ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৪

প্রিন্ট

নড়াইল হাসপাতাল কাণ্ড

অবশেষে সেই বড় ভাবির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবশেষে সেই বড় ভাবির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
এক সময়ের বিএনপির প্রভাবশালী নারীনেত্রী জাহান আরা খানম লাকি ওরফে বড় ভাবি।

নড়াইল প্রতিনিধি

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ও এক সময়ের বিএনপির প্রভাবশালী নারীনেত্রী জাহান আরা খানম লাকি ওরফে বড় ভাবির বিরুদ্ধে দুদক নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।

শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত নড়াইলের অধিক্ষেত্রাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোর (নড়াইল) এর সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিগত জুলাই ২০১৯ হতে ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২ টাকা আত্মসাত করেছেন মর্মে নড়াইল সদর থানার একটি সাধারণ ডায়েরি দুদকে পাঠানো হয়। ১৪ এপ্রিল ২০২১ এর তথ্য মোতাবেক নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম (৫৩) এর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধি ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দুদকের সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এর আগে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩৪টি জাল চালানে ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২ টাকা আত্মসাতের অস্তিত্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকিকে দায়ী করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জাহান আরা খানম লাকির নির্দেশে হাসপাতালের টেন্ডার, ডাক্তারি সার্টিফিকেট, অভ্যন্তরীণ বদলিসহ সব কিছুই চলতো। ডাক্তার-কর্মচারীরা ছিলো তটস্থ। সুচতুর এই বিএনপি নেত্রী আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর রং পরিবর্তন করে সরকারি দলীয় স্থানীয়দের ম্যানেজ করেই আছেন বহাল তবিয়তে। নড়াইলের সকলের কাছে তিনি বড় ভাবি নামেও পরিচিত।

জাহানারা খানম লাকি শহরের আলাদাতপুর এলাকার জেলা বিএনপির বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী মণ্ডল ওরফে বড় ভাইয়ের স্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাহান আরা খানম লাকির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত হাসপাতালের রোগীদের কাছ থেকে ৯টি বিষয়ের ওপর ইউজার ফি গ্রহণ করেন। ২১ মাসের ৭০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা না দেয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের ৫ চিকিৎসককে সদস্য করে গত ৭ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।

এ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ১৪ এপ্রিল নড়াইল সদর থানায় একটি জিডি করেন। বিষয়টি জিডি হিসাবে গ্রহণ করে দুদকে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোর (নড়াইল) এর উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত