ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৩৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২০, ১৮:৪৬

প্রিন্ট

গোটা গ্রামে কেবল একটি পরিবার

গোটা গ্রামে কেবল একটি পরিবার
অনলাইন ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল জাভার বেডোনো গ্রামে এক সময় ছিল দুশোর মতো পরিবার। কিন্তু সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকায় এই গ্রামটি এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। সেখানে এখন থাকে একটি মাত্র পরিবার। সেটি হলো পাসিজার পরিবার। বাকিরা সবাই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

অতীতের কথা বলতে গিয়ে ওই পরিবারের কর্ত্রী পাসিজা বলেন, ‘আগে এই জমিটা ছিল পুরো কৃষিজমি। আমরা এখানে ধান ও ভুট্টা ফলাতাম। তারপর জোয়ার চলে আসলো, উপকূল পেছাতে শুরু করলো। বন্যা পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও খারাপ হলো। তারপর আমাদের পুরো গ্রাম সাগরের পানিতে ডুবে গেল।’

গ্রামটি সাগরের জলে পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আগে এখানকার লোকজন ২০০৫ সালেই সরকারের কাছে তাদের অন্যত্র পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছিল। এর এক বছর পরই লোকজন গ্রাম ছাড়তে শুরু করলো। এখন গ্রামটিতে একটি মাত্র পরিবারই রয়ে গেছে।

ইন্দোনেশিয়া জুড়েই উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের জীবন। লোকজন এমনভাবে এ নিয়ে কথা বলে যেন এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যাপার। মানুষের কাজের পরিণামেই এটা ঘটছে। এটি কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানুষের তৈরি দুর্যোগ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলা, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন এজন্য দায়ী।

ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে গত ২০ বছরের তথ্য সংগ্রহ করে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কিন্তু খুব বেশি বাড়ছে না। প্রতবিছর ৬ মিলিমিটার থেকে ১ সেন্টিমিটার। কিন্তু মাটি দেবে যাচ্ছে ১০ সেন্টিমিটারেরও বেশি। কোথাও কোথাও বছরে ২০ সেন্টিমিটারের বেশি। সুতরাং এ দুটি বিষয় মিলে পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক করে তুলছে। সরকার উপকূল বরাবর বাঁধ তৈরি করছে যাতে সাগরের জোয়ার ঠেকানো যায়।

এদিকে পাসিজা তার ডুবতে থাকা ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টায় গ্রামে ম্যানগ্রোভের চারা লাগিয়েছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এই এলাকায় ম্যানগ্রোভের চারা লাগিয়েছি। এখন এটা ম্যানগ্রোভ বনে পরিণত হয়েছে। আমি যদি এই গাছগুলো না লাগাতাম তাহলে আমাদের গ্রামের সামনে থাকতো খোলা সাগর। সাগরের ঢেউ এখানে এসে ভেঙে পড়তো। আমাকে যদি কেউ জমি দিত আর একটা বাড়ি দিত অন্য কোন জায়গায় আমি সেকানে চলে যেতাম। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আমি এখানেই থাকবো।’

ওই নারী গ্রামটি ছেড়ে না যাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার যে কারণে এখান থেকে যাইনি তা হলো-আমি আমাদের গ্রামটাকে দেখে রাখছি। যদি আমি চলে যাই, তাহলে এই গ্রামটাও হারিয়ে যাবে। তখন তো এখানে খোলা সমুদ্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।’

থই থই জলরাশির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কেবল একটি বাড়ি। এই পাসিজার বাড়ি

বিবিসি ভিডিও অবলম্বনে

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত