ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২২

প্রিন্ট

প্রকৃত শিল্পীরা কখনও ‘সিন্ডিকেট’ করে না: অপূর্ব

প্রকৃত শিল্পীরা কখনও ‘সিন্ডিকেট’ করে না: অপূর্ব
ইমরুল নূর

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নিজেকে থীতু করেছেন নাটকেই। নানামাত্রিক চরিত্রে অভিনয় স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। অভিনয় দিয়ে পৌঁছেছেন সাফল্যের শিখরে। বলছি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব’র কথা যিনি সারাবছরই অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। দর্শকরাও মুখিয়ে থাকেন বিশেষ দিবসে তার নতুন কাজের অপেক্ষায়। পাঁচ বছর পর কাজ করতে যাচ্ছেন নতুন সিনেমায়। কাজের ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের বিনোদন বিভাগে কথা বলেন তিনি। তাকে নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর

কিছুদিন পরই ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবসের ব্যস্ততা কেমন এবং উল্লেখযোগ্য কাজ কি থাকছে? এমন প্রশ্নে অপুর্ব বলেন, উল্লেখযোগ্য কি থাকছে সেটা বলতে পারছি না। কারণ কাজ তো করছি প্রতিনিয়তই। আর এমন অনেক সময় দেখা গিয়েছে যে যেই কাজটা নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী ছিলাম সেটা দর্শকরা দেখলোই না। আবার এটাও হয় যে, যেই কাজটা আমরা খুব তাড়াহুড়ো করে করেছি সেটা দর্শকদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। তাই এটা একদমই বলা যায় না। এটা নির্ভর করে দর্শকদের উপর।

এখন টিভি চ্যানেল খুললেই অপূর্ব-মেহজাবিন, আফরান নিশো-তানজিন তিশা, এই চারজনকে দেখা যায়। অনেকেই বলছেন এই চারজন ‘সিন্ডিকেট’করে কাজ করছেন। এই বিষয়ে নিজের মন্তব্যে ‘বড় ছেলে’ খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, কথাটা খুবই বাজে মনে হয় আমার কাছে। ‘সিন্ডিকেট’কথাটা খুবই হাস্যকর! এই যে আমি এখন সিনেমাটির কাজ করবো এর জন্য একমাস সময় লাগবে। তার মানে আমি যে এই একমাস নাটক করবো না এরজন্য কি মেহজাবিন কিংবা তিশা এরা কেউ বসে থাকবে? কাজ করবে না? প্রকৃত শিল্পীরা কখনও ‘সিন্ডিকেট’ করে না। আর নিশোর সাথে আমি কখনওই সিন্ডিকেট করে আমার লাভ নেই। কারণ আমি কখনও তাকে বলবো না যে দোস্ত এই কাজটা আমি করতে পারছি না, এটা তুই করে ফেল বা নিশো কখনও কোন পরিচালককে বলবে না যে এটা আমি করতে পারব না, এটা অপূর্বকে দেন; অন্য কাউকে দেবেন না!

সিন্ডিকেট তখন হয় যখন কোন কাজ আটকে দেওয়া হয়। যেটা কখনও সম্ভব না। আমার কাছে এটা হাস্যকর মনে হয়। যারা এই কথাগুলো বলে তারা আসলেই স্টুপিড এবং ডাম্ব। এই সিন্ডিকেট কথা বলে আমাদেরকে ছোট করা হয় বলে আমি মনে করি। একটা সময় আমরাও দেখেছি একটা জুটি যখন জনপ্রিয় হয় তখন তারা ধারাবাহিকভাবে অনেক কাজ করে গিয়েছেন। তখন কিন্তু আমরা এই ধরণের কোন কথা বলি নি।

একেক সময় একেক জুটি দাড়ায়, জনপ্রিয়তা পায় দর্শকদের কারণে। দর্শকরা গ্রহণ করছে বলেই তারা একসাথে কাজ করছে; আর এটাই হয়ে আসছে। এক জুটি নিয়েই যে ইন্ডাস্ট্রি চলছে তা কিন্তু না। একের পর এক জুটি কিন্তু তৈরি হচ্ছে, কাজ করছে। আবার ফ্লপও করছে। এমনও সময় হতে পারে যে, আজকে আমি ফ্লপ হয়ে যেতে পারি! আর একটা কথা বলি যে, শিল্পীর কখনও মৃত্যু হয় না। তার কাজই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। আমি এটাও চিন্তা করি যে, আমার সব দিন সমান যাবে না। কিন্তু আমি পরিশ্রম করি, কষ্ট করি। একটা ভালো কাজ করার জন্য যতটা পরিশ্রম করা দরকার সেটা করি। আল্লাহ তায়ালার রহমত আছে আমার উপর। এরপর আমার বাবা-মা, দর্শক সবার ভালোবাসা আছে আমার উপর যার কারণে এখনও কাজ করে যাচ্ছি। এই ছোট্ট একটা ইন্ডাস্ট্রি এখানে এত পলিটিক্স, এত কন্ট্রোভার্সি, এত কন্সপিরেসি করে কি লাভ! এখানে সবার মিলেমিশে থাকা উচিত। আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না যে আমি কাউকে নিয়ে জেলাসি করেছি বা কাউকে কিছু বলেছি। আমি সবসময় আমার কাজে মনোযোগ দিয়েছি। কে কি কাজ করছে, ওই কাজটা আমার কেন হলো না, এগুলা আমি কখনও চিন্তা করিনা।

আমরা অভিনয়শিল্পী; কোন প্রযোজক বা এজেন্সি না। আমাদের কাজ অভিনয় করে যাওয়া এবং আমরা সেটাই করছি। আমি বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে বা লোকমুখে এই ‘সিন্ডিকেট’ কথাটা অনেকবার শুনেছি। আমি বলতে চাই যে, এটা আমাদের উপর না, কারণ আমরা প্রযোজক বা এজেন্সি না। এখানে কেউ কাউকে কাস্টিং বলে দেয় না, সাজেশন দেয়। আর আমি মনে করি, এটা দিতেই পারে। কারণ একটা চরিত্রের জন্য যখন কাউকে ভাবা হবে আমার কাছে সাজেশন চাইলে তখন আমি বলতে পারি এই চরিত্রটা অমুক ভালো করতে পারবে। সেটাও আবার কিছু বিশেষ চরিত্রের ক্ষেত্রে। জাস্ট এতটুকুই। এই ইন্ডাস্ট্রিটা যেহেতু একটা বাণিজ্যিক জায়গা সেহেতু এখানে কেউ যখন বিনিয়োগ করবে অবশ্যই সে চাইবে তার বিনিয়োগকৃত টাকাটা যেন ফেরত আসে। সেদিক থেকে যাদের দর্শক চাহিদা আছে তাদেরকে নিয়েই তারা কাজ করতে চান। এবং এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা যে শুধু এখন থেকেই হচ্ছে তা কিন্তু নয়, এগুলো অনেক আগে থেকেই হয়ে এসেছে। আর আমি এটাও বলবো যে, ঘুরেফিরে এই একই মুখ কিন্তু দেখা যায় না। আমরা এই চারজন ছাড়া আরও অনেক অনেক শিল্পী কিন্তু আছেন এবং কাজও করছেন।

২০১৫ সালে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল। আশিকুর রহমান পরিচালিত এই সিনেমায় পিয়া জান্নাতুলের বিপরীতে নায়ক হিসেবে হাজির হয়েছিল অপূর্ব। এরপর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও আর সিনেমায় দেখা যায়নি। এভাবে পাঁচ বছর কেটে গেল।

এর কারণ হিসেবে অপূর্ব বলেন, এতদিন পর বলে কোন কথা না। বিষয়টা হলো, আসলে ব্যাটে বলে মিলতে হবে। যখন সেটা হয়ে যায় তখনই কিন্তু নতুন একটা প্রজেক্টে দেখা যায়। আমার প্রথম সিনেমা ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’র গল্পটা খুবই সুন্দর ছিল। গল্পের মত করে যদি মেকিং কিংবা পোস্ট প্রোডাকশনটা হতো তাহলে ছবিটা আরও অনেক ভালো করতো। এছাড়া আরেকটা বিষয় ঘটতো আমার সাথে যেটা হলো, আমাকে সেখানে সবাই বলতো ভাইয়া এটা নাটক না, সিনেমা। সিনেমার জন্য আমি নতুন ছিলাম বলে প্রায়ই এই কথাটা শুনতে হতো। তারা কখনও এটা ভাবতো না যে, একটা গল্প বলার কাজ কিন্তু গল্প বলাতেই, আর একজন অভিনেতার কাজ হলো অভিনয় করা। এটা সিনেমা নাকি নাটক ওইভাবে আলাদা করার কিছু নেই। ওই কাজটা করতে গিয়ে প্রতিটা মূহুর্তে প্রতিটা জায়গাতেই এই কথাটা শুনতে হতো আমার যে, ভাইয়া আপনি এখানে নতুন। তারপরও অনেক আঘাত, কষ্ট নিয়ে সিনেমাটা করেছি। কিন্তু যতটা কষ্ট করে কাজটা করেছি তার আউটপুট ততটা ভালো পাইনি। সেটাকে সম্পাদনার মাধ্যমে আরও অনেক কিছু করা যেত, যত্ন নিয়ে একটা ভালো কিছু করা যেত। কিন্তু সেটা তারা করতে পারে নি।

প্রথম সিনেমাতে কাজ করতে গিয়ে সিনেমাতে যেই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলাম এরপর থেকে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর যখন আবারও সিনেমার নানান প্রস্তাব আসতো, তখনই মনে হতো; আবার যাবো, আবার যদি সেরকম কিছু হয়! সেখানে গেলে আবার সবাই আমাকে শিখাবে? দেখলাম তো একবার শিখে! এত বেশি শিখতে গেলে তো আবার সমস্যা।

এরপরও অপেক্ষা করতাম ভালো গল্পের। দেয়াল ভেঙে বের হওয়ার গল্প, কিছু কপি, কিছু কমন গল্প এরকম অনেক সিনেমার প্রস্তাব আসতো; কিন্তু সেগুলোতে কাজ করতে চাই নি। তার জন্য মনে হয় আমি নাটকেই ভালো আছি। এখন যেই অবস্থানে আছি, দর্শকদের যেই ভালোবাসা পাচ্ছি আমি এটা নিয়েই তৃপ্ত। আমার মনে হয়, মাই যতটা না যোগ্য তার চেয়েও বেশি ভালবাসা পেয়েছি আমার দর্শকদের কাছ থেকে। আর তাই আমার দর্শকদের জন্য এই বাজিটা খেলতে চাই নি।

গল্প পছন্দ হলে সিনেমাতে অবশ্যই নিয়মিত হব, নয়তো না। আর নতুন সিনেমাটা সম্পর্কে যদি বলি তাহলে বলবো, ‘যদি… কিন্তু… তবুও’র গল্প শুনে আমি একদম বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। এই গল্পে কাজ করার লোভ সামলাতে পারিনি, রাজি হয়ে গেলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা মিস করা বা হাতছাড়া করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন সিনেমায়। ‘যদি… কিন্তু… তবুও’ শিরোনামের এই ছবিটি পরিচালনা করবেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ খ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শিহাব শাহীন। এই ছবিতে অপূর্বর সঙ্গে প্রথমবার জুটি বাঁধতে চলেছেন নুসরাত ফারিয়া। চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু হবে ছবিটির শুটিং। এমনটাই জানান অপুর্ব।

বাংলাদেশ জার্নাল/ আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত