ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

প্রিন্ট

মিষ্টি নিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে পুলিশ সুপার

মিষ্টি নিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে পুলিশ সুপার
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে নিজ যোগ্যতায় কোনো প্রকার সুপারিশ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের সদর উপজেলার ৭নং উথরাইল ইউনিয়নের মালিগ্রাম এলাকায় সদ্য পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ফিরোজ হাসানের বাড়িতে যান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম। এ সময় তিনি ফিরোজ হাসানের মায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ, বিরল থানার পরিদর্শক (ওসি) এটিএম গোলাম রসুলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে পুলিশ কর্মকর্তারা একই উপজেলার উথরাইল এলাকার চানাচুর বিক্রেতা রঞ্জিত রায়ের বাড়িতে যান। সেখানে তার স্ত্রী সুধা রায় ও সদ্য পুলিশে নিয়োগ পাওয়া মনি রায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বিকেলে পুলিশ কর্মকর্তারা যান বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর উত্তর বিষ্ণুপুর গ্রামের সুস্মিতা দেব শর্মার বাড়িতে। এছাড়াও পুলিশে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সকল সদস্যের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দুপুরে মালিগ্রাম এলাকায় সদ্য পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ফিরোজ হাসানের বাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তারা গেলে পুলিশের এমন শুভেচ্ছায় কেঁদে ফেলেন ফিরোজ হাসানের মা মোছা ফেরদৌস। শুধু তিনিই নন, এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফিরোজ হাসানের দাদা আব্দুর রহমানও।

ফিরোজ হাসানের মা মোছা ফেরদৌস বলেন, টাকা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পর শুভেচ্ছা জানাতে পুলিশের কর্মকর্তারা আমার মত গরিবের বাড়িতে এসেছেন এটা যে কত সৌভাগ্যের তা বলে বোঝানোর নয়।

ফিরোজ হাসানের দাদা আব্দুর রহমান বলেন, আমার এখন বয়স হয়েছে। এই বয়সে আমি এমন নজির দেখিনি যে বিনা টাকায় চাকরি দেয়ার পর আবার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসেন কর্মকর্তারা। সবচেয়ে বড় কথা এই জামানায় টাকা ছাড়া চাকরি হয় না বললেই চলে। আমাদের সেই ধারণা পুলিশ পাল্টে দিয়েছে। যদি সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়া এমন চাকরি হতো তাহলে আমাদের দেশটা আরও উন্নত হতো।

চাকরি পাওয়া ফিরোজ হাসান বলেন, এখন আমি সংসারের কিছুটা হলেও সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।

বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার মেয়ের চাকরি হয়েছে। এটা এক আনন্দের ব্যাপার। আবার আরও আনন্দের ব্যাপার যে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেরাই এসেছেন শুভেচ্ছা জানাতে মিষ্টি নিয়ে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারা নিজ যোগ্যতায় এতদূর এসেছে। কোনো সুপারিশ ছাড়া, অর্থ ছাড়া এমন যোগ্যদের পাশে থাকতে চায় পুলিশ। তাই তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো। এতটুকু কাজ তো পুলিশ করতেই পারে। যোগ্যদের পাশে পুলিশ সবসময় থাকবে। আগামীতে পুলিশে যত নিয়োগ হবে তাতে কোনো অর্থ কিংবা তদবির করতে হবে না বলে কথা দেন তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত