থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৮:০৯

রংপুর কোতোয়ালি থানায় আটকে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম।
মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আজাদ রহমান। এ ঘটনার পর ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার-ক্লোজড করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঈদের আগে নগরের সিও বাজার এলাকা থেকে তরুণ-তরুণী নিখোঁজ হলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় নেওয়া হয়। দুই পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের সঙ্গে রাকিবুল ইসলামও ছিলেন।
রাকিবুল ইসলামের ভাষ্য, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করতে দেখে তিনি আপত্তি জানান। এ সময় তিনি দলের এক নেতাকে বিষয়টি জানাতে মোবাইল ফোন বের করলে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।
তার দাবি, এতে তিনি মাথা ও চোখে আঘাত পান এবং রক্তাক্ত হন। পরে পুলিশ সদস্যরা তার শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন।
ঘটনার খবর ছড়ালে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে রাকিবুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এখানে এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারল। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি, যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী।
“তারপরও তারা আমাকে বন্দুক দিয়ে মারছে। আমার মোবাইল ফোন দুইটা কেড়ে নিয়েছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীর মত রয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
ঘটনার সময় থানায় উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পুলিশ রাকিবকে মারধর করেছে। আমাকেও আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। ওই ছেলে-মেয়েটিকে মারধর করতে দেখে বাধা দেওয়াই আমাদের অপরাধ হয়ে গেছে।”
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়ে ওসি আজাদ রহমান বলেন, “উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”
রাকিবুলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি ও মারামারি হচ্ছিল। তিনি হয়তো অন্য কারও হাতে আহত হয়েছেন। তিনি মনে করতে পারেন, আমার ইন্ধনে এটা হয়েছে। অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাতেই আরএমপির মিডিয়া সেল জানায়, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওসি আজাদ রহমান ও কনস্টেবল বাসুদেবকেও প্রত্যাহার করা হয়। সব মিলিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।
তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা। প্রয়োজনে থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










