ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৪

প্রিন্ট

পুরুষদের আবার দিবস!

পুরুষদের আবার দিবস!
প্রতীকী ছবি
হৃদয় আলম

পুরুষদের আবার দিবস কীসের? গোটা পৃথিবীটাই তো শাসন করছে পুরুষ। তাদের দিবস দিয়ে কী হবে? এমন মন্তব্য অনেক নারীর। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে পুরুষ দিবস বিষয়ে অনেক পুরুষই জানেন না। নারী দিবসের কথা অনেকেই শুনেছেন। নারীদের অধিকার নিয়ে নানা আলোচনাও হয়। তবে পুরুষ দিবসে পুরুষদের অধিকার না বীরত্ব নিয়ে আলোচনা হয় সেটাও অনেকের অজানা।

এইতো মাসখানেই আগেই ফেব্রুয়ারি গোড়াতে পুরুষ নির্যাতন বন্ধের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বড় বড় ব্যানার উঁচিয়ে মানববন্ধন করেছিল একদল পুরুষ। অভিযোগ, তাদের অনেকেই রোজকার দিনে নানানভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয় নারীদের থেকে।

পাষণ্ড-দুবৃত্ত স্বামীর হাতে স্ত্রীরা যেমন প্রহার, নিগ্রহের শিকার হন তেমনি স্ত্রীর হাতে পতি নিপীড়ণের দৃষ্টান্ত কম না। নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার স্বামীকূল অফিসে, আড্ডায়, মাহফিলে কিন্তু অনেকক্ষেত্রে নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা রকম অনুযোগ জানান। তাদের হাত থেকে পালানোর উছিলা খুঁজতে থাকেন।

নারী নির্যাতনের প্রাবল্যে পুরুষ নির্যাতন প্রসঙ্গ স্থান পায় কি না তা অবশ্যই বিতর্কের। নারীদের নিয়ে অনেক এনজিও রমরমা ‘ব্যবসা’ করছে। নারীবাদীরা এ কথায় তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠবেন আর শাপ-শাপান্ত করতে থাকবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রথম প্রণীত হয় ১৯৯৫ সালে। ২০০০ সালে এর সংশোধন হয়। তৃতীয়বারের মত ২০০৩ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী আদালতগুলো এখনকার বিচারকাজ চালাচ্ছে। এ আইন প্রণয়নের পর থেকেই যৌতুকের কারণে মারধরের মিথ্যা মামলায় আদালত উপচে পড়ছে। অপরদিকে দাবি উঠেছে ‘পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন প্রণয়ন’ করার। কারণ বিজ্ঞানের সূত্র বলে, প্রত্যেক কাজের পেছনে কারণ রয়েছে।

প্রতিটি পুরুষ তার জীবনে অনেকগুলো ধাপ পার করে আসে। যার প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ গুরুত্ব, পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে পুরুষ দিবসটি উদযাপন করা হয়।

নারী দিবসের মতোই পুরুষ দিবসটি প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয়। ষাটের দশক থেকেই এ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের সূচনা হয়। টমাস অস্টার নামে এক ব্যক্তি দিবসটি পালন শুরু করেন। তবে পরিকল্পনা হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।

নব্বই দশকের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে অনুষ্ঠানগুলো যেমন বেশি প্রচার পায়নি তেমনি অংশগ্রহণও কম ছিল। পরবর্তীতে ১৯ নভেম্বর গোটা বিশ্বেই পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কথিত আছে, ১৯২৩ সালে, অগণিত পুরুষ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালনের দাবি তুলেছিলেন। সেই সময়, পুরুষরা ২৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস একটি নিবন্ধে লেখেন, সোভিয়েত-রাশিয়ায় লিঙ্গবৈষম্য মারাত্মক। সেখানে নারী দিবস পালিত হলেও পুরুষ দিবসের কোনো অস্তিত্ব নেই। এরপরেই হ্যারিস পুরুষ দিবস পালনের দাবি জানান।

অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে প্রথম আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস উদযাপিত হয়। ড. জেরোম তিলক সিং পুরুষদের অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই তার বাবার জন্মদিনে প্রথম বিশ্ব পুরুষ দিবস উদযাপিত হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত