ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪২

প্রিন্ট

রামগঞ্জে পিআইও'র বিরুদ্ধে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রামগঞ্জে পিআইও'র বিরুদ্ধে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ২টি আশ্রয়ন প্রকল্পে সংস্কার কাজ না করে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযাগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুনের আগে বরাদ্দকৃত টাকার কাজ না করে গোপনে ভুয়া দরপত্র দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে তিনি নিজ একাউন্টে রাখেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আকবর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করলে উপসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আত্মসাতকৃত টাকার বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য চিঠি দেন।

সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা আশ্রয় কেন্দ্র সংস্কারে ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬শ টাকা এবং সাউদেরখিল উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র সংস্কারে ৯ লাখ, ৮০ হাজার, ২২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৯ জুন ক্লোজিংয়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ভূয়া দরপত্র ও বিল তৈরি করে বরাদ্দের পুরো টাকা ট্রেজারি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। খবর পেয়ে রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আকবর নামে একজন দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং দুদক মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। দুদক থেকেও একটি তদন্ত টিম আসে। দুদক তদন্ত করে যাওয়ার পর পিআইও নিজ একাউন্ট থেকে আংশিক টাকা দিয়ে দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পে কাজ শুরু করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল এএসএম মোস্তাক আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে পিআইও অফিসে যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে স্বীকার করে সংস্কার কাজ করতে আমাদেরকে তিন লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা পিআইও আস্তে আস্তে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আকবর হোসেন অভিযোগের বিষয় কোনো কথা না বলে জানান, দুদক থেকে তদন্ত আসার পর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ২/৩ কিস্তিতে পিআইও কিছু টাকা দিয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল জানান, অভিযোগ পেয়ে কিছুদিন আগে দুদক থেকে একটি তদন্ত টিম এসেছিল। তারা তদন্ত করে যাওয়ার পর আমরা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন ভুইঁয়া বলেন, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ও দুদকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে কিছু নগদ টাকা দিয়েছি। কাজ শেষ করলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। দুটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ এত কম টাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাই টাকা উত্তোলন করে একাউন্টে রেখেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারণ সময় কম থাকায় দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পের সংস্কারের টাকা উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে কাজ শেষ করে টাকা প্রদান করা হবে। সরকারি টাকা আত্মসাত করার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত