ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩৮

প্রিন্ট

অনুপ্রবেশকারীদের ধাক্কায় পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা পেছনে পড়েন

অনুপ্রবেশকারীদের ধাক্কায় পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা পেছনে পড়েন
শেখ তৌফিকুর রহমান

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তৃণমূল থেকে উঠে আসা দলের এ পোড় খাওয়া নেতা অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে। বরিশাল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে হাতিখড়ি হওয়া নানক পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তিনি সফলতার সাথে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার পর আওয়ামী যুবলীগের নেতৃত্বে আসেন। এ সংগঠনেরও তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সফল ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মূল দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর আসন থেকে সংসদস সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও নানক এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ট জাহাঙ্গীর কবির নানক দেশের বিভিন্ন সংকটকালীন বিশেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। সদালাপী, মিষ্টভাষী, বিনয়ী নানক সকল পর্যায়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আজ দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির সদস্য।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় রাজনীতির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সাথে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ জার্নালের নিজস্ব প্রতিবেদক শেখ তৌফিকুর রহমান। স্বাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশ জার্নাল: একটা সময় ছিলো রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক চর্চা করতেন, পড়াশুনা করতেন। বর্তমান সময়ে আমরা নেতাকর্মীদের মধ্যে অতীতের সেই চর্চাটা দেখাছি না। কারণ কী?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আমি মনে করি রাজনৈতিক চর্চাটা ফিরিয়ে আনতে হবে। ছেলেরা অনেকেই পত্রিকা পর্যন্ত পড়ে না। নিউজ দেখতে চায় না। বইপত্র তো পরের কথা। ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় আমি বলেছি নেত্রী যে বক্তব্য দিচ্ছেন সেটি আত্মস্থ করতে হবে। সেটাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: দেশে ৫ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ মনোনয়নপত্র বিতরণও শেষ করেছে। সেখানে দেখা গেছে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। শুধুমাত্র ঢাকা ১৮ থেকে ৫৬ জন এবং ঢাকা ৫ থেকে ২১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচনে এত নেতাকর্মীদের আগ্রহের কারণ কী?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা একটি জিনিস বুঝতে পেরেছি, মনোনয়ন কেনার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত থাকা উচিত। শর্ত না থাকলে এ ধরনের বেপরোয়া আবেদনপত্র জমা পড়ে। যেটা আসলে দলের জন্য খুব সুখকর হয় না। আমরা বিষয়টি বিচেনায় রাখছি এবং আলোচনায় রাখছি। এত সংখ্যক আবেদনকে নিরুৎসাহিত করছি। সেটি কিভাবে করা যায় সেটির পথ আমরা বের করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রবণতাটা এত বেশি কেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার যে যোগ্যতা, আমার মনে হয় যারা আবেদন করেন তারা অনেকেই হয়তো এটি সম্পর্কে জানেন না। একটি দলের কাছে মনোনয়ন আবেদন করতে হলে ত্যাগ, তিতীক্ষা থাকতে হয়। যদিও আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। এ দলে বহু যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব থাকলেও তার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনভিত্তি প্রয়োজন, মানুষের মাঝে অবস্থান থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবেদন করা উচিত। মনোনয়নপত্র বিতরণের ব্যাপারে আমি মনে করি কিছু শর্ত দেয়া উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল: আগামীতে মনোনয়ন আবেদনে কোনো শর্ত যুক্ত হচ্ছে কিনা?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আমরা এ বিষয়গুলো আলোচনা করবো যেন বেপরোয়াভাবে, লাগামহীন যেন মনোনয়ন বিতরণ করা না হয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকা উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল: শোনা যাচ্ছে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি করা হবে। বিষয়টির সত্যতা কতটুকু?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: কমিটি দেয়া বিষয়ে এখানা কোনো সুনির্দষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। আমরা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করলাম। জীবন ও জীবিকা যেহেতু স্বাভাবিকতায় চলে আসছে, সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আমরা আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে যেসব ইউনিটে সম্মেলন হয়েছে তারা সেখানকার কমিটি জমা দিয়ে দেবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: কমিটি করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে বাড়তি কোন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: কমিটি করার ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। আওয়ামী লীগের একজন সংগঠনিক সম্পাদক একটি বিভাগের দায়িত্বে আছেন, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুটি বিভাগের দায়িত্বে আছেন, একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য দুটি বিভাগের বিশেষ দায়িত্বে আছেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অবশ্যই কমিটি করার সময়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন এবং সতর্ক থাকবেন যেন কমিটিতে ত্যাগী, পোড় খাওয়া নেতারা যেন পতদবঞ্চিত না হয়। তারা পদবঞ্চিত হলে যিনি ওই জেলা বা বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সবার একই সুর। আমরা যে বার্তাগুলো দিই সেটা আমরা আশা করি সবাই অনুসরণ করবে। এই বার্তাগুলো কিন্তু আমাদের বার্তা নয়, এটা নেত্রীর বার্তা। আমরা মাঠে-ঘাটে বিভিন্ন কমিটির নিকট এগুলো পৌছে দিচ্ছি। আমরা চাইবো কোনো ত্যাগী নেতাকর্মীর প্রতি যেন অবহেলা করা না হয়। এখন যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের অর্থনৈতিক শক্তি, মানসিক শক্তি একটু বেশি থাকে। তাদের সঙ্গে আমাদের পোড় খাওয়া নেতারা পেরে ওঠে না। তারা ধাক্কায় পেছনে পড়ে যায়। এই কারণে আমরা সতর্ক রয়েছি। আমাদের নেত্রীও এ ব্যাপারে খুবই হার্ড লাইনে আছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত বছর থেকে আমরা লক্ষ্য করছি আওয়ামী লীগ নিজের ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। তাতে দলের মধ্যে যারা অপরাধের সাথে জড়িত ছিলো তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইদানিং আবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক অভিযুক্তরা আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদ পদবী পেতে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক: তারা তো পদ পদবী পেতে চেষ্টা করবে, আশ্রয় খোজার চেষ্টা করবে। এটা তারা করতেই পারে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হবে না। কারণ এ ব্যাপারে নেত্রী খুবই কঠোর। নতুন যে সব নেতৃত্ব এসেছেন, আমরা আশা করি তাদের হাতে এই কাজগুলো হবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল: ইদানিং পেশাজীবীদের বিভিন্ন কমিটিতে নাম লেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা অতীতে রাজপথে কখনোই সক্রিয় ছিলো না। এই বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: এদেরকে নিয়ে রাজনীতিতে পথ চলা যায় না। আমাদের কিন্তু রাজনৈতিক ত্যাগী নেতাকর্মীর কোন অভাব নেই। সুতরাং কেন তাদেরকে প্রশ্রয় দেবো। রাজনীতিটা একটা লং রেস। এখানে আদর্শিক ব্যাপার রয়েছে। আদর্শটা মাথায় রাখতে হবে। আদর্শিক লোকদেরকে জায়গা করে দিতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: আওয়ামী লীগে বহু নির্যাতিত নেতাকর্মী রয়েছে। তারা বর্তামানে ভালো অবস্থানে নেই। তাদের একটা চাপা কষ্ট থাকে। বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: এই ধরনের অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। তবে আওয়ামী লীগের বহু অত্যাচারিত নেতাকর্মী রয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাসটাই অত্যাচারিত, নির্যাতিত হওয়ার ইতিহাস। কাজেই বিভিন্ন সময়ে যারা অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, মর্যাদা দিতে হবে। নতুবা তারা তো বুক চাপড়াবে। তারা আর্তনাদ করবে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত