ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:২৪

প্রিন্ট

‘আমি প্রজাতন্ত্রের জনপ্রতিনিধি, প্রভু বা জমিদার নই’

‘আমি প্রজাতন্ত্রের জনপ্রতিনিধি, প্রভু বা জমিদার নই’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন
জার্নাল ডেস্ক

সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের সম্মান জানানোসহ নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা ফেসবুকে তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট এবং আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক হিসেবে সেখানকার নেতাকর্মীদের এসব বিষয় এড়িয়ে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেয়া তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো....

আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য কতিপয় সবিনয় অনুরোধ:

১ম বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার নির্বাচনী এলাকায় আমাকে ক্রেস্ট, বাঁধাই করা মানপত্র, যেকোনো ধরনের উপঢৌকন প্রদান করা বন্ধ করেছি।

আমার জন্য রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা বন্ধ করেছি। কিন্তু এরপরও কতিপয় অতি চামচা প্রকৃতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও স্থানীয় নেতা বাচ্চাদের রোদে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দেন। শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘স্যার এই মাত্র দাঁড়িয়েছে, ওরা আপনাকে খুব ভালোবাসে এই জন্য আমাদের নিষেধ সত্ত্বেও দাঁড়িয়েছে।’

সমাজের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের মুখে এই জাতীয় ঢাহা মিথ্যা কথা শুনতে ভালো লাগে না। অনেক সময় চামচামির মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে মেজাজ সংযত করা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক বা স্থানীয় নেতাকে বকাঝকা করাও দুষ্কর। সবার মাঝে আমার ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সার্বিক বিবেচনায় এবং প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা জনগণের টাকার অপচয় রোধকল্পে আমি নিম্নোক্ত অনুরোধ করছি:

এক. অনূগ্রহপূর্বক আমাকে কোন ক্রেস্ট, ক্রয়কৃত ফুলের তোড়া, কোনো মানপত্র বা উপঢৌকন প্রদান করবেন না। মানপত্রে অতিথিকে উদ্দেশ্য করে যেসব তোষামোদ বাক্য লিখা থাকে তার ৯৫ ভাগ মিথ্যা। কোনো প্রতিষ্ঠানের দাবি থাকলে কেবলমাত্র দাবিসমূহ হাতে লেখা কাগজে আমাকে হস্তান্তর করবেন। সেখানে হে মহান অতিথি, তোমার আগমনে ফুল, লতাপাতা, গুল্ম আজ আনন্দে আত্মহারা টাইপের মিথ্যা শব্দ চয়ন থাকলে আমি তা গ্রহণ করব না।

দুই. অনূগ্রহপূর্বক কোনো প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পাবলিক মানি ব্যয় করে আমাকে স্বাগত জানিয়ে কোনো গেট নির্মাণ করবেন না। কেবলমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন নিজেদের মধ্যে অর্থব্যবস্থা করে বা কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজের পকেটের টাকা দিয়ে গেট করতে পারেন। তাও সীমিত আকারে। এই জন্য জনগণের নিকট কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।

তিন. কোথাও কোনো শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখলে আমি সেই অনুষ্ঠান বয়কট করবো এবং সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

চার. অনূগ্রহপূর্বক কোনো অনুষ্ঠানে আমার জন্য কোনো বোতলজাত পানি, চা আপ্যায়নের নামে বাচ্চাদের বা জনগণের টাকায় রকমারি খাবারের আয়োজন করবেন না।

পাঁচ. কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অযথা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্টেজ বানাবেন না। অনূগ্রহপূর্বক কৃচ্ছতা সাধন করবেন।

ছয়. অনূগ্রহপূর্বক কোনো শিক্ষার্থীদের দিয়ে দাবি উপস্থাপনের নামে তাকে ভিক্ষাবৃত্তি শেখাবেন না। কোনো সমস্যা থাকলে বয়স্কগণ দয়া করে বলবেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিক্ষাবৃত্তি শেখানো একটি সামাজিক অপরাধ।

সাত. অনূগ্রহপূর্বক আমার কোনো অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কাউকে উপস্থিত থাকতে বলবেন না।

উপরোক্ত বিষয়গুলি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রযোজ্য, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক বিভাগের জন্যও প্রযোজ্য। আমাকে কোথাও আমন্ত্রণ জানালে আমি উপস্থিত থাকতে সম্মত হলে সেই আয়োজকগণের জন্যও প্রযোজ্য।

আমি, প্রজাতন্ত্রের জনপ্রতিনিধি, জনগণের দয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে শপথ গ্রহণ করেছি। রাষ্ট্র আমাকে আইনানুগভাবে বেতন, ভাতা, সম্মানী ও সুবিধাদি প্রদান করে। আমি প্রভু বা জমিদার নই।’

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ফেসবুক থেকে নেয়া...

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close