ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ২০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১১ মে ২০২১, ০৯:৫১

প্রিন্ট

মৃতপ্রায় পারুলী নদীতে গতি ফেরানোর উদ্যোগ

মৃতপ্রায় পারুলী নদীতে গতি ফেরানোর উদ্যোগ
ছবি: নিজস্ব (সোমবার শ্রীপুরের চাওবন এলাকা থেকে তোলা)

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

পাড়ে ঝোপ-ঝাড়, বছরের পর বছর পাড়ের মাটি ভেঙ্গে নদী ভরাট, কোথাও কাদা-মাটি জমে নদীর পানি প্রবাহ আটকে গেছে, আবার কোথাও শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে মৃতপ্রায় বনে গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পারুলী নদীর চিত্রটি দীর্ঘদিন থেকেই এমন। মার্চের শেষের দিকে পারুলী নদীর ২২ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সুতিয়া নদী থেকে পারুলী নদীর উৎপত্তি। শ্রীপুর, রাজাবাড়ী ও প্রহলাদপুর এলাকা ঘুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নে পারুলী নদী প্রবাহিত হয়েছে। পরে ওই ইউনিয়নের বালু নদীতে মিশে গেছে।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের শাহজাহানপুর এলাকার ব্যবসায়ী শাহনুর সরকার জানান, অনেক স্বল্প পরিবহন খরচে এক সময় নৌকাযোগে এ নদী দিয়েই রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জে গাজীপুরের ধান, কাঁঠাল, আমসহ নানা ধরণের উৎপাদিত ফসল পরিবহন করা হতো। নানা কারণে নদী ভরাট তথা নাব্যতা সঙ্কটে গত প্রায় এক যুগ ধরে পারুলী নদী দিয়ে নৌ পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

চাওবন এলাকার আসলাম বলেন, গাজীপুরের প্রায় সব নদী কোনো না কোনোভাবে কল কারখানার দুষণের শিকার হয়েছে। পারুলী নদী মৃতপ্রায় হওয়ায় দূষণের কবল থেকে অনেকটা বেঁচে গেছে। এ নদীর খনন শুরু হয়েছে। এখন থেকে দেশি প্রজাতির মাছের প্রজনন বাড়বে, আমিষ জাতীয় পুষ্টির চাহিদা এলাকাবাসী স্থানীয়ভাবে পূরণ করতে পারবে। পারুলী নদীতে আবারও পানির ঢল নামবে। আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে মাছ ধরা পড়বে। শালবন আচ্ছাদিত নদী তীরে আবারও সবুজ ফুল ফসলের সমারোহ ঘটবে।

নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, তারা সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগতভাবে নদীর নাব্যতা সৃষ্টি, দুষণ প্রতিরোধ, খনন করা, সর্বোপরি নদী রক্ষার জন্য সকল প্রকার দাবা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই কাজ করছেন। সরকারের এমন উদ্যোগ চলমান রাখার দাবি জানিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার প্রতি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (নরসিংদী) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পারুলী নদীর দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৫২ মিটার। ছোট নদী, খাল, জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে এ নদীটি খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নদীটি উজান ও ভাটা মিলিয়ে মোট ২২ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে খননকাজ শুরু করেছেন। ১০ কিলোমিটারের বেশি এলাকা খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত খননকাজ চলবে। নতুন করে নদীর গভীরতা হবে প্রায় ১২ ফুটের মতো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (নরসিংদী) নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্রশংকর চক্রবর্তী জানান, গাজীপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নদী ও খাল খনন প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচীটি চলমান থাকবে। ফলে কৃষিতে সেচকাজ, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, নৌ যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে এনে জলাশয়ের (ভূ-উপরিস্থ) পানি ব্যবহার বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। এছাড়াও নদীর পাড় এলাকাসমূহে সবুজ বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে গাজীপুরে ২৭টি খাল পুনঃখননের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত