ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার দাবি পাটুয়ারির
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৬:২১

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (২৬ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করে বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্তে যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক।” তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ভারত তাদের হত্যা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত অঞ্চলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং উন্নত বেতন-ভাতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান নাসীরুদ্দীন। পাশাপাশি এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “সীমান্তে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না।” তিনি সীমান্তবাসীকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকার প্রতিটি নাগরিককে একজন বিজিবি সদস্যের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পুশ-ইন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে বিজিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে সারজিস বলেন, ‘‘দলটি যদি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলতে পারে, তাহলে শুধু এনসিপি নয়, দেশের ছাত্র-জনতাও তাদের পাশে থাকবে।’’
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিব আলী। বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










