ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৮

প্রিন্ট

৩০ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ যুবদল

৩০ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ যুবদল
কিরণ সেখ

প্রায় ৩০ মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে পারেনি বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। এজন্য সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। তবে এ জন্য তৃণমূলের নেতারা যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে দোষারোপ করছেন।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর ওই সময় থেকেই এই ৫ সদস্যই দিয়েই যুবদলের সকল রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে। যুবদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

যুবদলের ৫ সদস্যের কমিটিতে আছেন- সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের এক নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১ মাস তো দূরের কথা ২ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সাইফুল আলম নীরব এবং সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। কারণ তারা চান না যুবদল গতিশীল এবং শক্তিশালী হোক। মূলত তারা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল আলম নীরব বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শিগগিরই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারবো।

২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশক্রমে আগামী ৩ বছরের জন্য যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করা হলো। এই কমিটি আগামী ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশ অনুযায়ী ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যর্থ হয়েছে যুবদলের নেতারা। বরং ৩০ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি সংগঠনটির নেতারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নীরব বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার কারণে আমাদের কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া আমাদের সাধারণ সম্পাদকও জেলে ছিলেন। তিনি এখন বের হয়েছেন। তাই আশা করছি, শিগগিরই আমরা কমিটি গঠন করতে পারবো।

এদিকে একই দিন ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। নগর যুবদল উত্তরের সভাপতির এম এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ শরিফউদ্দিন জুয়েল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল। এছাড়া মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতির রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি শরিফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টু, আর টি মামুন, আনন্দ শাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান শাহীন।

এই ২ কমিটিকেও আগামী ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করার কথা বলা হয়। কিন্তু তারাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে।

জানতে চাইলে সাইফুল আলম নীরব বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ইতিমধ্যে আমরা করেছি। আশা করছি, শিগগিরই কমিটি দুটি ঘোষণা করতে পারবো।

তবে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও সারাদেশে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৮০টি জেলায় কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানান সাইফুল আলম নীরব।

কেএস/ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close