ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০২:৫৯

প্রিন্ট

করোনাকালে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে সামাজিক সংলাপের আহ্বান

করোনাকালে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে সামাজিক সংলাপের আহ্বান
সংগৃহীত ছবি।

জার্নাল ডেস্ক

কর্মক্ষেত্রে করোনা মহামারির আঘাত ২০২০ সালের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি ছিল। নিয়মিত বা অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। দেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সংগঠিত এবং অসংগঠিত শ্রমিকদের শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে করোনাকালে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে কার্যকর সামাজিক সংলাপের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছে আলোচকরা।

‘চলমান কোভিড-১৯ শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার: ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এই পরামর্শ দেন। তারা নিয়মিত ‘সামাজিক সংলাপ’ আয়োজনের কথা বলেন।

শনিবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লাগ (সিপিডি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত এই আলোচনা সঞ্চালনা করেন সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। অনলাইনে আয়োজিত এ সংলাপে সিপিডি'র নির্বাহী পরিচালক ড ফাহমিদা খাতুন ও বিলসের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান সূচনা বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। এই কার্যক্রমে ট্রেড ইউনিয়নের বিশেষ ভূমিকা আছে। বাংলদেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলো করোনাকালের সংকটে মানবিক ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নীতিগুলো ভবিষ্যতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই সংকটে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং আলোচনায় শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সঙ্কট থেকে পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সীমিত সাফল্য এসেছে। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অরক্ষিত অবস্থায় আছে। দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের আগ্রহ নিশ্চিত করতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও যৌথ বিবৃতি প্রয়োজন।

জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে শ্রমজীবী বয়স্ক জনগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে বঞ্চিত গোষ্ঠী এবং সাশ্রয়ী মূল্যের সামাজিক বিধানের আওতায় শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। সংলাপের বিশেষ অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম বলেন, শ্রমিক পর্যায়ের সমস্যা সমান গুরুত্বের সাথে শোনা ও কেন্দ্রীয় তদারকি কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন সংলাপে বলেন, সংগঠিত এবং অসংগঠিত সব শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা সরকারের নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শিরীণ আখতার, এমপি সংলাপে সামাজিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস এর উপদেষ্টা নাঈমুল আহসান জুয়েল বলেন, দেশে ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমিক আছেন। তাদের স্বার্থ রক্ষায় মালিক, শ্রমিক ও সরকার প্রতিনিধিদের উদ্যোগে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

সিপিডির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের কোষাধ্যক্ষ এবং এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সংলাপের সভাপতিত্ব করেন এবং সমাপনী বক্তব্যে বলেন, অংশগ্রহণমূলক সামাজিক সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব সরকারের।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত