ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৫৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ১৮:১২

প্রিন্ট

হাশিম কিয়ামের কবিতা ‘শ্রাবণে নোনা বৃষ্টি’

হাশিম কিয়ামের কবিতা ‘শ্রাবণে নোনা বৃষ্টি’
জার্নাল ডেস্ক

বুড়িগঙ্গা আগের মতো—ই কলকল ধ্বনিতে বয়ে যাচ্ছিলো

সুন্দরবনে লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটচ্ছিলো পাল পাল হরিণ

ঢেঁকিতে লাগাতার পাড় দিচ্ছিলো কৃষাণীরা

মাঝিরা মাঝ নদীতে ভাসিয়ে ছিলো পালতোলা নাও আগের—ই মতো

যথারীতি একঝাঁক পাখির কলরবে মুখরিত হয়েছিলো রমনা পার্ক

কিন্তু,

শ্রাবণের নিশিতের আকাশে এক কালো সূর্য ওঠেছিলো

শরতের প্রথম প্রভাতে সেদিন ফুটেছিলো কালো

শিউলি ফুল, এখনো ফোটে, অঝোরে ঝরেছিল নোনা বৃষ্টি অঝোরে শ্রাবণজননী হেক্যুবার মতো কেঁদেছিলো, এখনো কাঁদে

আকাশ হ'তে তার অতি আদুরে আলোকিত ধ্রুবতারা খ'সে গেছে চিরতরে

না— হ্যালির ভয়ংকর ধূমকেতুর ঘুটঘুটে অন্ধকার

না— সর্বগ্রাসী কৃষ্ণগহবরের মহাভয়ংকার আঁধার

গ্রাস করতে পেরেছে একতিল আলো

কেমন ক'রে ঈশান কোণের কালবৈশাখীর কালোমেঘ গ্রাস করলো

নিরন্তর দীপ্তিমান সে নক্ষত্রের সব আলো! শুধুই সরলতা আর অগাধ বিশ্বাসভরা এক দরাজ হৃদয়হিমালয়

কোন ভূকম্পনে কেমনে ধ'সে পড়লো! সে বিশ্বাসের এ কেমন মূল্য দিলে!

কোটি কোটি দিকভোলা নাবিকের অফুরন্ত আশার বাতিঘর সে—বাতিঘরের সকল আলো নিভিয়ে দিয়ে অথৈ দরিয়ার

উত্তাল ঊর্মিমালার ঘূর্ণিপাকে কেমন ক’রে পারলে জাতির স্বপ্নতরী ডুবাতে!

সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদা চঞ্চল নিষ্পাপ একটি সুন্দর কুঁড়ি

বিকশিত হবার আগেই কেমন ক’রে কোন বুনো হাওয়ায় ঝ'রে গেলো!

কেমন করে সুবাস ছড়ানো প্রস্ফুটিত এক কানন ফুল

নির্দয়ভাবে ঝ'রে গেলো!

তাই কী ওগো শ্রাবণমাতা তোমার এখনো এই ক্রন্দন?

বটবৃক্ষের মতো শীতল ছায়াদানকারী

আকাশের মতো উদার মহীয়সী এক মা—জাতির অনুপ্রেরণা

আশ্রয়হীনের আশ্রয়দাতা

সারাটা জীবন ধ’রে জাতির জন্য নিজেকে উজাড় ক’রে দেওয়া অনন্যা এক জননী

হাজারো ঝড়—ঝঞ্ঝা যে বৃক্ষের একটি পাতা—ও কখনো ঝরাতে পারেনি

কেমনে সহসা কোন দমকা হাওয়ায় সে বৃক্ষখানি সমূলে উপড়ে গেলো!

তাই কী ওগো শ্রাবণমাতা তোমার এ আহাজারি?

কেন জনতার ঢল বিশ্বাসঘাতকদের গোপন ডেরা অনেক আগেই

আগুনে ভস্ম করে মহাকাশে উড়িয়ে দিলো না?

যে সাহসী সৈনিক প্রাণের প্রিয়তমাকে শেষ বিদায় জানিয়ে ছুটে এসেছিলো

কর্তব্য আর নির্ভেজাল ভালোবাসার টানে

কেন তার সাথে লাখো লাখো জনতা বন্দুকের নল

তুচ্ছ ক’রে অগ্নিমূর্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েনি?

কেন সেই ঐতিহাসিক মহাজনসমুদ্র আবার

চীনের মহাপাঁচিলের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়ালো না? তাই কী তোমার এই মর্সিয়া ওগো দরদী শ্রাবণজননী?

এখনো শ্রাবণের নিশিতের আকাশে কালো সূর্য ওঠে

এখনো শ্রাবণজননী অঝোরে ক্রন্দন করে

এখনো ঝরে নুনা বৃষ্টি, শরতের প্রথম প্রভাতে

এখনো কালো শিউলি ফুল ফোটে;

কে বলে তোমারা নেই? তোমারা আছো তোমরা থাকবে

যতো দিন এ— পৃথিবী টিকে থাকবে

তোমারা আছো কোটি কোটি পরাণের গহিন ভিতরে অগ্নিশিখার মতো চিরভাস্বর

কোটি কোটি হৃদয়ে অফুরন্ত প্রেরণা হ’য়ে তোমরা সদা বিরাজমান

কোটি কোটি কাননে ফুল হ’য়ে তোমরা ফুটে আছো সৌরভ ছড়িয়ে

তোমরা আছো জোছনা ফোটা রাতের উঠানে

খেটে—খাওয়া জনতার লাগাতার কিচ্ছার আসরে

যতো সব কবিগানে আর জারিগানে

মাঝ নদীর নায়ের সব মাঝির মন ভোলানো সারিগানে

শত শত সহস্র সরল শিশুর নিরন্তর সুমধুর খইফোটা হাসিতে

তোমাদের নামে যুগে যুগে যতো সব অনাগত কবি

র'চবে অমর পঙক্তিমালা।

এ—জাতি এগিয়ে যায়, দূর্বার গতিতে চলে-

সোনালি স্বপ্ন দ্যাখে

নিশ্চয় জাতির স্বপ্নতরী একদিন কাঙ্খিত তীরে ভিড়বেই ভিড়বে।

হাসেমুজ্জামান হাশিম কিয়াম, সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ ই—মেইলঃ [email protected]

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত