‘জুলাই পদযাত্রা’ করতে গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না এনসিপি
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৫০ আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১:০৬

‘জুলাই পদযাত্রা’ করতে গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু বিষয়ের কারণে’ গোপালগঞ্জ বাদ দিয়ে আপাতত ৬৩ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে এই পদযাত্রা। তবে ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবসে’ গোপালগঞ্জে দোয়া ও মোনাজাত করবেন এনসিপির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৪ জেলায় এই কর্মসূচি পালনের কথা জানান দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তবে এক ঘণ্টা পর গোপালগঞ্জ বাদ দিয়ে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের পদযাত্রার যে সূচি দেওয়া হয়, সেখানে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কথা লেখা ছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা শুরু হয়। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কর্মসূচির একটি সংশোধিত তালিকা গণমাধ্যমে পাঠায় এনসিপি। মূলত গোপালগঞ্জের কর্মসূচিটি সেখানে বাদ দেওয়া হয়। এই বাদ দেওয়া নিয়েও ফেসবুকে পক্ষে–বিপক্ষে নানা আলোচনা দেখা গেছে। তবে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এর কারণ স্পষ্ট করেনি।
জুলাই পদযাত্রার পরিবর্তে গোপালগঞ্জে ভিন্ন আঙ্গিকে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান সারজিস। তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে পদযাত্রার পরিবর্তে আমাদের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা সাংগঠনিক আলোচনা ও দোয়া–মোনাজাত করবেন। ১৬ জুলাই শহীদ দিবসে এ কর্মসূচি হবে। এই কর্মসূচিতে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ যাচ্ছেন না।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক কর্মসূচি নিয়ে জেলায় জেলায় গিয়েছিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। এর অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলায় যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’সহ বিভিন্ন প্রচার চালান দলটির কিছু নেতা। এরপর ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। সেই সহিংসতায় গোপালগঞ্জের চারজনের প্রাণহানি ঘটে।
সহিংস পরিস্থিতির কারণে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, তৈরি হয় থমথমে পরিবেশ। সহিংসতার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সহায়তায় গোলাপগঞ্জ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া যানে ওঠার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে চলতি মাসে জুলাই পদযাত্রা না করলেও আগামী সেপ্টেম্বরে গোপালগঞ্জে যেতে পারে এনসিপি। এ প্রসঙ্গে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এনসিপি ইতিমধ্যে ১০০ উপজেলা– পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। শিগগিরই অন্যগুলোতেও প্রার্থী দেওয়া হবে। যেসব জায়গায় প্রার্থী থাকবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে আমরা সেখানে যাব। তখন গোপালগঞ্জেও যাওয়া হবে।’
এনসিপি শিগগিরই কর্মসূচি নিয়ে গোপালগঞ্জে যাবে বলে দলের রাজনৈতিক পর্ষদের আরেক সদস্য আলী আহসান জুনায়েদও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলেননি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










