ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৫৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১৬

প্রিন্ট

এবার পদত্যাগ করছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্ট স্পিকার

এবার পদত্যাগ করছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্ট স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স-এর স্পিকার জন বার্কো। একই সঙ্গে তিনি এমপি পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে এই ইস্যুতে বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ৫ সপ্তাহের জন্য মুলতবি হওয়ার আগে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্পিকার জন বার্কো। তিনি বলেন, বলেন, দেশে আগাম নির্বাচন না হলে ৩১ অক্টোবরের আগেই তিনি সরে দাঁড়াবেন। ওই দিনই যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের (ব্রেক্সিট) চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, আমার ১০ বছরের স্পিকার পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এই দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রচুর ‘সম্মান ও সুযোগ সুবিধা’পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এসময় তিনি এমপির পদ থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

২০০৯ সালে প্রয়াত স্পিকার মাইকেল মর্টিনের স্থলাভিষিক্ত হন ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের সাবেক এমপি জন বার্কো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তবে সম্প্রতি ব্রেক্সিটপন্থীদের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন এই স্পিকার। এছাড়াও হাউস অব কমন্সে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা না রাখায় সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

এর আগে গত শনিবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে করছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড। পদত্যাগের কারণ হিসাবে তিনি কনজারভেটিভ দলের হুইপকে জানান, কনজারভেটিভ দলের মধ্যপন্থী এমপিদের যেখানে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেখানে তিনি থাকতে পারেন না।

গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ২১ বিদ্রোহ এমপিকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ওই ২১ টরি এমপিকে বরখাস্তের ঘটনাকে ‘শালীনতা ও গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ’হিসাবে বর্ণনা করে শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন চাকরি ও অবসরভাতা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাম্বার রুড ধরেই ।

এর আগে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি বছরের গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে থেরেসা মে’র মতো তিনিও সফল হতে পারছেন না। ইতিমধ্যে ব্রেক্সিট ইস্যুতে আনা তার একাধিক প্রস্তাব পার্লামেন্ট বাতিল হয়ে গেছে। এমনকি দেশে আগাম নির্বাচনের প্রচেষ্টাতেও সফল হতে পারছেন না বরিস জনসন। এই অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে ৫ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ফের শুরু হবে পার্লামেন্ট অধিবেশন।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত