ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ১০:২১

প্রিন্ট

লকডাউনে মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে যেসব ক্ষতি

লকডাউনে মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে যেসব ক্ষতি

Evaly

অনলাইন ডেস্ক

মোবাইলের নেশা কিন্তু ভালো নয়। বিশেষ করে এই লকডাউনের দিনগুলোতে সারাদিন হাতে মোবাইল নিয়ে ঘাড় নাচু করে চোখ স্ক্রিনে রাখলে নানা সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। ইতিমধ্যেই আপনি তা টেরও পেয়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে হাতের আঙুল আড়ষ্ট হয়ে পড়ছে, ঘাড় ঘোরাতে গেলেই রগে টান ধরছে, চোখ কড়কড় করছে, হাত তুলতে কষ্ট হচ্ছে; আরও কত কি!

দিনভর মোবাইল হাতে লকডাউন কাটালে যে কী মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে শরীরের জানেন?

১. একনাগাড়ে মোবাইলে কথা বললে ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।

২. মাইগ্রেন ও মাথা ব্যথার আশঙ্কা থাকে।

৩. অনবরত মোবাইলে মেসেজ বা সোশ্যাল সাইটে লেখালেখি করলেও হাতের কবজি ও আঙুলে ব্যথা হতে পারে।

৪. ব্রিটেনের হ্যান্ড ও এলবো সার্জন রজার পাওয়েল ও তা৫. র সহযোগীদের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, যারা দু’ঘন্টার বেশি সময় ধরে মোবাইলে টেক্সট করেন তাদের ‘টেক্সট ক্ল’ এবং ‘সেল ফোন এলবো’ নামে আঙুল ও কব্জির সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যার নাম ‘কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম’।

৫. অনবরত টেক্সট লেখার জন্য হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনি এবং মধ্যমা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয় বলে এই আঙুল দুটির কাছাকাছি থাকা স্নায়ুর উপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে শুরুর দিকে আঙুল অসাড় লাগে, পরের দিকে ব্যথা হয়।

৬. অনেকে কনুইয়ে ভর দিয়ে মোবাইলে টেক্সট করেন বা কথা বলেন। অতিরিক্ত সময় ধরে এমন করলে হাত, কাঁধ, ঘাড় ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।

৭. রাতের অন্ধকারে একনাগাড়ে মোবাইলের নীল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে ‘সিভিএস’ অর্থাৎ ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ অর্থাৎ চোখের জল শুকিয়ে গিয়ে বারে চোখের সংক্রমণ হয়, চোখ কড়কড় করে।

৮. ‘কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম’ হলে হাতের যন্ত্রণা প্রচন্ড ভোগায়। এ ক্ষেত্রে এলবো প্যাড ব্যবহার করার পাশাপাশি কনুইয়ে চাপ দেওয়া কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করায় হাড়ের আলনা নার্ভ অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সার্জারি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

৯. শুধু স্নায়ুরোগই নয়, এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে না এলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম নয়।

তাহলে উপায়?

এই সব সমস্যা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় ফোনের ব্যবহারে মাত্রা টানা। অবশ্য লকডাউনের সময় অন লাইন ব্যাঙ্কিং থেকে শেয়ার কেনাবেচা, কিংবা কাছের মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ সবের জন্যেই ভরসা মোবাইল। সে ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। যেমন:

১. যতটা সম্ভব ফোন স্পিকারে দিয়ে কথা বলুন।

২. সব আঙুল পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করুন।

৩. টানা ব্যবহারের ফাঁকে হাত ও আঙুল স্ট্রেচিং করে নেওয়ার মতো অভ্যাস বজায় রাখুন।

৪. শিশুর হাতে বেশি সময়ের জন্য মোবাইল দেবেন না।

আর এভাবে মোবাইল ব্যবহারে করলে সমস্যা কমবে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত