ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৫০

প্রিন্ট

ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম’

ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম’
ছবি প্রতীকী

আসিফ কাজল

গবেষণা জালিয়াতির দায়ে তিন শিক্ষকের পদাবনতির বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অবাঞ্চিত প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, পরিচালকের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগদানের চেষ্টা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়োগ প্রত্যাশী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে দুইটি প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সিন্ডিকেট সভার সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে এই দুই পদের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত/আবেদন পত্র আহ্বান করা হয় এবং আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০২১ সালের ১১ ফেব্রয়ারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিধিমোতাবেক ইনস্টিটিউটের ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভার সুপারিশ মোতাবেক পরিচালক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত নির্বাচন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে বিজ্ঞাপিত পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা আকতার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এজেন্ডা দিয়ে বিগত এক বছরের মধ্যে ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির কোনো সভা আহ্বান করেননি। প্রভাষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউটে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ না করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জনৈক পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজস করে সিন্ডিকেটের সহায়তায় বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেন।

জানা গেছে, পরিচালক তাহমিনা আকতার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আবেদনপত্র বাছাই করার জন্য ১৮ ফেব্রয়ারি ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভা ডাকেন। এই কমিটির সভা ১৪ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা হলেও ১৫ ফেব্র্রুয়ারি বিকেল ৫টায় পত্র মারফত এবং ইমেইলে কমিটির সকলকে জানানো হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ওই সভায় ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। সভায় কোরাম না হওয়া সত্ত্বেও পরিচালক কেবলমাত্র একজন সদস্যকে নিয়ে দুজনে মিলে প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনপত্রসহ সকল কাগজপত্রাদি জমা দেন।

অথচ ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভায় কমপক্ষে ৩ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনের অনুপস্থিতিতে মাত্র ২ জনে প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করা হয়েছে। ফলে প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয় বলে অনেক শিক্ষকই মনে করেন।

এ বিষয়ে প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, পোস্টটি এ্যাড হয়েছিলো ২০১৫ সালে। আমি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছি ২০১৬ সালে। এরপরেই শিক্ষক নিযোগে আমি একটা তারিখ দিয়েছিলাম। সে সময় কথা উঠেছিলো সমাজবিজ্ঞান অনুষদে যে শিক্ষক আছে তাতে শিক্ষক রপ্তানি করা যাবে। এরপর তারিখ পাওয়ার পরেও অজানা কারণে আর কিছু হয়নি। পরে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করি।

বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সদস্য হওয়ার পরও বিষয়টি জানতে পারিনি। যদি দুইজনকে নিয়েও সভা করা হয় তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটির বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসন হয়তো বিষয়টি জানে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই আমাদেরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান পরিচালক তাহমিনা আকতার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কোরাম বলে কোনো কথা নেই। তারপরও যদি আমি ধরি, ৬ জনের মধ্যে দুজনের উপস্থিতি মানে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে। ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ সদস্য যাদের মেইল ও চিঠি দেয়া হয়েছে তাদের স্বাক্ষরিত কপিও আমাদের কাছে আছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। আর এখন অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কেউ এমন কিছু করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত