ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪১

প্রিন্ট

লকডাউনেও কারখানা সচল রাখতে চান মালিকরা

লকডাউনেও কারখানা সচল রাখতে চান মালিকরা
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আজ। দুই দিন পর ১৪ এপ্রিল থেকে এবার সর্বাত্মক লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে, আসন্ন লকডাউন হবে আরো কঠোর। গণপরিবহনসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। তবে কঠোর ওই লকডাউনে কারখানা সচল রাখতে চান শিল্প-মালিকরা।

গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়। মার্চের মধ্যভাগ থেকে কিছু রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজ থেকেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্ত মেনে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা সচল রাখতে শুরু করেন কারখানা মালিকরা। অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রায় দুই মাস পর লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।

এর মধ্যেই আবারও দেশে শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ৯ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। একইসঙ্গে আরো কঠোর লকডাউনের পূর্বাভাস দেয়া হয় সরকার থেকে। এই পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার মালিকদের মধ্যে কারখানা সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। মহামারি পরিস্থিতিতে কারখানা পরিচালনার পূর্বাভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখতে চাইছেন তারা। অনেকে নতুন প্রণোদনার দাবিও তুলতে শুরু করেছেন।

রফতানিমুখী শিল্প সংশ্লিষ্ট মালিকরা বলছেন, সরকার এখন কঠোর লকডাউনের কথা বলছে। যদিও কোনো বিধিনিষেধ বা প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়নি এখনো। পোশাক খাতকে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখার দাবি তাদের।

শিল্প-মালিকদের দাবি, পরিস্থিতি এখন জটিল। এখনই সবকিছু বন্ধ করে শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়া হলে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ে।

এ বিষয়ে পোশাক শিল্প-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশগুলো আমাদের পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোতেও দেয়। আমাদের জানা মতে প্রতিযোগী দেশ কোনোটিই এখনো লকডাউনে যায়নি। সামনের দিনগুলো, বিশেষ করে ঈদের সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারকে আবেদন করে রাখতে চাই। নীতিনির্ধারণী মহল আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করবে, সে আশাবাদই আমরা জানিয়ে রাখতে চাই।

শিল্প-কারখানার ব্যবসার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে রফতানিমুখী শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন কেবল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সামনের দিনগুলোর ক্রয়াদেশ নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া গত আট-নয় মাসের রফতানি পরিসংখ্যান খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রয়াদেশ দিতে ক্রেতারা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেই বিবেচনা করছেন বাংলাদেশকে।

এদিকে রোজার ঈদের দুই মাস পরই আসছে কোরবানির ঈদ। সব মিলিয়ে বছরের এ সময়টাতেই চাপে থাকে কারখানাগুলোতে। যেহেতু ক্রয়াদেশ আছে, কাঁচামালও চলে এসেছে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কভিডের প্রথম ঢেউ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। আট-নয় মাস ধরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার দক্ষতা গড়ে উঠেছে শিল্প-মালিকদের।

অন্যদিকে কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশের বিপরীতে চলমান উৎপাদন নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হবে। এ মুহূর্তে শিপমেন্ট নিয়েও কারখানা মালিকরা কিছুটা চাপের মধ্যে আছেন। লকডাউনে কারখানা বন্ধ রাখলে আকাশপথে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। তবে আমরা চাই লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা সচল রাখার অনুমতি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে ওয়েল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ও সিইও এবং বিটিএমএ ও এফবিসিসিআই পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর টাস্কফোর্স গঠন করে কারখানা খোলা রাখা হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে। আজকের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি, সেদিন টাস্কফোর্সের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। আবারো যদি লকডাউনের কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারখানা বন্ধ রাখা হয় তবে পুরো খাতই একেবারে শেষ হয়ে যাবে। সরকারের প্রণোদনা বলি আর সহায়তার বলি কিছুই কাজে আসবে না। তাই সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ বস্ত্র, পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ খাতের কারখানাগুলোকে লকডাউনকালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতো খোলা রাখার সুযোগ দিলে আমাদের রফতানি খাত টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত