ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫১

প্রিন্ট

স্কাইপিতে চটুল আলাপেই মগ্ন বিএনপি নেতারা

স্কাইপিতে চটুল আলাপেই মগ্ন বিএনপি নেতারা
প্রতীকী ছবি
কিরণ শেখ

দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার মুক্তি আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনের কথা বলে আসছে বিএনপি। তবে মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হলেও কারাগার থেকে ছাড়ানোর জন্য রাজপথে কোনো আন্দোলনই গড়ে উঠেনি। শুধু সভা, সেমিনার এবং মানববন্ধনে আন্দোলনের হাঁকডাক দিয়েই চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি।

দলীয় সূত্রমতে, দলীয় চেয়ারপার্সনের সাজা হওয়ার পর থেকেই স্থায়ী কমিটির বৈঠক হচ্ছে স্কাইপিতে। তবে এসব বৈঠকে সিরিয়াস কোনো আলাপ আলোচনাই করা হচ্ছে না। কোন নেতা কেমন আছেন, কার শরীর কেমন- এমন বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে স্থায়ী কমিটির বৈঠক।

দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, স্কাইপিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় কিছু আলোচনা হয়। এর বাইরে আর কোনো কথা হয় না। কারণ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে নেতারা খোলামেলা কথা বলার সাহস রাখেন না। তারা দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার মেজাজ ঠাণ্ডা রেখেই কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেন।

দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিরূপ মন্তব্য করছেন অনেকেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা ভুল ছিল। একথা আমি আগেও বলেছি। তাই আর বলতে চাই না। এখন বিএনপিকে মাঠে নামতে হবে। তবে তারা আসল কাজ না করে শুধু স্কাইপিতে কথা বলেন। মূলত তারা স্কাইপিতে প্রেম আলাপে মগ্ন রয়েছেন।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এজন্য রাজপথে আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে এসেছে তারা। তবে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ভোট শেষে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাও দেয়। এরপরও উপনির্বাচনসহ সব ভোটে সরকারের অধীনে যাচ্ছে বিএনপি।

এরপরও দলটি অবিরামভাবেই দাবি করে আসছে, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আর এটা বারবার প্রমাণ করার জন্য নির্বাচনে অংশও নিচ্ছে। এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, এসব নির্বাচন থেকে আবার নতুন করে প্রমাণিত হলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নাই। ওইরকম সরকার ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। আর এজন্য আগামীতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই।

গেল ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে করোনা মহামারীর মধ্যে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে গুলশানে নিজের ভাড়াবাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরে ২৭ আগস্ট খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরে গত ৩ সেপ্টেম্বর সরকার তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আরো ৬ মাস বৃদ্ধি করে। আগের শর্তেই বেগম জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ তিনি বাসা ও দেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন।

তবে বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার সাজা সাময়িক স্থগিত হলেও তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। মির্জা ফখরুলও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত নন। বলা হচ্ছে, সাজা স্থগিত করা হয়েছে। সাজা স্থগিত হলে তো তার ওপর তো কোনো বিধি-নিষেধ থাকার কথা না। ডিফারেন্সটা হচ্ছে, শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকে তাকে তার বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এবিষয়ে একমত পোষণ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়াকে যে শর্তে মুক্তি দেয়া হয়েছে সেটাকে মুক্তি বলা যাবে না। এরপরও বেগম জিয়াকে সাহস নিয়ে বের হয়ে আসতে হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা কিংবা দুপুর ১২টা থেকে দুই ঘণ্টা বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বেগম জিয়াকে বসে থাকতে হবে। এই সময়ে তিনি শুধু নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

নেতারা দফায় দফায় দলীয় প্রধানের মুক্তির কথা বললেও রাজপথে নেমে আন্দোলন জমাতে পারছেন না। এ বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও কোনো সমন্বয় নেই। সভা, সমাবেশে যে যার মতো কথা বলছেন। সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করে ক্ষমতা ছাড়ার হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন। কোনো কোনো নেতা হুংকার দিয়ে বলছেন এবার রাজপথে রক্ত ঝরাতে হবে।

তবে রাজপথের আন্দোলনের কোনো রূপরেখা কিংবা পরিকল্পনা নেই। এসব ব্যাপারে সিরিয়াসভাবে কথা বলারও কোনো আগ্রহ নেই। স্কাইপিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে কিছু আলাপ আলোচনা হলেও হাইকমান্ড ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিরিয়াস কোনো আলাপ করছেন না শীর্ষ নেতারা।

আন্দোলনের জন্য মাঠে না নেমে স্কাইপিতে চটুল আলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি এসব আলাপ আলোচনাকে প্রেমালাপ আখ্যা দিয়েছেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন মন্তব্য বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এটা উনার বক্তব্য। এ বিষয়ে আমি কী বলবো? উনার মুখ কি বন্ধ রাখা যাবে?

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত