ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৫৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৪৫

প্রিন্ট

বগুড়ায় জলমহাল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

বগুড়ায় জলমহাল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবি: সংঘর্ষে নিহত রেজ্জাকুল ইসলাম

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার শিবগঞ্জ তিয়াইল মৌজার সরকারি জলমহালকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ১০ নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের তিয়াইল গ্রামের আ. রশিদ এর পুত্র অত্র ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রায়হান আলী, তিয়াইল উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে তিয়াইল মৌজার ১ একর ৮ শতক জলমহাল সরকারি বিধি মোতাবেক ডেকে নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছে।

জলমহালটি নিয়ে উক্ত গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসার এক পর্যায়ে গত শনিবার সকাল অনুমান ৮টায় তফসিল বর্ণিত জলমহাল নিয়ে একই গ্রামের আ. সালাম, আ. জোব্বার, আ. রাকিব গং গ্রামের একটি দোকানের সামনে দেশি অস্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৫/২০ জনের সংঘবদ্ধ দল নিয়ে ইউপি সদস্য গংদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট শুরু করে।

মারপিটের ঘটনায় রেজ্জাকুল ইসলামের চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। ইউপি সদস্য তাকে উদ্ধার করতে আসলে তার উপর পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন তিয়াইল গ্রামের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান আলী (৪০) ও তার ফুফাতো ভাই রিজ্জাকুল ইসলাম, আফজাল হোসেন (৩০), বুলু মিয়া (৫৫), রাজু মিয়া (২২), শাহেরা বেগম (৪৫), মোছা. হাছনা বেগম (৫৫), মজিদা বেগম (৬০), আকতার শিবগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে রেজ্জাকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রেজ্জাকুল ইসলামকে ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার গত ২৯ নভেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে। সোমবার জানাজা নামাজ শেষে তিয়াইল গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। আপনার সাথে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তাও বলছি সরকারি বিধি মোতাবেক জলমহালটি ডেকে নিয়ে সমিতির লোকজন সুন্দরভাবে মাছ চাষ করে আসছে। দীর্ঘদিন থেকে জলমহালটি নিয়ে ছালাম গংদের সাথে মত বিরোধ চলে আসছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করে আমাদের উপর হামলা চালাবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি। ওদের হামলায় আমাদের ৭ জন লোক গুরুতর আহত হয়েছে। হামলায় আমার ফুফাতো ভাই রেজ্জাকুল ইসলাম মারা গেলো।

একে একে আমরা সবাই মারা যাব আমাদেরকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছি। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।

সালাম গংদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বলেন, উক্ত ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত