ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৩:৫৭

প্রিন্ট

আইনজীবী সমিতির হলরুমে বোমা হামলা

১৪ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

১৪ বছরেও শেষ হয়নি বিচার
সংগৃহীত ছবি

আবুল হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে আইনজীবী সমিতির হলরুমে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার এক যুগ আজ ২৯ নভেম্বর।

২০০৫ সালের এই দিনে গাজীপুর আদালত এলাকায় আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর হলরুমে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় চার আইনজীবীসহ নিহত হন ৯ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

এ ঘটনার আজ ১৪ বছরে পার হলেও বিচার শেষ হয়নি। ভুক্তভোগীরা ওই ঘটনায় সকল মামলার রায় এবং রায় হওয়া আসামিদের ফাঁসি দ্রুত কারকরের দাবি জানিয়েছেন।

গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির উদ্দিন আহমদ জানান, গাজীপুর ওই ঘটনায় দায়ের করা পাঁচটি মামলার মধ্যে ঢাকায় দ্রুতবিচার (বিশেষ) আদালতে দুইটি মামলার নিষ্পতি হয়েছে। এতে অভিযুক্ত ১০ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন দ্রুতবিচার আদালত ৪ এর বিচারক। বাকি তিনটি মামলা এখনও গাজীপুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গনে বোমা হামলায় শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি শিখা অনির্বাণ’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় কালো পতাকা উত্তোলন ও বারের সব আইনজীবীরা কালোব্যাজ ধারণ করেন। পরে আইনজীবীরা মৌন মিছিলসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ বেগম মমতাজ বেগম, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, আইজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সোবহান, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনসহ হতাহতদের পরিবারের সদস্যরাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এছাড়া গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন প্রাঙ্গনে শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে ও আহত আইনজীবীদের সুস্থতা কামনায় শোকসভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

গাজীপুর আদালতের জিপি মো. আমজাদ হোসেন বাবুল বলেন, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে আত্মঘাতি বোমা হামলায় ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা ও অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি।

এ ছাড়াও বিচারপ্রার্থী আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম মারা যান।

আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী জেএমবি সদস্য শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলামও মারা যান। বোমার স্প্লিন্টারে ক্ষত, পঙ্গুত্ব ও গায়ে স্প্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন আহতরা।

ওই ঘটনায় আহত আইনজীবী জেবুন্নেছা মীনা জানান, আত্মঘাতি বোমা হামলায় ঘটনায় আমার গায়ে এখনও ১১টির মতো বোমার স্পিন্টার রয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না। আগের মতো আদালতেও প্র্যাকটিস করতে পারছি না। তাই তিনি চিকিৎসার জন্য সরকারি সহয়তা চেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আজ ১৪ বছর পার হলেও বিচার শেষ হয়নি। ওই ঘটনায় মামলার দ্রুত রায় ও রায় হওয়া মামলার আসামিদের দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত