ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৬

প্রিন্ট

করোনারভাইরাস: আতঙ্ক নয় দরকার সচেতনতা

করোনারভাইরাস: আতঙ্ক নয় দরকার সচেতনতা
প্রতীকী ছবি

Evaly

স্বাস্থ্য ডেস্ক

দেশে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এখন রীতিমত ‘করোনা জ্বর’ চলছে। সরকারকে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনারভাইরাসের কারণে কী করা উচিত তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সতর্কতা হিসেবে জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কীনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মুজিববর্ষ উদযাপনের বড় অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক। যদিও ১৭ মার্চের মূল অনুষ্ঠানই এখন আর হচ্ছে না। আসছেন না বিদেশি অতিথিরা।

করোনাভাইরাসের নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ‘মুজিববর্ষ পালনের ডামাডোলে সরকার জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করেছে, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।’ তিনি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছেন।

তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেছেন, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়নি যে স্কুল কলেজ বন্ধ রাখতে হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপির দায়িত্ববোধ নেই, হীনমন্যতায় ভুগছে, দেউলিয়া হয়ে গেছে।’

মাস্ক কতটা কার্যকর

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে এমন মাস্ক কার্যকর বলে প্রমাণিত না হলেও এগুলো ব্যবহার করে অন্তত কিছু ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন বলে মনে করেন নগরবাসী। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও মাস্ক সংকট দেখা দিয়েছে। যা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে।

ফুটপাতে মাস্ক

মাস্কের সংকটের খবর যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি ফুটপাতেও মাস্ক বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

যতটুকু সতর্ক থাকা যায়

সিএনজিতে নানা ধরনের মানুষ উঠেন। কার কী রোগ আছে তাতো জানেন না। নিজেকে রক্ষা করতে যতটুকু সতর্ক থাকা যায়। তাই মাস্ক ব্যবহার করেন অনেক সিএনজি চালক।

গণপরিবহনে মাস্ক

যাতায়াতের জন্য ঢাকার অধিকাংশ মানুষের একমাত্র উপায় গণপরিবহন। গণপরিবহনগুলোতে থাকে মারাত্মক ভিড়। করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষায় তাই মাস্কের আশ্রয় নেয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

করোনা সংক্রমণের খবর প্রকাশের পর অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা বলছেন। যদিও বাংলাদেশ সরকার আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ঝুঁকিতে বয়স্করা

করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে মূলত বয়স্ক এবং শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা, ডায়বেটিস বা হৃদরোগ আছে এমন ব্যক্তিদের করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার বেশি।

শিশুরা কতটা ঝুঁকিতে

শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা না থাকলে শিশুরা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ভিড় এড়িয়ে চলছেন মানুষ

করনোভাইরাস শনাক্তের পরদিন মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ঘণ্টাদুয়েক আগেও টিকিট কাউন্টার প্রায় দর্শক শূন্য ছিল। যেখানে লম্বা লাইন খুব স্বাভাবিক চিত্র।

প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখছে হাইকোর্ট

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নেয়া উদ্যোগের প্রশংসা করলেও প্রতিরোধ প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট।

বিদেশ থেকে ফিরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে

বিদেশ ফেরতরা কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করবেন তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। আইইডিসিআর তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, কেউ যদি চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, ইতালি, ইরান এসব দেশে ভ্রমণ করে থাকেন এবং ফিরে আসার ১৪ দিনের মধ্যে যদি জ্বর-কাশি-গলা-ব্যথা-শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে অতি দ্রুত আইইডিসিআর-এর হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন এবং কুয়েত-মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তবে সবাইকে কি ১৪ দিন বাসায় থাকতে হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আইইডিসিআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘আমরা স্পষ্টই বলেছি দেশের বাইরে থেকে যারা এখন ফিরছেন, তারা ১৪ দিন বাসায় (সেলফ কোয়ারেন্টাইনে) থাকবেন। অত্যাবশ্যকীয় না হলে তারা বাসার বাইরে যাবেন না। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’

রোগী ছাড়া মাস্কের প্রয়োজন নেই

করোনা আক্রান্ত রোগী এবং এর চিকিৎসায় যারা নিয়েজিত তারা ছাড়া আর কারো মাস্ক পরা দরকার নেই বলে জানিয়েছেন ডা. আলমগীর। তিনি আরো জানান, ভালো করে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলেই হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার জরুরি নয়।

কোয়ারেন্টাইন বড় কোনো বিষয় নয়

‘কোয়ারেন্টাইন’ এবং ‘আইসোলেশন’ নিয়েও সাধারণের মধ্যে আছে বিভ্রান্তি। চিকিৎসকদের মতে কোয়ারন্টাইন হলো সুস্থ মানুষের জন্য।যারা বিদেশ থেকে আসেন বা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যান তাদের আলাদা থাকা। যা বাসাতেই হতে পারে। অন্যদিকে আইসোলেশন হলো আক্রান্ত মানুষের জন্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত