ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২০, ১৯:১২

প্রিন্ট

করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ

করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ
জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরী

সম্প্রতি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতিতে ধনী-দরিদ্র্যের মধ্যে বৈষম্যতা বেড়ে উল্কার বেগে ছুটছে। ফলে অনেক রাতকানা দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গভীরভাবে প্রচার করতে শুরু করেছেন যে, সাম্যবাদী সম সুযোগের সমাজ ব্যবস্থার সম্ভবত কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ‘কাল মার্কস ইজডেড’, বেইজিং-এর তেয়েনমেন স্কোয়ারে বিস্মৃত মাও সেতুং, হোচিমিন সিটির স্কোয়ারে শায়িত হোচি মিনহো। হাভানা স্কোয়ারের কোথাও নেই ফিডেল ক্যাস্ট্রোর ভাস্কর্য, তবু তার উপস্থিতি অনুভবনীয়, চুরুটবিহীন হাসিও আকর্ষণীয়। হাভানার বহু জায়গায় চে গুয়েভারা দৃশ্যমান, চিরতরুণ। কৃষক-শ্রমিকের লাল ঝাণ্ডা কি আর উড়বে না?

বিশ্ব পুঁজিবাদ হঠাৎ ভয়ানক ধাক্কা খেল এক অজানা, অদৃশ্য কিন্তু সর্বত্র বিরাজমান ক্ষুদ্র ভাইরাস নোভেল করোনা কোভিড-১৯ এর কাছে। প্রায় অজানা করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে ধাবড়িয়ে তুলোধুনো করেছে, ধনী, দরিদ্র, সৎ, দুর্জন, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ, আমলা, শিক্ষক, কৃষক, জনতাকে। কারো পালাবার পথ নেই। করোনাভাইরাস ছাত্র, শ্রমিক সবাইকে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে রাষ্ট্র ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় ফিরে আসবে তো?

প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন মূলকথা নয়, মূলকথা সুন্দর জীবন-জীবিকা এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও সমসুযোগ। যার অনুপস্থিতির কারণে কি করোনাভাইরাসের প্রতিশোধমূলক প্রয়াস যার থেকে কারো রক্ষা নেই? ফরাসি মার্কসীয় অর্থনীতিবিদ টমাস বেকেটি কি ভাবছেন? নাক-মুখে রক্ত সঞ্চার স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, বরঞ্চ মৃত্যুর সিগন্যাল। অন্যায় লুঠেরা মুৎসুদ্দি শ্রেণি আজ সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্যের কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবার তাদের কোনো পথ খোলা নেই। উন্নয়নের স্বপ্নের রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা হঠাৎ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন, চোখে অন্ধকার দেখছেন। অন্ধকার রুমে কালোবিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুক্তি যেন সূদুরপরাহত।

ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র

তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ চীনের উহানকে ছাড়িয়ে গেছে, শিল্প ও স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি বিপর্যস্ত। কেবলমাত্র সুষ্ঠুভাবে চালু আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী, সিএমএইচ এবং কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইঝগগট হাসপাতাল সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য ব্যয় বিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার আলাপ নাই বা হলো। দেশের প্রায় ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (UAFWC) ১০% ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন ডাক্তারও সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান দূরে থাকুক, নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ঝড় উঠবে সেখানে। অর্থনীতির সংবাদ আরো দুর্বিষহ।

বোমা ফুটিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)- দরিদ্রতার হার ২০% থেকে বেড়ে ৩২% হবে। উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ তিতুমীরের হিসেবে এই বছরই বাংলাদেশে দারিদ্রতা বেড়ে ৪২-৪৩% পৌঁছবে। ভয়ানক তথ্য, হিসাবে খুব ভুল নাও হতে পারে।

উহানে করোনার ঢেউ দেখে এসএ টিভির মার্চের (২০২০) টকশোতে আমি বলেছিলাম, ‘ঝড় আসছে, হাসপাতাল সামলান, ভেন্টিলেটর নয়, বেশি প্রয়োজন নেবুলাইজার ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ’ এবং ‘একমাসের মধ্যে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেয়া কয়েক হাজার সার্টিফিকেটধারী আবেদন চিকিৎসক (Anesthetist) যারা ভেন্টিলেটর চালাবেন, ইনটুবেশন করবেন এবং যাদের শ্বাসনালী (ট্র্যাকসটমী) দ্রুত কেটে বাতাস প্রবেশের দক্ষতা থাকবে’। মূল সমস্যায় নজর না দিয়ে কোভিড চিকিৎসার চিকিৎসক ও সেবিকাদের ৩-৫ তারকা হোটেলে থাকা নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হলো। প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে লেনদেন করা হলো। দুর্নীতির প্রশ্রয় দেয়া হলো, সেবা নিশ্চিত করা হলো না। নিবেদিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান দেয়া হলো না।

বার বার অনুরোধ করা শর্তেও একবারও সর্বদলীয় রাজনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হলো না। প্রধানমন্ত্রী আপনার এত কঠোর পরিশ্রম, সজাগ দৃষ্টি, দেশের জন্য পিতার ন্যায় অফুরন্ত ভালোবাসা দেশের জন্য পুরো সুফল আনছে না কেন, ভেবে দেখেছেন কি? দেশবাসী আপনাকে ভালোবাসে, তারা আরো একজনকে ভালোবাসে, তিনি খালেদা জিয়া। তিনি আপনার সমতুল্য না হলেও দেশের কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য আপনার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রয়োজন, অতীতের ন্যায় মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। তার সুস্থতা কামনা করে আসুন, দুজনে মিলে জনকল্যাণকর সুশাসিত গণতান্ত্রিক আনন্দের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন।

অতর্কিত করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশে কয়েকজন মন্ত্রীর উক্তি বৈসাদৃশ্য। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রবাহ হবে ভয়ানক যা দ্বারপ্রান্তে অথচ আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের উন্নয়ন অন্বেষণ ২০২০-২১ বাজেট সম্পর্কিত তত্ত্ব্ব-উপাত্ত আলোচনায় দেখিয়েছেন যৌক্তিক প্রবৃদ্ধি ৪.২% এর অধিক সম্ভব নয়, উৎপাদনশীল জিডিপি কমবে ১২.৪%, প্রবাসী রেমিটেন্স আয় কমেছে, কয়েক দেশে প্রবাসী অভিবাসী বাংলাদেশিদের কর্মচ্যুতি ঘটেছে। ১৭৪টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের এক কোটি বিশ লাখ অভিবাসী কাজ করেন, সেখানে কর্মসংস্থান বাড়ছে না, বরঞ্চ কমছে এবং পোশাক শিল্পের আয় স্থবির হয়ে পড়েছে, নীরব ছাঁটাই চলছে, শিক্ষায় সবার সমান সুযোগ নেই, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৯৬ লাখ পরিবার। প্রাপ্তির সংগে আছে দুর্নীতির উইপোকা, বেকারত্ব বাড়ছে ৩% হারে, অসহায়ত্ব শিক্ষিত বেকারদের।

২০২০-২১: দুঃসময়ের বাজেট কিন্তু আলোচনায় উত্তাপ নেই

দুঃসম গতানুগতিক বাজেটে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ অবসৃত থাকে, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে কর্মদক্ষতায় ও প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়ছে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা। একনাগাড়ে ২০ দিন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের অতুলনীয় সেবা ও জনগণের ক্রমাগত দোয়ায় করোনামুক্ত হয়ে সরাসরি গত ১৪ই জুন বনানী কবরস্থানে গিয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সতীর্থ নাসিমকে শেষ অভিবাদন জানাতে। তখন রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব চলছিলো। শহীদ তাজউদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর কবর জেয়ারত না করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ফিরে গেলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাউকে দোয়া করতে দেখলাম না। অধিকাংশ রাজনৈতিক কর্মীরা জানে না বনানী কবরস্থানে শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী প্রবাসী সরকার। কী দুর্ভাগ্য জাতির।

১) দুঃসময়ের বাজেট নিয়ে আলোচনার উত্তাপ নেই। দেশের এতজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ব্যাংকার, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী বা রাজনীতিবিদ কেউ সাহস করে সত্য কথা জনসাধারণকে জানাচ্ছেন না।

২) বিএনপি তাদের স্ট্যান্ডিং ও উপদেষ্টা কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিবিড় ভাবে পড়ে, অধ্যয়ন করে একাধিক আলোচনা-সমালোচনা করে মননশীল সুষ্ঠু সুপারিশ সরকারকে জ্ঞাত না করে ভুল করছেন। দেশকে তো বাঁচাতে হবে। এটা কেবল হাসিনার দায়িত্ব নয়, খালেদা জিয়ারও।

৩) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন কেন? সুচিন্তিত বাগ্মিতার সংসদ উত্তপ্ত রাখুন, ভয় পাবেন না, নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। সংখ্যার চেয়ে সাহস বড়।

৪) এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকলে বাজেটের প্রতি ওঃবস পড়ে বুঝে উপযুক্ত সমালোচনা উন্মুক্ত করতেন, জি এম কাদেরের মতো গৃহপালিত প্রাণীর আচরণ করতেন না। জি এম কাদের অনুগ্রহ করে হুক্কা হুয়া করা বন্ধ করুন। জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আপনার অনেক কাজ বাকি।

৫) জনাব ওবায়দুল কাদের অনুগ্রহ করে মুখ বন্ধ রাখেন, বিরোধীদলীয় সকল সমালোচনার উত্তর দিতে হয় না, এটা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থমন্ত্রীকে উত্তর দেয়ার সুযোগ দিন। বাজেট অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব, আপনার নয়।

৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সর্বদলীয় রাজনৈতিক সভা ডাকুন, বিপদ মুক্তির বাজেট উদ্ভাবনের জন্য। নতুবা কোনো লাভ হবে না। দেশের না দেশবাসীর, ওষুধের দাম কমবে না, কৃষক-শ্রমিক তার শ্রমের ন্যায্যমূল্য পাবে না, আইসিইউ (ওঈট) প্রতারণা বাড়বে, মৃত্যুর পরও চিকিৎসার বিল দিতে হবে, ফড়িয়ারা রাজত্ব করবে, শহরবাসী অত্যধিক মূল্যে ফলমূল, শস্য কিনে প্রতারিত হবেন। স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য অব্যাহত থাকবে, ক্ষুধা দারিদ্র্য বাড়বে, সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতি। মুখ থুবড়ে পড়বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। পরিশোধতব্য সুদ ২০২০-২১ বাজেটে:

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাপ্য বিদেশি ঋণের সুদ এবং পিপিপি (Public Private Partnership) ভর্তুকি ও দায়বদ্ধতা পরিশোধ করতে ১০০৪১১ (এক লাখ চারশত এগার) কোটি টাকা প্রয়োজন যা ২০২০-২১ বাজেটের মোট বরাদ্দের ১৭.৬৮%। খাদ্য, দুর্যোগ, কৃষি, পানিসম্পদ ও স্থানীয় সরকারের মোট বরাদ্দের ১৩.৩৬% চেয়ে ২৫০০০ কোটি টাকা বেশি। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ মাত্র ৭৯৯৪১ কোটি যা বাজেটের ১৪.২৫%। স্মরণতব্য ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজন ১৭.৬৮% বরাদ্দ। সংসদে এই সম্পর্কে প্রশ্ন না উঠা দুর্ভাগ্যজনক। পরিশোধতব্য বিদেশি ঋণের বিষয়টি জনসাধারণের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবর্গের ব্যর্থতা রাজনীতিতে তাদের অপরিপক্বতার পরিচায়ক এবং দুঃখজনক।

বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মাথাভারী, নিত্যনতুন সিনিয়র সচিবের জন্ম হচ্ছে, বাজেটের মোট বরাদ্দের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জনপ্রশাসনে। ভোটার বিহীন নির্বাচনের জন্য এনাদের উর্বর মস্তিষ্ক খুব কার্যকর।

শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও ভালোবাসা:

দলমতনির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক কর্মী এবং গ্রামগঞ্জের সাধারণ কৃষক- শ্রমিকের জন্য ছিল শেখ মুজিবুরের অফুরন্ত ভালোবাসা, তার হৃদয়ের দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া, কৃষক-শ্রমিক সন্তানের শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল তার জীবনের ব্রত। সবাই তার একান্তজন, আত্মীয়তুল্য। যাকে একবার শেখ মুজিব দেখেছেন, তাকে তিনি স্মরণ রেখেছেন স্নেহডোরে। কেন্দ্রিকতা তাকে করাচি ও ইসলামাবাদের শাসনের কথা বারে বারে স্মরণ করিয়েছে নির্মমভাবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রিকতা পূর্ব পাকিস্তানবাসীর সমসুযোগও সম উন্নয়নের ছিল প্রধান বাধা, কেন্দ্রিকতা যানজট, শাসনজট ও সময়মতো স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চনার নির্মম মাফিয়া শাসন। পাকিস্তান ভাঙার অন্যতম কারণ কেন্দ্রিকতা দুর্নীতির সোপান। ধর্মের অপব্যবহার এবং কেন্দ্রিকতা দুর্নীতির সোপান। মুখে রক্ত সঞ্চারের মতো। শহরের সকল সুযোগ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন শেখ মুজিব গ্রামবাসীদের জন্য, সঙ্গে নির্মল বাতাস ও লোকজ সংস্কৃৃতির বিস্তার।

তৃণমূলের অধিকার আদায় ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৭ই জুলাই। আগস্ট মাস অবধি চলছিল গভর্নরদের প্রশিক্ষণ। তিনি বুঝেছিলেন, পূর্ব পকিস্তানে শিল্প নেই কিন্তু ব্যাপক কৃষি সম্ভাবনা আছে। আছে শিল্পের উৎপাদন সৃষ্টির, তাই কৃষি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার বাহন, পদ্ধতি হবে ইউরোপীয় সমবায় ব্যবস্থাপনা, মেজর খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফকে ইউরোপে পাঠিয়ে ছিলেন সমবায় পদ্ধতি অবলোকন ও অধ্যয়নের জন্য। উদ্যোগ নিয়েছিলেন মৌলিক সংস্কারের যা আজও অসম্পূর্ণ।

দ্রুত বিপদ মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি সরকারি বিনিয়োগ করতে হবে বেসরকারি কৃষি উৎপাদনে, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তদারকিতে উদ্বৃত্ত হয়ে ফিরে আসবে সকল বিনিয়োগ। ব্যাংক খেলাপির ঝামেলায় ঘুম হারিয়ে যাবে না। শিল্পপতিদের বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু কৃষককে বিশ্বাস করা যায়, তারা মিথ্যাচার কম করেন। কারণ তারা ধর্মে বিশ্বাসী ও নীতিবান, তাদের ক্ষুধা সীমিত। মৎস্য, পানি সম্পদ, পোলট্রি, স্বাস্থ্যসেবা, ডেইরি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন নির্ভাবনায়। ইওউঝ (বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস) ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সজারু তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে সঠিক নিবন্ধন, সঠিক কৃষককে সময়মতো ঋণদান, সময়মতো দুর্নীতিমুক্ত ঋণপ্রাপ্তি। সঙ্গে রাখুন ঘএঙ দের, তারা তৃণমূলে সম্পৃক্ত এবং পরিশ্রমী, ক্ষুদ্রঋণ দ্রুত প্রসার করে নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্রাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ‘আশা’র শফিকুল হকের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। স্থানীয় শাসন কমিশন ও গভর্নর নিয়োগ দান

১. বৃৃহত্তর জনসাধারণের কল্যাণই রাজনীতি। সঠিক সময়ে নির্ভয়ে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন নিঃস্বার্থ রাজনৈতিককর্মীকে মাথা উঁচু করে থাকা রাজনৈতিক নেতায় উন্নীত করে, ইতিহাসে স্থান করে দেয়। প্রাণপ্রিয় নেতার অসমাপ্ত কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক স্বনির্বাচিত, স্বশাসিত ৬৪ জেলা স্টেট (District State) সৃষ্টির লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে কমিশন গঠন করুন, ৬৪ জন গভর্নর নিযুক্তি দিন তৃণমূল রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা, বিচারক- বিচারপতি, দানশীল ব্যবসায়ী, প্রখ্যাত সাংবাদিকদের মধ্য থেকে। ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কেন্দ্র ও জেলা স্টেটে প্রশাসনিক সামঞ্জস্য থাকবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে দ্রুত উন্নয়ন হবে কিন্তু দুর্নীতি বহুলাংশে কমবে, সমঅধিকার ও সমসুযোগ সৃষ্টি হবে, জবাবদিহিতা থাকবে, সুখের পায়রার বক বকুম শুনতে হবে না, জনপ্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিকভাবে নিজ জেলা স্টেটে সপরিবারে অবস্থান হবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের বেলাতেও এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। তাদের সন্তানদের স্ব স্ব জেলা স্টেটে অধ্যয়ন করতে হবে স্থানীয় কৃষক শ্রমিকের সন্তানদের সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে। দুই জায়গায় পরিবার রাখা মানে দুর্নীতিতে সজ্ঞানে অংশগ্রহণ, কর্তব্যে অবহেলা ও স্থানীয় উন্নয়নে মনোযোগ না দেয়া। স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে দু’টি প্রশাসন ক্যাডার সৃষ্টি বিবেচ্য হওয়া উচিত- বৃহৎ জেলা স্টেট ক্যাডার এবং সীমিত কেন্দ্রীয় প্রশাসন ক্যাডার। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, বনাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি, আকাশ, সমুদ্রপথ, আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়কর ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। পুলিশ হবে জেলা স্টেট সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কোটা নয় প্রতিযোগিতাই হবে প্রশাসনের প্রবেশ পথ। বয়স সময়সীমা অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বয়সসীমা বিবেচ্য হতে পারে, স্বাভাবিক প্রশাসনে অহেতুক দুর্নীতি সৃষ্টি করে, সকল কর্মচারী কর্মকর্তাদের অবশ্যই ধুমপান, পান সেবন ও মাদক আসক্তিমুক্ত হতে হবে, এগুলো দুর্নীতির প্রথম ধাপ। সকলের আয়কর তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক।

স্থানীয় শিক্ষিতদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে জেলা প্রশাসনে, কৃষি উৎপাদন সমবায়ে এবং কৃষি বাজারজাত সমবায়ে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ হবে। কমিউনিষ্ট ও বাম রাজনৈতিক নেতারা তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার পুরস্কার অর্জন করতে পারবেন কোনো না কোনো জেলা স্টেটে, তাদের শাসনের ধরন নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে। নির্মল পরিবেশে আধুনিক শিক্ষা সংস্কৃতির নতুন শহর গড়ে উঠবে জেলা স্টেটে, কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকার সমমানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা, সঙ্গে মুক্ত চিন্তার সংস্কৃতি ও বৈচিত্রময় লোকশিল্প নিয়ে। শান্তির দ্বীপ হবে সব জেলা স্টেট, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীর জীবনযাত্রা হবে নিরন্তর নিরাপদ ও আনন্দময় এবং সম্পত্তিতে সমান অধিকার। জনসংখ্যাভেদে প্রতিজেলা সংসদে ৪০ থেকে ৮০ জন বিধায়ক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জনের মন্ত্রিসভা, প্রশাসনের শীর্ষে গভর্নর। কেন্দ্র নিয়োগ দেবে জেলা হাসপাতালের বিশেজ্ঞদের জেলা স্টেটের সিভিল সার্জনের পরামর্শে, কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সকল চিকিৎসক, সেবিকা ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের নিয়োগ উন্নয়ন নির্ধারণ করবেন জেলা স্টেট (District State) কর্তৃপক্ষ। ২. ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সুবিধা ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা অসম্পূর্ণ ও অকল্পনীয়। করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মূল ভূমিকা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও সেবিকারা মূল সেনানী। এখানে বিনিয়োগ হবে অর্থবহ এবং অবশ্য প্রয়োজনীয়। কেবল যন্ত্রপতি ক্রয় নয়, যন্ত্রপাতির সহায়তায় সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই লক্ষ্য। চিকিৎসক ও সেবিকাদের জ্ঞান ও সেবার উন্নয়ন হবে করোনা ও অন্যান্য মহামারি থেকে আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র।

আগামী ১০-১৫ বৎসরে একটি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা পৌঁছবে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০। জনগণের চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ৬ ফুট উঁচু, ৮০০ অধিক রানিং ফুটের নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলকূপ ও ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা, সঙ্গে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালকের জন্য ১০০০ বর্গফুটের বিনা ভাড়ায় পারিবারিক বাসস্থান, মেট্রন, একজন দন্ত চিকিৎসক, একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট, একজন ফার্মাসিষ্ট, দুইজন নবীন চিকিৎসক ও দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য ৬০০ বর্গফুটের ৮টি ফ্রি বাসস্থান, মেডিকেল, ডেন্টাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপী ছাত্র ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ক্লাসরুম, লাইব্রেরী, বিনোদন কক্ষ, ডাইনিং রুম, টয়লেট সুবিধাসমেত ৪৫০০ বর্গফুটের ডরমেটরি এবং ২০ শয্যার ইনডোর হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার, প্যাথলজি, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ছোট অপারেশন কক্ষ বাবদ ৫০০০ বর্গফুট স্থাপনা হবে জনগণকে দেয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য সুবিধা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রমাণ।

যেসব চিকিৎসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (UHFWC) সম্ভব হবে না সেগুলো রেফার হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকগণ কমিউনিটি ক্লিনিকেও প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাইদের ক্রমাগত আধুনিক চিকিৎসা তথ্য জ্ঞাত করাবেন। তদুপরি তারা মেডিকেল ও অন্যান্য ছাত্রদের শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন যার জন্য একটা শিক্ষকতা ভাতা (Teaching Allowance) পাবেন। তিনমাস মেয়াদী কোনো একটা সার্টিফিকেট অধ্যয়ন ও পরীক্ষা দিয়ে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদে উন্নীত হবেন। কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ও পরিশ্রম ভাতা পাবেন। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান সুবিধা পাবেন। গ্রামবাসীদের নিরন্তর চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য চিকিৎসকদের জন্য জনগণের পুরস্কার।

সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজকে এক বা একাধিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (UHFWC) সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা শিক্ষাদানের প্রধান হাতিয়ার। ৩. স্বাস্থ্যখাতের অন্য মৌলিক সংস্কার: প্রায় একলাখ ব্যক্তি কারাবন্দি আছেন, জেল হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়া এবং চিকিৎসক স্বল্পতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আমলা ব্যবসায়ীদের, ভরসা সামরিক বাহিনীর হাসপাতাল সিএমএইচ (CMH),সকল কারাগার, পুলিশ, অন্যান্য আইন শৃংখলাবাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড, হাসপাতালসমূহ সরাসরি Army Medical Corps (AMC) কর্তৃক পরিচালিত হলে শৃংখলা ফিরে আসবে, চিকিৎসকের অভাব হবে না। অগঈ হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সকল চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ানদের পদবী হবে সামরিক বাহিনীর- অগঈ র। তারা সুযোগ সুবিধা বেশি পাবেন। তাই তাদের কাজে থাকবে প্রশান্তি ও আনন্দ এবং সময়মতো পেশাতে অগ্রগতি।

বেসামরিক অনেক সরকারি হাসপাতাল বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে AMC চিকিৎসকদের দ্বারা। আইন শৃংখলা বাহিনীর সকল সদস্য ও পরিবারবর্গ সামরিক বাহিনীর সমান সুযোগ পাবেন। সামরিক বাহিনীর মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরতরা এমবিবিএস পাস করে ৫ বৎসর অগঈ তে চাকরি করতে বাধ্য থাকবেন, নতুবা ক্ষতিপূরণ দেবেন ত্রিশ লাখ টাকা।

৪. ঢাকা শহরে জেনারেল প্রাকটিশনার্স ও রেফারেল পদ্ধতির প্রবর্তন

ঢাকা শহরে ১০০ ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেটে জেনারেল প্রাকটিশনার্স (GP) ও রেফারেল পদ্ধতির জন্য ২০০০ (দুই হাজার) কোটি টাকা বরাদ্দ দিন। ২ কোটি নগরবাসীর জন্য খুব বেশি বরাদ্দ নয়। ঢাকা শহরের সকল জেনারেল প্রাকটিশনার্স সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে লিপিবদ্ধ নাগরিকরা বিনা ফিতে পরামর্শের পাশাপাশি ইসিজি, আম্বুবেগ, অক্‌্িরজেন- পালস অক্‌্িরমিটার ও নেবুলাইজার সুবিধা, ফার্মেসী, ছোট ল্যাব, এএনসি-পিএনসি ও ফিজিওথেরাপী সুবিধা পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত থাকছে স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম ও হোমভিজিট বাড়িতে যেয়ে রোগী দেখা এবং প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অপচয় বটে, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে।

রোগীরা ন্যায্যমূল্যে সরকারি ওষুধ কোম্পানী ইডিসিএলের (EDC) সকল ওষুধ পাবেন অল্প খরচে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল রোগী বিনা ফিতে চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন, বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন সরকারি নির্ধারিত একটা ন্যায্য ফি’তে। কেবলমাত্র জিপি চিকিৎসকগণ রোগীদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে অধিকতর চিকিৎসার জন্য রেফার করতে পারবেন, রোগীর হয়রানি কমবে। (GP) এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পেশা সংক্রান্ত সম্পর্ক গভীর হবে। হোম ভিজিট করলে অতিরিক্ত ফি পাবেন। ফলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে।

কতক জেনারেল প্রাকটিশনারগণ নিকটবর্তী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন আনন্দের সঙ্গে, পাবেন শিক্ষকতা ভাতা। সঙ্গে তার পছন্দমতো বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ করে, পরীক্ষায় পাস করে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদও পাবেন, সঙ্গে আনুমানিক ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকার অতিরিক্ত ভাতা।

৫. পুষ্টি ব্যতীত স্বাস্থ্য অকল্পনীয়

দেশে দুই কোটি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে করোনা উদ্ভুদ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ছয়মাস ফ্রি রেশন দেয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। ৪-৬ জনের পরিবারের জন্য প্রতিমাসে চাল ২০ কেজি, আটা ৫ কেজি, আলু ১০ কেজি, সরিষার তৈল ১ লিটার, সয়াবিন তৈল ১ লিটার, পিয়াজ ১ কেজি, মশুর ডাল ২ কেজি, আদা ২০০ গ্রাম, রসুন ২০০ গ্রাম, শুকনো মরিচ ২০০ গ্রাম, লবণ ১/২ কেজি, চিনি ১/২ কেজি ও সাবান ২টি সহ মোট খাদ্য প্যাকেট ব্যয় হবে অনধিক দুই হাজার টাকা। ফ্রি খাদ্য রেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের মাসিক ব্যয় মাত্র ৪০০০ কোটি টাকা। খাদ্য গুদামে স্থান বাড়বে যা কৃষকের শস্য উৎপাদনে আকর্ষণ বাড়াবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিমাসে প্রতি পরিবারকে আরো দিতে হবে দুই কৌটায় দুইশত আয়রণ টেবলেট, ৬০ মিলিলিটারের এক বোতল পারাসিটামল সাসপেনশন, ৩০টি ৫০০ মিলিগ্রামের পারাসিটামল ট্যাবলেট, ১০০ মিলিটার ক্লোরহেক্‌্রাডিন এবং ৫টি ঙজঝ সাসেটস, এতে ব্যয় হবে মাসে অনধিক ২০০ টাকা। সঙ্গে উঠানে সবজি চাষে সহযোগিতা। গর্ভবতী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের প্রতি সপ্তাহে একবার দুধ, ডিম খাবার সুবিধার জন্য মাসে ৫০০ টাকা নগদ সহযোগিতা দেয়া কাম্য হবে। স্মরণ রাখতে হবে নগদ অনুদান অধিকতর দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। সুতরাং নগদ অনুদানের পরিমাণ যথাসাধ্য কম রাখতে হবে। খাদ্য সহযোগিতা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে, সর্বদলীয় রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র ও ঘএঙদের সহায়তায়, সঙ্গে থাকবেন সামরিক বাহিনীর দেশপ্রেমিক সেনানীরা।

৬. অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস সামাজিক বৈষম্য নিরসনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

ক) নতুন সিনিয়র সচিব নয়

নিত্য নতুন সিনিয়র সচিব সৃষ্টি কাম্য নয়, কোনো আমলাকে চাকরিতে এক্সটেনশন দেয়া অনভিপ্রেত। এরা রাজনীতিবিদদের প্রতিপক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন বিরোধী, সুখের পায়রা, জনগণ বিচ্ছিন্ন। জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি এবং জবাবদিহিতা বিহীন প্রশাসনে এদের বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।

খ) সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কর্পোরেট কর্মকর্তাদের বেতন হ্রাস

ইন্সপেক্টর থেকে ওএচ, ক্যাপ্টেন থেকে জেনারেল, সেকশন অফিসার থেকে সিনিয়র সচিব, লেকচারার থেকে উপাচার্য, করপোরেট কর্মকর্তা, ব্যাংকার, বিচারক থেকে বিচারপতি, সাংসদ, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের আগামী এক বৎসর ২০% বেতন ও ভাতা হ্রাস করা হবে করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য এবং দেশের সার্বিক অধিক অবস্থার বিবেচনায় যৌক্তিক কার্যক্রম। একশ্রেণির নাগরিক তারা প্রাচুর্যে জীবন-যাপন করবেন আর শ্রমিকরা অর্ধাহারে কালাতিপাত করবেন, তা সভ্য নয়।

গ) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের টিউশন ফি ২৫% হ্রাস

বাঞ্ছনীয়।

ঘ) বিদেশে সরকারি অর্থে চিকিৎসা সুবিধা রহিতকরণ

সরকারি অর্থায়নে বিদেশে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন না সাংসদ, মন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো নাগরিক। নিজ দেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

ঙ) ক্ষতিপূরণ ব্যাতিরেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কুইক রেন্টাল ২০২০ বাজেট থেকে প্রত্যাহার, দেশবাসী আর কতদিন ব্যবসায়ীর হাতে প্রতারিত হবেন। মেগা প্রকল্পের লাগাম কিছুদিন ধরে রাখুন।

চ) জনপ্রশাসন (আমলাতন্ত্রের) বিভাগের ব্যয় ৫০% হ্রাসের ব্যবস্থা নিন।

ছ) প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল ঠওচদের নিরাপত্তা ব্যয় ৫০% কমানো হলে পুলিশ ও এলিট ফোর্সের সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অধিক মনোযোগ দেবার সুযোগ পাবেন, খুন

খারাবি কমবে এবং রাহাজানী, ছিনতাই, পথে ঘাটে যৌন নিপীড়ন হ্রাস পাবে, সফলতার জন্য পুলিশ পুরষ্কৃত হবেন। পুলিশ হবেন জনগণের সত্যিকারের বন্ধু।

জ) মাদ্রাসা শিক্ষায় এতবেশী বিনিয়োগ কি পর্যাপ্ত “ডিভিডেন্ট” দিচ্ছে? অধিক হারে মসজিদ ভিত্তিক বেকার সৃষ্টি নয় কি? বিজ্ঞান শিক্ষাকে যুক্ত করে সকল সম্প্রদায়ের জন্য মাদ্রাশা শিক্ষা উন্মুক্ত থাকবে। মসজিদকে কি প্রাক স্কুল হিসাবে ব্যবহার করা যায়?

ঝ) ব্যয় হ্রাসের অজুহাতে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই চলবে না।

৭. রাষ্ট্রের আয়বৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক

ক) নগণ্য নিবন্ধিত আয়কর দাতা

দেশে বর্তমানে মাত্র ২২ লাখ ব্যক্তি আয়কর নিবন্ধিত আছেন। এটা হতে হবে কমপক্ষে ১ কোটি। ফেরিওয়ালা, নিরাপত্তা প্রহরী. চাওয়ালা, ছোট দোকানদার, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কার ড্রাইভার, বেবী ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ফুটপাতের ফল ও হোটেল মালিক, সিগারেটের দোকানদার, সবজিওয়ালা, সরকারি বেসরকারি নিম্নশ্রেণির কর্মচারী, কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষক, অনভিপ্রেত কোচিং সেন্টার মালিক সবাইকে নিবন্ধিত হতে হবে। গৃহকর্মীদেরও নিবন্ধিত হতে হবে তবে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ফি দেবেন গৃহকত্রীরা। বাৎসরিক নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকার, বিনিময়ে পাবেন পুলিশের হয়রানি থেকে রক্ষা এবং ব্যাংক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জেনারেল প্রাকটিশনার্স (GP) পরামর্শ ও ফ্রি স্বাস্থ্য সুবিধা, কতক ওষুধ ও বড় হাসপাতালে পূর্বাহ্নে নির্ধারিত রেফারেল সুবিধা। সরকারের আয় বাড়বে এক হাজার কোটি টাকা।

খ) আয়করমুক্ত করসীমা: ৫ লাখ টাকা আয়করমুক্ত করসীমা ৩.৫০ লাখের পরিবর্তে ৪.৫ লাখে নির্ধারণ করুন, বয়োবৃদ্ধ ও বিধবাদের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা। বয়োবৃদ্ধদের ব্যক্তি স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় অত্যাধিক, যৌক্তিক আয়কর হবে ৫% থেকে ৩০%। ব্যাংক ও কর্পোরেট ট্যাক্স ন্যূনতম৪৫ % নির্ধারিত থাকা বাঞ্ছনীয়। সঙ্গে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ শর্তও থাকবে।

গ) সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুল এবং প্রসাধনীর মূল্য বৃদ্ধি

স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, পরিবেশের জন্য অমঙ্গলকর ধূমপান, জর্দা, পান সেবন, মাদকাসক্তি অপ্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর প্রসাধনী উৎপাদন ও বিপণন হ্রাস করার জন্য ১০০% শুল্ক ধার্য যৌক্তিক উদ্যোগ। নিম্ন স্তরের প্রতিশলাকা সিগারেট ১৫ টাকা (১০০% সম্পূরক শুল্ক সহ) মাধ্যম শ্রেণির প্রতি শলাকা ২৫ টাকা এবং উচ্চ স্তরের প্রতি শলাকা সিগারেট ৫০ (পঞ্চাশ টাকা) এবং ফিল্টারবিহীন প্রতি ১০ শলাকার বিড়ির প্যাকেট মূল্য হবে ৫০ টাকা (সম্পূরক শুল্ক সহ), ফিল্টারযুক্ত ১০ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের মূল্য ৬০ (ষাট) টাকা নির্ধারণ করুন, নাগরিকদের ক্ষতি কমবে, পরিবেশ উন্নত হবে এবং সরকারের আয় কমপক্ষে কয়েক হাজার কোটি বাড়বে। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের মূল্য (সম্পূরক শুল্কসহ) যথাক্রমে ১২০ টাকা ও ১০০ টাকা ধার্য করুন।

একইভাবে লিপস্টিক ও অন্য প্রসাধনী পারফিউমের ওপর ২০০% শুল্ক ধার্য করুন। অতিরিক্ত লিপস্টিক ও প্রসাধনী শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও পুঁজিবাদী প্রচারণা, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের অজ্ঞতা দুঃখ ও বিপজ্জনক। নারীর সৌন্দর্য্য ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহারে বৃদ্ধির ন্যায় পুঁজিবাদী মাধ্যমে প্রতারণা থেকে সতর্ক করার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করুন। স্মরণ রাখবেন বিভিন্ন ধরনের অনেক ক্যানসার সৃষ্টিকারী কারসিনোজেন সংযুক্ত থাকে লিপস্টিক ও প্রসাধনীতে উজ্জলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।

হাট বাজার, ট্রেন,বাস স্টেশন, পার্ক, লঞ্চঘাটে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়, ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিবার জরিমানা হবে একশত টাকা, অর্জিত জরিমানা অর্ধেক পাবে পুলিশ, বাকি টাকা যাবে সরকারি তহবিলে। পানের পিক ফেললেও জরিমানা হবে, পার্কে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে পান সেবন দৃষ্টিকটু, স্বাস্থ্য ক্ষতিকর।

গ) যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও রোড ট্যাক্স বাড়ান

দেশে প্রায় ৪৪ লাখ যানবাহন আছে তন্মধ্যে ৫০,০০০ বাস, ১৫৩০০০ ট্রাক, তিন লাখ অটোরিকশা, প্রায় দেড় লাখ ‘কাভার্ড ও উন্মুক্ত’ ভ্যান এবং পিকআপ, ত্রিশ লাখ মোটরসাইকেল, জিপ ৬৫০০০, মাইক্রো ও মিনিবাস ১৩৫০০০, প্রাইভেট প্যাসেঞ্জার কার ৩৬০,০০০, সামরিক যানবাহন হিসাব প্রকাশ্য জ্ঞাত নয়। সকল সরকারি- বেসরকারি মোটরযান ও মোটর সাইকেলের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ান, বাৎসরিক রোড ট্যাক্স হওয়া উচিত ন্যূনতম ১ লাখ টাকা তবে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ২৫০০০ টাকা পর্যাপ্ত। সরকারি বেসরকারি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের রোড ট্যাক্স বৃদ্ধি বাঞ্ছনীয় নয়। আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর সকল যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং রোড ট্যাক্স হবে বেসামরিক যানবাহনের সমতুল্য। কৃষি যানবাহন, ট্রাক্টর রেজিস্ট্রেশন ও রোড ট্যাক্সের আওতায় আসবে। সকল সরকারি, বেসরকারি কোম্পানির প্রত্যেক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফি প্রতি পাঁচ বৎসরে এক লাখ টাকার অনধিক হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে না, সমহারে বাৎসরিক রোড ট্যাক্সও বাড়বে। পরিবার দ্বিতীয় গাড়ি ব্যবহার করলে দ্বিতীয় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ফি ও রোড ট্যাক্স হবে, প্রথম গাড়ির দ্বিগুণ। পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সপ্তাহের একদিন সকল প্রাইভেট গাড়ির চলাচল বন্ধ রাখার চেষ্টা করা উচিত। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। ছাত্ররা অর্ধেক ভাড়ায় ও মাসিক পাশে এবং বয়োবৃদ্ধরা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন বিনা ভাড়ায় দুপুর ১টা থেকে বিকাল তিনটা। নগর পিতারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, প্রত্যেক ট্রান্সপোর্ট মালিক তার গাড়ি কার হলে যুক্ত করবেন, তার দায়িত্ব শেষ। সমান পরিমাণ লাভ পাবেন, তাদের বিনিয়োগ আয়করমুক্ত। নারী ড্রাইভার হবে নারী নির্যাতন রোধের প্রধান প্রতিষেধক। অহেতুক প্রতিযোগিতা না থাকায় নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলবে সকাল ৬টা থেকে সারা রাত্রি, তবে রাতের ফিক্রোয়েন্সি প্রতি ঘণ্টায় একবার, কিন্তু দিনের বেলায় প্রতি পনের মিনিট পর পর। এককালীন রেজিস্ট্রেশন ও প্রতিবছরের রোড ট্যাক্স বাবদ সরকারের আয় বাড়বে প্রায় ৩০,০০০ হাজার কোটি টাকা। প্রাচুর্যে বসবাসের জন্য তো একটা ন্যূনতম মূল্য দিতে হবে। আটিকুলেটেড লরি, ট্রাক, বাস ড্রাইভারদের ক্রমাগত উচ্চতর ট্রেনিং ব্যবহার, নারীদের প্রফেশনাল ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ব্যয় রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাবে। ট্রান্সপোর্টে যৌন নিপীড়ন হ্রাস পাবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় বৎসরে এক হাজার কোটির অনধিক কিন্তু প্রশিক্ষণ আয় বৎসরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হওয়া সম্ভব। নারীদের বিদেশের ড্রাইভিং কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। বিশেষত মুসলিম দেশসমূহে অতিরিক্ত আকর্ষণ। স্মরণযোগ্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১৯৮২ সনে প্রথম নারী ড্রাইভিং শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল। সালেহা বাংলাদেশের প্রথম প্রফেশনাল নারী ড্রাইভার তার মেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট স্ত্রী, নিজে ইউনিসেফ ড্রাইভার, আমার চেয়ে বেশি আয় করেন। অপর নারী ড্রাইভার রেখা আখতার বিশ্বব্যাংক প্রধান ক্রিশিয়ান ওয়ালিসের ড্রাইভার ও সহকর্মী, ইংরেজি শিখেছিলেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসে, অপূর্ব প্রতিভা দরিদ্র কন্যার কেবল প্রয়োজন উন্নতির দ্বার খুলে দেবার।

ঘ) কোর্ট ফি বৃদ্ধি কোর্টে নৈরাজ্য কমাবে

কোর্টে নৈরাজ্য চলছে, লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। ন্যূনতম কোর্ট ফি উচিত হবে ৫০০০ টাকা, তিনবারের অতিরিক্ত প্রতিবার সময় প্রার্থনার জন্য বাধ্যতামূলক ফি হবে ৫০০০ টাকা শাস্তিমূলক কোর্ট ফি জমা দেবার পর নতুন তারিখ পাবেন। এক বৎসরের মধ্যে সমস্যার নিষ্পত্তি না হলে প্রতিবার ১০,০০০ টাকা কোর্ট ফি জমা দিতে হবে। সরকার পাবেন ৫০% এবং প্রতিপক্ষ পাবেন ৫০%। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মামলা কমবে।

ফৌজদারি মানহানি মামলার ন্যূনতম কোর্ট ফি হবে ২০,০০০ টাকা। সিভিল মানহানি মামলার কোর্ট ফি হবে দাবি অনুসারে। আবেদনকারী যত বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন তত বেশি কোর্ট ফি জমা দিতে হবে তবে ৫০,০০০ টাকার কম দাবি চলবে না, অগ্রীম কোর্ট ফি জমা না দিলে পুলিশ হয়রানি করবে না। হারলে সব টাকা হারাবেন। ঠুনকো মানে অভিমানের অবকাশ নেই। অযথা হয়রানি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কেবল মাত্র মানহানি মামলার কোর্ট ফি জমা দেবার পর থানা মামলা লিপিবদ্ধ করবে, তৎপূর্বে নয়। ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। ডিজিটাল আইন মামলা হারলে মামলাকারী অভিযুক্তকে ন্যূনতম এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও ক্ষমা চাইতে বাধ্য থাকবেন। দায়িত্ব নিতে পারেন কোর্ট ক্ষতিপূরণের ৫০% পাবে অতিরিক্ত ব্যক্তি পাবেন ৫০%।

হাইকোর্টের বিভিন্ন ছুটি হ্রাস মামলার জট কমানোতে সহায়ক হবে। সুপ্রিম কোর্টে (৫) পাঁচটি স্থায়ী বেঞ্চ সৃষ্টি সময়ের দাবি-(১) ক্রিমিনাল, (২) সিভিল (৩) শ্রমিক অধিকার ও কোম্পানি বিষয়ক, (৪) সংবিধান ও মৌলিক অধিকার এবং (৫) নারী নির্যাতন নিবারণ, নারী অধিকার পারিবারিক সমস্যা নিরসন, ন্যূনতম ২-৩ জন স্থায়ী বিচারপতি একত্রে বেঞ্চ পরিচালনা করবেন। প্রধান বিচারপতি সরকারি হস্তক্ষেপে স্থায়ী বেঞ্চের বিচারপতি বদলাতে পারবে না। খয়ের খা প্রধান বিচারপতি আইনের প্রতি জনগনের অনাস্থার প্রকাশ বাড়ায়। বিভিন্ন (জবারবি) মামলায় প্রত্যেক বেঞ্চের প্রধানরা অংশ নেবেন কমপক্ষে বছরে ১২ বার। সুপ্রিম কোর্টে ন্যূনতম ২৭ জন সিনিয়র বিচারপতির নিয়োগ হবে যুক্তি সংগত পদক্ষেপ। হাইকোর্টের জন্য ২০২০-২১ বাজেটে ন্যূনতম ১০০০ কোটি বরাদ্দ প্রয়োজন। ২২২ কোটি নয়, যা অত্যন্ত অপ্রতুল।

চ) কয়েকটি শুল্ক বৈষম্য ও ছাপার ভূত স্বাস্থ্যের জন্য অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর সকল প্রকার মিনারেল ওয়াটার, বিয়ার, ভরমুথ, স্কচ, স্পিরিট, ইথাইল এলকোহল, এক্সটাক্ট, এসেন্স, চিনি, লবণ, চুরুট, রিকনসটিউটেড তামাক, টেস্টিং সল্টস, (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট), রোস্টেড কফি, নন এলকোহলিক এনার্জি ড্রিংকসের শুল্ক বাড়িয়ে ২৫% থেকে ১০০% এ উন্নীত করা হবে যৌক্তিক কাজ। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি হবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য উন্নতি হবে স্থুলতা (Obesit) কমবে, উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র সম্ভাবনাও কমবে।

ওষুধের কাঁচামাল আমদানির উপর কয়েক ধরনের শুল্কহার আছে। এন্টিবায়োটিকের জন্য দুটো- দর সকল পেনিসিলিন,স্ট্রেপটোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ও ক্লোরাম ফেনিকল ০%, এজিত্রিমাইসিন ও ইরিত্রোমাইসিনে ১৫% অযৌক্তিক। সকল এন্টিবায়োটিকের একটি শুল্ক দর থাকা বাঞ্ছনীয় যাতে কাস্টমস হাউজে দুর্নীতির দরাদরি না হয়। সকল ঘুমের ওষুধ, ভিটামিনস, ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ এন্টিম্যালেরিয়া, এন্টি যক্ষ্মা, এন্টিকুষ্ট, হৃদরোগ নিবারক, এন্টিহেপাটিক কেপালোপেথিক, কিডনি ডায়ালাইসিস সলিউশন, পরিবার পরিকল্পনার ওষুধ ও দ্রব্যাদি, এন্টিসেরা ও ব্লাড ফ্রাকসন, হেপাটাইটিস সি এর ওষুধ, থ্যালাসামিয়ার ওষুধ, মানুষ ও প্রাণীর ভ্যাকসিন, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু নির্ণয় কিট প্রভৃতি আমদানি শুল্ক ০%, তবে কুইনাইন, কেফিন, ইফিড্রিন, কেটামিন, বিভিন্ন আবেদনকারী এনাসথেটিকস, মাদকাসক্তি (Narcotics),আরগোমেট্রিন প্রভৃতির আমদানি শুল্ক রয়েছে ৫% যা ২৫% হওয়া উচিত। সকল ঘুমের ওষুধের শুল্ক ০% এর পরিবর্তে ২৫% হওয়া বাঞ্ছনীয় স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে। ডায়াগনস্টিক রিএজেন্টস, ব্লাড গ্রুপ রিএজেন্টস এন্টিসেরা, জীবাণু মুক্ত স্টেরাইলগজ, সুচার, এডহেসিভ ড্রেসিং এর একই দর হওয়া উচিত। ৫% বা ১০% ভিন্ন ভিন্ন দর ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও দুর্নীতি সৃষ্টি করে। ডেন্টাল ক্লিনিকের বেলায়ও আমার মতে, দুটো দরই যথেষ্ট ০% ও ১০%। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংকসের জন্য শুল্ক ১০০% বাঞ্ছনীয়। অন্য কয়েকটি অসংগতি ইসিজি, আলট্রাসনিক যন্ত্রপাতির ট্যাক্স ১% কিন্তু রোগী মনিটরের শুল্ক ৫%। খালি প্রিফিল্ড ইনজেকশন শুল্ক, ইউভি ক্যানোলা, ফিডিং টিউব, ফিস্টুলানিউল, ড্রেনেজ ব্যাগ, স্ক্যালপ (Scalp) ভেইন, সাকসন ক্যাথেটারে ১০% শুল্ক কিন্তু ইনসুলিন কার্টিজ শুল্ক ০%। উভয় ক্ষেত্রে ০% বা ৫% দরে শুল্ক স্থির করা যৌক্তিক কাজ হবে, হিয়ারিং এইডস ও পেচমেকারস (Pace Makers), মেডিসিন ছাড়া বা হার্টভালব মেডিসিন যুক্ত করোনারি স্টটের শুল্ক ০%। কিন্তু স্টাল্ট চার্জ এখনো এত বেশি কেন ২৫,০০০ টাকা থেকে ১৫০,০০০ টাকা দুর্নীতির খাঁচার মুখের প্রহরীকে বা কাহার? সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতির শুল্ক করে ১% সীমিত করলে আপত্তির কারণ থাকবে না। ইনফ্লুশনে ২৫% ইসিজি পেপারে ১০% ভুল সিদ্ধান্ত একই হার যুক্তি সংগত। দেশে কাঁচামাল উৎপাদিত হলে আমদানি পুরো বন্ধ, রপ্তানির নামেও নয়, রপ্তানির জন্য ন্যূনতম আমদানি শুল্ক ২৫% হওয়া বাঞ্ছনীয়। সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতির ট্যাক্স ১% সীমিত থাকবে।

রেফারেল ও গ্রাজুয়েটের স্টাডিসের বই ০% শুল্ক, অন্যদের ৫% এ সীমিত করুন বিদেশি ক্যালেন্ডার ও আকর্ষণীয় অভিনন্দন কার্ডের শুল্ক ২৫% এর পরিবর্তে ১০০% ধার্য করুন। বিলাসিতার একটা মূল্য তো দিতে হবে।

এয়ারক্র্যাফটস, এরোপ্লেন ০% শুল্ক কিন্তু বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি, ট্যাঙ্ক, আরমারড ডেহিকলস, এয়ার কমব্যাট সিমুলেটরস ৫% শুল্ক, বেলুন গ্লাইডারস ১০%, সেইলবোট, ইয়াটে ২৫% শুল্ক যথেষ্ট নয়, ১০০% হওয়া বাঞ্ছনীয়। মোটরসাইকেলে ২৫% শুল্ক যুক্তি সংগত।

আমদানি শুল্কের কারণে ওষুধের মূল্য বাড়ে না, বাড়ে ওষুধ কোম্পানির অতিরিক্ত লোভ লালসা ও প্রতারণার অভ্যাসের দরুন এবং সরকারের সঙ্গে অনৈতিক বন্ধুত্বের কারণে। ১৯৮২ সনে জাতীয় ওষুধ নীতির মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না করলে ওষুধের খুচরা মূল্য কমবে না। ক্রমাগত দাম বাড়াবে ওষুধ প্রস্তুত কোম্পানিরা, সঙ্গে ভেজাল (Counterfeit) ও নিম্নমানের (Substandard) ওষুধের সরবরাহ করেন ব্যাপকহারে যার ভারে ভিড়ে সঠিক গুণের (Standard) ওষুধ চাপা পড়ে যায়।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার ১১৬ ও ১১৯ পৃষ্ঠায় ২০২০-২১ বরাদ্দে কিছু ভিন্নতা ছাপা হয়েছে। ছাপার ভূত ভর করেছে।

উপসংহার: শেখ মুজিবুরের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং করোনার সঙ্গে যুদ্ধ ব্যয়

সর্বমোট: ১৯২,৯০০ (এক লাখ বিরানব্বই হাজার) কোটি টাকা

২০২০-২১ বাজেটের এক তৃতীয়াংশ দাবি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অন্যায় আবদার নয়। ন্যায্য অধিকার আদায়ের অংশ।

বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই শেখ মুজিবুরের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং তা হবে তার জন্মশত বার্ষিকীতে শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ। জয় হোক জনতার।

তথ্যসূত্র : ১) বাজেট বক্তৃতা ২০২০-২১ অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা আহম

মুস্তফা কামাল, মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার ১১ই জুন

২০২০/ ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭.

২) First Schedule : Bangladesh Customs Tariff ২০২০-২১.

৩) Bangladesh Road Transport Authority, ২০১৯-২০২০

৪) কনিষ্ঠতম গভর্নর অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং গোপালগঞ্জে নিযুক্ত গভর্নর মোফাজ্জল করিম এর সঙ্গে আলাপচারিতা।

লেখক: জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী: ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best