থেকেই ধানগাছের পাতা সংকুচিত হয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আমার ১৫ বিঘা জমিতে আলোর ফাঁদ তৈরি করেছি। রাতের বেলায় এই আলোর ফাঁদ জ্বালানোর সাথে সাথে হাজার হাজার পোকা আলোর কাছে চলে আসে ও মারা যায়। এতে আমার জমিতে অনেক পোকা কমেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ধানক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় একযোগে বিভিন্ন ইউনিয়নে আলোক ফাঁদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক জাকির, ফজলুর রহমান এবং নশরতপুর গ্রামের কৃষক রহিদুল, সাইদুর, নজরুল, রাজ্জাক ও বেলাল জানান, তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছে। সহজলভ্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই খেতের পোকামাকড় নিধন করতে পারছেন। পোকামাকড়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে করে তাদের খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। এটা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি বলে মনে করেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। অপরদিকে কম খরচে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত