ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ১৫:৪৮

প্রিন্ট

বিন্দু সমাচার

বিন্দু সমাচার
রাজীব কুমার দাশ

বিন্দু-বিন্দু সিন্ধু ভাবনায় বিত্ত। নিম্ন-মধ্য-উচ্চবিত্ত! বিত্ত-বৈভবের অমানবীয় ইন্দ্রজালে উচ্চবিত্ত যখন নিজ অবস্থানে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-বেধ-উচ্চতা হারিয়ে ফেলে, তখন সমাজের অবস্থা হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে দয়ায় আশ্রিত মাছ ধরা নৌকার মতো।

নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের যাপিত জীবনে অমানবীয় টানাপোড়েন হাহাকার হতে-শুধুই বাঁচার জন্যে জন্মে- ‘অধিকার’ সমস্বর চিৎকার! গড়ে ওঠে শ্রেণি সংগ্রামের তাগিদ। বিলাসী জীবনে থিতু উচ্চবিত্তের লাগাতার তুচ্ছতাচ্ছিল্য সামন্ত প্রভু হিংসুটে আচরণে জন্ম দেয়-ভয়ানক হিংসা ও ক্ষোভ! ‘গুড ফর নার্থিং’ ভাবনায়- এ হতচ্ছাড়া শ্রেণি হতে উঠে আসে, নজরুল-সুকান্ত-ক্ষুদিরাম-প্রীতিলতা-মাওলানা আবুল কালাম আজাদ-চে গুয়েভারার অগুনতি অনুসারী। শুধু বুর্জোয়া-অজগর এ উচ্চবিত্ত শ্রেণির দুর্নমিত ভাবনাকে সাম্যে ফেরাতে লড়াইয়ে কালের স্রোত ধারায় হারিয়ে গেছে অসংখ্য সম্প্রদায়-ঝড়ে গেছে লক্ষ-কোটি প্রাণ।

তবুও সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপোষ করেননি তারা! নির্মমতার শেষ ধাপে ও বুক চিতিয়ে গেয়েছে সাম্যের জয়গান। সাম্যের জয়গান নিয়ে সব বিত্তের মানবীয় তাগিদে জাতির জনকের হাত ধরে পথচলা শুরু হলে ও উচ্চবিত্ত বিলাসী হিংসা ষড়যন্ত্রে একলাফে বিত্ত-ইন্দ্রজাল নিয়ে বেড়ে চলা এ পঙ্গপালের দলকে কেউ থামাতে পারেনি। যারাই একটু ‘বিত্ত চেক এন্ড ব্যালেন্স’ করার স্পর্ধা দেখিয়েছে কিংবা চেষ্টা করেছে! তাদের সবাইকে দিগম্বর হতে হয়েছে। এ হলো-ভয়ংকর রূঢ় বাস্তবতা!

ভয়ংকর বিত্ত মানসিকতা এখন সবখানে। পরিবার-সমাজে যতোই জ্ঞানী-গুণি-বিজ্ঞানী হউক না কেনো? ‘বিত্ত থার্মাল’ পারদ যে- কতো ভয়ানক মধ্য-নিম্নবিত্ত মানসিক জ্বালা! একমাত্র ভুক্তভোগিই ভালো জানেন। অফিসের কর্তা ব্যক্তিটি এক সময় বিন্দু নিয়ে গবেষণা করলে ও বিন্দু-বিসর্গ ভুলে ইনি এখন উৎকৃষ্ট বিত্ত প্রজাতির একজন। নিকৃষ্ট বিত্ত প্রজাতিকে সহ্য করতে না পেরে জার্মান শেফার্ড ‘টমি’ মাদি কুকুর নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। বাসায় টমির সাথে সময় কাটান, বাকি সময় পৃথুলা বউয়ের ধমক খেয়ে অসভ্য ‘মধ্য-নিম্ন’ কেনো এতো ‘খাই-খাই’ পেটের গবেষণা করেন। সৎ পরিশ্রম প্রজাতির ঘামের গন্ধ সহ্য করা দূরে থাক; খাতা-কলম অজগরের গোল প্যাঁচে গিনিপিগ করে আগামি-বর্তমান-ভবিষ্যত কে খেয়ে ফেলেন।

খাতা-কলমে অজগরের নেই কোনো জবাবদিহিতা! সিন্ধু চিন্তাতে যা গিলেন সব হাড্ডিসহ তরল করে দেন। ফুল বাগান, পশু-পাখি-এলাচ লেবু, বাহারি খামারবাড়ির তীব্র প্রতিযোগিতা। নিরিবিলি পরিবেশে ছোট-বড়-মাঝারি লক্ষ অজগরের কালো খসখসে জিহ্বা হিস-হিস করে চলেছে। সে জিহ্বার তীব্র আকর্ষণে ‘বহুরুপী বিষ’ ধীরে-ধীরে প্রবেশ করছে- সমাজে অক্ষম আক্রোশ নিয়ে বেঁচে থাকা নপুংসক ভয়ানক বিত্ত প্রতারিত মানুষকে সুড়সুড়ি দিয়ে।

প্রাবন্ধিক ও কবি পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত