ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০৫

প্রিন্ট

রুবেল হাত চেপে ধরে, গলা কাটে ফয়েজ

রুবেল হাত চেপে ধরে, গলা কাটে ফয়েজ
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

রায়পুরের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে তার ব্যবসায়িক অংশীদার মেহেদী হাসান রুবেল ও সিএনজি অটোরিকশাচালক সাগর।

শুক্রবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোকতার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদেরের আদালতে তোলা হয়। পরে হত্যকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান রুবেল ও সিএনজিচালক সাগর কিভাবে ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে আদালতে তার বর্ণনা দেয়। পরে তাদের দুইজনকে জেল হাজতে পাঠান আদালত।

এর আগে সদর উপজেলার পশ্চিম বটতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান রুবেল ও দক্ষিণ মান্দারীর জামাল উদ্দিনের ছেলে সিএনজিচালক সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও লুট করা আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের সুপারী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রুবেল ও রায়পুর পৌরশহরের আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিল। এর মধ্যে মেহেদী হাসান রুবেলের কাছে ৬ লাখ টাকা পাওনা হয় আলমগীর হোসেনের। মঙ্গলবার বিকেলে আলমগীর হোসেন ওই পাওনা টাকার জন্য মান্দারী বাজারে রুবেলের কাছে যান। এসময় আলমগীর হোসেনকে তিন লাখ টাকা দেন রুবেল। আরো তিন লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করেন রুবেল। এসময় ফয়েজ নামে এক পেশাদার কিলারকে সিএনজিতে উঠিয়ে নেন রুবেল।

আলমগীর হোসেনকে সিএনজির মাঝ খানে বসিয়ে ডানে পাশে বসে কিলার ফয়েজ ও বাম পাশে রুবেল। পরে মীরগঞ্জ সড়কে চলন্ত সিএনজিতে ওই তিন লাখ টাকা লুট করার জন্য আলমগীর হোসেনের হাত-পা চেপে ধরে রুবেল ও গলাকেটে খুন করে ফয়েজ। পরে তার লাশ কাজিরদিঘীর পাড় এলাকায় একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যায় ঘাতকরা।

ওই তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পেশাদার কিলার ফয়েজকে দেয়া হয়। বাকি আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের গলাকাটা লাশ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের ভাই হুমায়ুন কবির সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত আলমগীর হোসেন রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের বশির উল্লাহর ছেলে। তিনি রায়পুর পৌর শহরের শাহী হোটেল সংলগ্ন তানহা কম্পিউটার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত