ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৫১

প্রিন্ট

এই সুন্দরীর পরিচয় জানেন?

এই সুন্দরীর পরিচয় জানেন?
অনলাইন ডেস্ক

কোমর পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা চুল। চোখে এভিয়েটর সানগ্লাস। ফ্রেমে যে সুন্দরী তরুণীকে দেখছেন, তিনি কিন্তু কোনো মডেল নন। বরং প্রচণ্ড মারকুটে এক মহিলা। মেয়েরা তো বটেই, ছেলেরাও যার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেন না। ইনি আসলে একজন কুস্তিগীর।

ডব্লিউডব্লিউই-র রিংয়ে দাপানো প্রথম ভারতীয় মহিলা। নাম কবিতা দেবী।

১৯৮৬ সালে হরিয়ানার মালভিতে জন্ম কবিতার। তার আসল নাম কবিতা দালাল। কিন্তু কুস্তির রিং তাকে কবিতা দেবী বা হার্ড কেডি (কবিতা দেবীকেই সংক্ষেপে কেডি বলা হয়) নামে চেনে।

২০০৯ সালে ভলিবল খেলোয়াড় গৌরব তোমরের সঙ্গে বিয়ে হয় কবিতার। তাদের দীর্ঘ দিনের পরিচয় ছিলো। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান অভিজিতের জন্ম। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা গৌরব সশস্ত্র সেনা বলে কর্মরত।

ছেলের জন্মের পর পাওয়ার লিফটার কবিতা ভেবেছিলেন তিনি ভারোত্তলন ছেড়ে দেবেন। কিন্তু স্বামীর অনুপ্রেরণাই আবার ফিরে আসেন।

কবিতারা পাঁচ ভাই-বোন। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়া গেমস‌্-এ পাওয়ার লিফ্টিংয়ের ৭৫ কেজি বিভাগে সোনা জিতে বিশ্বের কাছে প্রথম পরিচিতি পান কবিতা। পাওয়ার লিফ্টিংয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন তিনি।

ওই বছরই সশস্ত্র সীমা বলের কনস্টেবল পদে চাকরিও পেয়ে যান কবিতা। সেখান থেকে দ্রুত পদোন্নতি হয়ে সাব-ইনস্পেক্টর হন। কিন্তু এই কাজে মন টিকছিল না তার। যোগ দেন গ্রেট খালির কুস্তির আখড়ায়।

দলীপ সিংহ রানা ওরফে দ্য গ্রেট খালি ডব্লিউডব্লিউই রিং দাপিয়েছেন বহু দিন। তার কুস্তির প্যাঁচে আন্ডারটেকারও কাহিল হয়ে গিয়েছিলেন। খালির কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার ডব্লিউডব্লিউই-র আঙিনায় পা দেওয়া।

২০১৭ সালে ভারতীয় ডব্লিউডব্লিউই কুস্তীগির হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কবিতা দেবী। সালোয়ার কামিজ পরে তিনি রিংয়ে উঠেছিলেন। তিনিই ছিলেন প্রথম কোনও মহিলা, যিনি এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরে কুস্তি লড়েন। রিংয়ে সব সময়ই সালোয়ার কামিজ আর কোমরে শক্ত করে ওড়না বেঁধে লড়েন কবিতা। এটাই তার ট্রেডমার্ক।

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা কবিতা ভীষণ ফ্যাশনেবল। হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা কবিতা আজ পুরোপুরি শহুরে আদবকায়দা রপ্ত করেছেন। ফি বছর ডব্লিউডব্লিউই-র থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা পান তিনি। কিন্তু তা বলে নিজের গ্রামকেও ভোলেননি। আজও সময় পেলেই চলে যান গ্রামে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত