ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৫৭

প্রিন্ট

ফাঁসির রায়ে কোরআনের যে উদ্ধৃতি দিলেন আদালত

ফাঁসির রায়ে কোরআনের যে উদ্ধৃতি দিলেন আদালত

জার্নাল ডেস্ক

রাজধানীর কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আসামিরা হলেন- আব্দুল করিম, স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তা ও তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যায় স্বামীর নির্মমতার ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আদালত রায়ে বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের যেসকল নিয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে সুসন্তান অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। সন্তানের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল হলো তার পিতা। আর স্ত্রী হলেন সহধর্মিনী, অর্ধাঙ্গীনী ও সন্তানের জননী। সেকারণে প্রত্যেক স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সম্মানের পাত্রী। স্বামীর নিকট স্ত্রীর রয়েছে বহুমাত্রিক অধিকার। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরীফে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ’। (সূরা: ২ বাকারা, আয়াত ১৮৭)।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এই মামলায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলো আসামি আ. করিম, যিনি নিহত শামসুন্নাহারের স্বামী ও সাজ্জাদুল করিম শাওনের পিতা। অথচ আসামি আ. করিম নিজের অসৎ উদ্দেশ্যের ও হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আসামি শারমিন আক্তার মুক্তা ও আসামি মো. আল আমিন জনির সঙ্গে পূর্ব পরিকল্পনা করে আসামি মো. আল আমিন জনিকে দিয়ে নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে নৃঃশংসভাবে হত্যা করিয়েছে। সে কারণে সকল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত মর্মে এই আদালত মনে করেন।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়, ইসলাম শান্তি ও সত্যের ধর্ম। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা মায়িদাহ এর ৩২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে ‘যে কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত কিংবা পৃথিবীতে কোনো ফ্যাসাদ সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। ’

এই অবস্থায় আদালত মনে করেন, মৃত্যুদণ্ডই এই আসামিদের উপযুক্ত ও একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত। সেহেতু এই আদালত সকল আসামিদের দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ ধারা ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমান করা হলো।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর কাকরাইলের পাইওনিয়র গলির ৭৯/১ নম্বর বাসার গৃহকর্তা আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন রাতে নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আব্দুল করিম, করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা, মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত