ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২

প্রিন্ট

গুলিতে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম

গুলিতে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে গরু জব্দ করা নিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে বিজিবির গুলিতে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে হতাহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী বিজিবি সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করেছে।

স্থানীয়রা জানান যায়, বহরমপুর গ্রামের এক ব্যক্তি কয়েক মাস আগে তার কেনা একটি গরু নিয়ে মঙ্গলবার সকালে যাদুরানী বাজারের উদ্দেশে বের হন বিক্রির জন্য। ওই গরু পাচার করে আনা হয়েছে সন্দেহে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা তা জব্দ করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে বিজিবি'র গুলিতে তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।

নিহতরা হলেন- গফুয়া ইউনিয়নের রুইয়া গ্রামে নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব (৩০) ও জহিরুলের ছেলে সাদেক মিয়া (৪০) এবং বহরমপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী জয়নাল (১৬)।

অন্যদিকে বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় গরু আটক করায় সশস্ত্র চোরাকারবারীরা হামলা করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন।

ঘটনার পর এলাকাবাসী লাশ ঘিরে বিক্ষোভ করেন। তারা দায়ী বিজিবি সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।

বহরমপুর গ্রামের সিরাজুল ও রহমত জানান, বিজিবি কিছুদিন ধরেই এলাকায় অভিযান চালানোর নামে নিরীহ মানুষের গবাদি পশু ধরে নিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিলো। পরে টাকার বিনিময়ে তা ছেড়ে দেয়। বিজিবি সদস্যরা ইচ্ছে করেই গুলি করে মানুষ মারলো, আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি'র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মাসুদ বলেন, ওই গুলো ভারতীয় গরু। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা কোনো এক সময় এগুলো নিয়ে এসেছিল। তারা বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভেতরে আমাদের টহল দল তাদের ধরে ফেলে। গরুগুলো বিওপিতে নেয়ার সময় দুই তিনশ লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনিি বলেন, আমরা প্রথমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তাতে আমাদের অস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গুলি করতে বাধ্য হই।

এদিকে গুলিতে হতাহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম দুপুরে বহরমপুর গ্রামে যান। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন।

এদিকে সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছেন বলে জানিয়েছেন হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close