ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:২৬

প্রিন্ট

এক লাফে ২০ তলা উঠে যাওয়ার শখ নেই: মম

এক লাফে ২০ তলা উঠে যাওয়ার শখ নেই: মম
লাক্সতারকা জাকিয়া বারী মম

ইমরুল নূর

প্রায় দেড় দশকের ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন নানামাত্রিক চরিত্রে। সংখ্যার ভীড়ে হারিয়ে না গিয়ে মানের দিকেই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন প্রতিনিয়ত। যার কারণে সময়ের সঙ্গে তাল না মিলাতে পেরে অনেকে হারিয়ে গেলেও তিনি এখনো স্থির রয়েছেন। বলছিলাম লাক্সতারকা জাকিয়া বারী মম’র কথা। এরইমধ্যে শেষ করেছেন তার নতুন সিনেমা ‘স্ফুলিঙ্গ’র কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ১৭ মার্চ মুক্তি পাবে এই ছবিটি।

ছবিটিতে কাজ প্রসঙ্গে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ খ্যাত এই নায়িকা বলেন, ‘স্ফুলিঙ্গ’ এর শুট, ডাবিং সবকিছুই শেষ। ছবির প্রথম গান রিলিজ হয়েছে। একটা কথাই বলবো, আমরা সিন্সিয়ারলি কাজটা করার চেষ্টা করেছি, এখন সেটা ভালো কী মন্দ; সেটা দর্শকরা বলতে পারবে। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি।

এখানে প্রেম, ভালোবাসা, রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, কমিটমেন্ট সবকিছুই আছে। এখানে আমি আইরিন চরিত্রে অভিনয় করেছি। এইটুকুই বলতে চাই, সিনেমা হলে আসলে, ছবিটা দেখলে দর্শকদের ভালো লাগবে; আমার বিশ্বাস।

ছবিটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে এই লাক্সতারকা বলেন, ‘কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। এখানের ব্যান্ড টিম, তৌকির ভাইসহ সবার সাথে একটা অদ্ভুত বণ্ডিং ছিলো আমাদের। যে কারণে আমরা অনেকটা এনার্জি নিয়ে এত সুন্দর করে কাজটা করতে পেরেছি। প্রত্যেকটা মানুষের কাছেই বেঁচে থাকার জন্য কিছু না কিছু লাগে! আমার জন্য সেটা হচ্ছে কাজ। প্যান্ডামিক সিচুয়েশনের পর এরকম একটা বণ্ডিংয়ের সাথে এতটা এনার্জি নিয়ে বের হতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য অনেক।

‘দারুচিনি দ্বীপ’ এর পর তৌকির ভাইয়ের সাথে নাটকে কাজ হলেও সিনেমায় কাজ করা হয়নি। সেদিক থেকে অনেকটা সময় পর কাজ করেছি। তৌকির ভাই তো অলওয়েজ ‘গুড ডিরেক্টর’। উনি অনেক গোছানো এবং পরিষ্কার একজন মানুষ, কাজও করেন খুব গুছিয়ে। উনার সাথে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি সবসময় উনার কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখি।’

‘স্ফুলিঙ্গ’ তে কী আছে বা দর্শক কেন দেখবে ছবিটি, এমন প্রশ্নে মম’র উত্তর, এটা কোনো ম্যাসেজ দেওয়ার ছবি না, কোনো মোটিভেশনাল ছবি না। একটা সিনেমায় যা যা থাকা দরকার তার সবই আছে এখানে। ভালো গল্প আছে, ভালো ভালো অভিনেতা আছে, ভালো পারফর্মেন্স আছে, ভিজুয়ালাইজেশন আছে, সুন্দর সুন্দর গান আছে। আর তৌকির ভাইয়ের সিনেমায় সবসময় ভালো ভালো অভিনেতারা কাজ করেন, এটা একটা বড় ব্যাপার।

এবার ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে একটি মাত্র নাটকে দেখা গিয়েছে আপনাকে। নাটকের কাজ এত কমিয়ে দেওয়ার কারণ কী, এমন প্রশ্ন রাখলে তার জবাবে মম বলেন, গতকাল নাটকটা প্রচারিত হয়েছে। আমার সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ করিম ভাই। আর কাজ একটু কমিয়েই দিয়েছি বলা যায়, নিজের মত করেই আছি। বাজেট নিয়ে টানাটানি করে এভাবে কাজ করতে পছন্দ করি না আমি। একদম নেহায়েত মনে চাইলেই কাজ করি, নাহলে করি না।

তিনি আরও বলেন, এখন যেই ম্যানেজমেন্টে টেলিভিশন নাটক হচ্ছে, সেগুলো আমার পছন্দ হচ্ছে না। আমি তো একটা লম্বা সময় ধরে কাজ করছি, সো আই অউন মাই ইন্ডাস্ট্রি। আমি অনেক ছোট বয়স থেকেই কাজ করি, সেক্ষেত্রে বরাবরই এই ইন্ডাস্ট্রি অউন করি। আর যেহেতু এটা অউন করি সেটা নিয়ে একজন শিল্পী হিসেবে আমার নিজের অভিমত ব্যক্ত করতেই পারি। আই অ্যাম অলওয়েজ কমিটেড টু মাই ওয়ার্ক এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। সেই জায়গা থেকে এখানে অনেক চেইঞ্জও দেখেছি। যেহেতু আমার পড়াশোনাও অভিনয় নিয়েই, এই জায়গাতে মিস ম্যানেজমেন্টটা আমার একদমই ভালো লাগে না, কাজ করতে ইচ্ছে করে না। আর আমি এখানে কাউকে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করছি না, আমি শুধু সিস্টেমটার কথা বলছি।

আমি কাজ করি প্রার্থনার জায়গা থেকে। জাস্ট আমি সুন্দর দেখতে, বাসায় বসে ছিলাম; এর জন্য কাজ করতে চলে এসেছি, নায়িকা হয়ে গেছি; বিষয়টা আমার জন্য এমন না মোটেও।

যেখানে আপনাকে ভালো ভালো স্ক্রিপ্টে পাওয়া যেত অনেক, সেখানে এখন আপনাকে পাওয়াই যায় না। তার মানে কী ভালো স্ক্রিপ্ট আসছে না এখন? খুবই সুন্দর একটা প্রশ্ন, এমনটা জানিয়ে মম বলেন, যখনকার কাজ তখনকার সময়েই ভালো। আগেকার সময়ের কাজগুলো তখনের সময়ের জন্য ভালো ছিলো। এখনকার কাজগুলো এই সময়ের জন্য ভালো। আগের সাথে এখনের তুলনা করে আসলে লাভ নেই, সময়ের সাথেই চলতে হবে। আর এখন অবশ্যই ভালো কাজ হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। সময়ের সাথে সাথে এই ইন্ডাস্ট্রি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় আমার এই ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের এই দেশটাই একটা গল্পের খনি। আমি তো প্রচন্ড আশাবাদী। আমাদের গল্প বলার ইন্ডাস্ট্রিটা অনেক এগিয়ে গেছে। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ করে আমরা নিজেদেরকে প্রমাণ করেছি, সেখানে সামনে একটু বেটারমেন্ট অপুরচুনিটি মানেই হচ্ছে ‘ইউ ক্যান ডু’।

এখন অনেক নাটকের প্রচলন। আগের সময়ে কম ভালো নাটকই লোকের পছন্দ হত বেশি। এটা খুব আগের সময়ও না, তিন-চার বছর আগের কথা। তখন এত এত কাজ করতে হবে, ব্যাপারটা এমন ছিলো না। কিন্তু এখন সেটাই হচ্ছে। আমার কাজগুলো আলহামদুলিল্লাহ দর্শকরা পছন্দ করে, করছে। আমার কাজগুলো সিগনিফিকেন্ট ছিলো, এখনো তাই। এখনো কিন্তু আমি সিগনিফিকেন্ট কাজই করি।

আমি খুব ধীর গতিতেই এগিয়ে চলছি, সূক্ষ্মভাবে। এক লাফে ২০ তালা উঠে যাওয়ার শখ নেই আমার। একটা উদাহরণ দেই, আমি যখন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগীতায় অংশ নিই, তখন প্রতিটা রাউন্ডেই আমি সবার থেকে এগিয়ে থাকতাম, ভালো করতাম। প্রতিটা রাউন্ডে ভালো করলেও অনেকের কাছে হয়তো আমার বেটারমেন্টটা সবার চোখে পড়তো না, কিন্তু যারা আমার চেয়ে কম বেটারমেন্ট; তাদের চোখে কিন্তু সেটা ধরা পড়তো। ব্যাপারটা ঠিক এরকম। সাংস্কৃতিক পরিবারে বড় হওয়া, সেই পরিবেশে বড় হওয়া আর অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করার কারণে আমার ভিত্তিটা স্ট্রং। একদিন সুবর্ণা মোস্তাফা আপু বলেছিলেন, ‘এক লাফে ২০ তালা উঠে গেলে সেটা সবার চোখে পড়বে, তার চেয়ে একটা একটা করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা উচিত।’

যার কারণে, আমি প্রতিদিন ছক্কা মারাতে বিশ্বাস করিনা। আমার আরামসে ক্রিজে ব্যাট করতে খুব ভালো লাগে। আমি খুব অল্প কাজই করি। তবে যেটা করি, কমিটমেন্ট ঠিক রেখেই করি। রোড আসলে সিগনিফিকেন্ট হওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু আমার কাজটা করে যাব ঠিকমত। অন্য হিসাব আমি বুঝতেও চাইনা।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত